মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের চিন্তা নিরাপত্তা পরিষদের

পূর্বদেশ ডেস্ক

24

রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ক সংকট নিরসনে মিয়ানমারকে জাতিসংঘের সঙ্গে মিলে কাজ করতে চাপ দিতে দেশটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে নিরাপত্তা পরিষদ। যুক্তরাজ্য এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত করলেও চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা খসড়াটি নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত থাকছেন না বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গত সোমবার বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা জানিয়েছেন।
খসড়া ওই প্রস্তাবে মিয়ানমারকে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ও জবাবদিহিতার কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কূটনীতিকরা। খবর বিডিনিউজের
গত বছরের আগস্টে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি স্থাপনায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযান শুরু হয়। এতে বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয়। আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা অভিযানের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ শোনান। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। অপরদিকে শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার।
কূটনীতিকরা জানান, সংকট নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে না পারলে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবতে পারবে, প্রস্তাবের খসড়ায় এমন সতর্ক বার্তাও থাকতে পারে।
পাশাপাশি জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদকে নিয়মিতভাবে অবহিত করার বিষয়টিও খসড়ায় রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। আদৌ এ খসড়া প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে উঠবে কি না, উঠলেও কবে ভোটে আসবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব অনুমোদিত হতে হলে অন্ততঃ ৯ সদস্যের সমর্থন লাগে। তবে রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কিংবা ফ্রান্সের মধ্যে যে কেউ ভিটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলে ওই প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এই মুহুর্তে এ ধরনের প্রস্তাবের যৌক্তিকতা দেখছেন না রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। ‘আমার মনে হয় এটি (প্রস্তাব) অনুপযুক্ত, অসময়ে ও অহেতুক আনা হচ্ছে’, গত সোমবার রয়টার্সকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এমনটিই বলেছেন জাতিসংঘে রাশিয়ার এ স্থায়ী প্রতিনিধি।
জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত মা ঝাওঝু এ প্রসঙ্গে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাউ দো সুয়ানের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাজ্যের ওই খসড়াটি গত মাসের শেষদিকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের দেওয়া হয় এবং এ নিয়ে বেশ কয়েকদফা আলোচনাও হয়েছে বলে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন। প্রথম দফার আলোচনায় চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা থাকলেও পরের আলোচনাগুলোতে তারা আর উপস্থিত হননি বলেও নিশ্চিত করেছেন কূটনীতিকরা। খসড়ায় নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকারকে চলতি বছরের জুনে জাতিসংঘের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে চাপ দেওয়ার প্রসঙ্গও থাকতে পারে। তবে এতে গণহত্যা ও নির্যাতনের দায়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তোলার প্রসঙ্গটি থাকছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
চলতি বছরের এপ্রিলে নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল রাখাইন পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ঘুরে যায়। অক্টোবরে রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর দায় নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত দলের একটি প্রতিবেদন নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের চেষ্টা রাশিয়ার সহায়তায় আটকে দিয়েছিল চীন। জাতিসংঘের ওই তদন্ত দলের প্রতিবেদনটি প্রথম থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে মিয়ানমার।