সমুদ্র পথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে আটক

মিয়ানমারে কারাভোগ শেষে ফিরলেন ১৭ বাংলাদেশি

পূর্বদেশ ডেস্ক

5

বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগের পর মিয়ানমার থেকে দেশে ফিরেছেন ১৭ বাংলাদেশি। গতকাল বুধবার মিয়ানমারে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে তাদের হস্তান্তর করে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রতিনিধি দল। সমুদ্র পথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের আটক করা হয়েছিল। দেশের ফিরিয়ে আনার পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করে বিজিবি।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- চটগ্রাম জেলার বশিরা এলাকার লেদু মিয়ার ছেলে বদিউল আলম, নেটা ফকির পাড়া এলাকার ওয়াসিউর রহমানের ছেলে মো. হেলাল, বাঁশখালী সরল বাজার এলাকার আয়ুব আলী ছেলে জামাল উদ্দিন, খাগড়াছড়ি জেলার বড়দোলা কোনজুরি পাড়া এলাকার অং জো মারমার ছেলে সে থু অং মারমা, মং প্রæ মারমার ছেলে ইউ সা খ মারমা, টেকনাফ উপজেলার উত্তর শিলখালী এলাকার আব্দুস শুক্কুরের ছেলে রহিম উল্লাহ, নুরুল কবিরের ছেলে মুফিজুর রহমান, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার মো. সবিাবর আহমেদের ছেলে মো. শাকের, আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে আজিজুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ কলাতলি এলাকার মো সামির ছেলে মো. শফিক, আজগর আলীর ছেলে মো. জালাল উদ্দিন, সাবরাং ইউনিয়নের হাড়িয়াখালী এলাকার আব্দুল আমিনের ছেলে মিজানুর রহমান, আব্দুর রশিদের ছেলে আজিজুল্লাহ, আব্দুল মাজিদের ছেলে আব্দুস সালাম, লাফারঘোনা এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে নুরুল আলম, টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের শাহ পরীর দ্বীপ এলাকার মৃত আব্দুল কাদের ছেলে মো. জালাল এবং মৃত সেতাব্বর আলীর ছেলে আবু তাহের। খবর বাংলা ট্রিবিউনের
বিজিবির তথ্য মতে, মোংডুতে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুদ-জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমার মোংডুর অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা হটেন লিনেন এর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ১৭ বাংলাদেশিকে সঙ্গে নিয়ে সদর বিওপি চৌকি সংলগ্ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার টেকনাফ নতুন ট্রানজিট ঘাট জেটি ঘাটে পৌঁছায় বিজিবির দলটি। পরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করেন বিজিবি সদস্যরা।
ফেরত আসা নুরুল আলম বলেন, ‘চলতি বছর জুন মাসে টেকনাফের শামলাপুর এলাকা দিয়ে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য সমুদ্র পাড়ি দেই। কিন্তু মাঝপথে ট্রলার নষ্ট হয়ে যায়। সাগরে তিন দিন ভাসার পর মিয়ানমার সীমানায় পৌঁছালে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের আটক করে। ওই ট্রলারে প্রায় শতাধিক মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি ছিলেন। ছয় মাস সাজা ভোগ করে বাংলাদেশ সরকারের চেষ্টায় স্বদেশে ফেরত আসতে পেরে সরকারকে ধন্যবাদ।’
২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুদ-জামান চৌধুরী বলেন, ‘সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে এই বাংলাদেশি ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছিল। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত আনা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
আছাদুদ-জামান চৌধুরী আরও বলেন, ‘প্রায় আট মাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত আনা হয়েছে। মিয়ানমারের কারাগারে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছে বলে ফেরত আসাদের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি।’
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে কারাভোগ করে ফেরত আশা ১৭ বাংলাদেশিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হন্তান্তর করা হবে।’