মুঠো জীবনের কেরায়া

রফিকুজ্জামান রণি

10

আমরা দুজন বসেছিলাম নায়ের পাটাতনে
নৌকার বাহু খামচে ধরা ঢেউ
স্নিগ্ধ জলের ছাঁট
আরও কাছাকাছি
আরও আরও পাশাপাশি
মুগ্ধতায় পৌঁছে দিলো

কখানা বাদামের শরীর ফাটিয়ে
আমার মুখের ওপর ঢেলে দিয়ে
একটুখানি হাসলে; বললে-‘এই প্রথম
এতটা আনন্দ পেলাম জীবনে’
আমি স্তম্ভিত! কী দারুণ স্বীকারোক্তি!
আহা! কতটা কোমল, কতটা নিরীহ!

তোমার সামনের পাটির দাঁত দুটো
বাড়াবাড়ি রকমের বাঁকা।
দাঁতের এ বাড়াবাড়ি সবসময়ই
আমার ভালো লাগে। অথচ তুমি-
ইতস্তত সংকুচিত হও অযথা

হঠাৎ ঢেউয়ে আঘাতে দুলে ওঠে জারুলের নাও
আমাদের দূরত্ব আরও ঘুচে গেলো
তোমার হাত আমার হাতে গেঁথে রইলো
তোমার মাথা ঢলে পড়লে আমার উদ্দাম বুকে
হাসলাম, আঙুলে চিরুণী কাটলাম চুলে
বললাম-‘আরও হবে সোনা।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মুহূর্ত তো তোমাকেই দেবো উপহার।’

তোমার শরীরের গন্ধে হঠাৎ লাফিয়ে ওঠে ঝড়
বেড়ালের মতো শান্ত নদী
একলহমায় হিংস্র জিহ্বা বাড়িয়ে ফুলে ওঠলো
আমাকে আরও বেশি চেপে ধরলে তুমি
সামিয়ানার কাপড় শরীরে ছড়িয়ে দিলাম
তারপর মাঝনদীতে শুনতে থাকি ঝড়ের আর্তনাদ

নৌকা চলেছে, ইঞ্জিনের নাও-
কত শত শহর, কত কত গ্রাম পাড়ি দিলো এ নৌকা
আমাদের পথ ফুরালো না, কিন্তু…
চলতে চলতে একদিন-
দুজনেই হারিয়ে গেলাম পৃথিবীর দুই প্রান্তে
তুমি এখন উদ্দাম ঝড়, সর্পিল নারী-
আমি এক শান্ত নদী, মৃত ফাল্গুনের পয়ার!