মিষ্টির ওজনে প্রতারণা বন্ধে মাঠে নামছে বিএসটিআই

এম এ হোসাইন

148

প্রতিকেজি মিষ্টিতে ধরিয়ে দেয়া হয় প্যাকেট। এই প্যাকেট আবার মিষ্টির সাথে ওজন করা হয়। এতে প্রতিকেজিতেই ওজনে কম দেয়া হয় দেড় থেকে দুইশ গ্রাম করে। তবে ওজন ও পরিমাপক মানদÐ আইনে নেট ওজনে পণ্য বিক্রির কথা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। এতোদিন ওজন নিয়ে এমন প্রতারণা চললেও এবার আইন প্রয়োগে মাঠে নামছে মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। ওজন কারচুপি বা ভোক্তার সাথে প্রতারণার প্রমাণ পেলে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থায় যাবে সংস্থাটি।
মিষ্টি কেনার সময় সাধারণত প্যাকেটসহ কেনা হয়। ওজন করার সময় দোকানি প্যাকেটের ওজনকেও হিসেবে আনেন। এতে ভোক্তা প্রতিকেজিতে দেড় থেকে দুইশ গ্রাম ক্ষেত্র বিশেষ এর বেশিও কম পণ্য পান। বিএসটিআই মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে। নিয়মিত আইন প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনা করে যাচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে প্যাকেট ছাড়া পণ্য ওজন করছে বলে দাবি করেছে বিএসটিআই। যদিও বাস্তবিক পক্ষে কোথাও প্যাকেটের ওজন বাদ দিয়ে মিষ্টির দাম নিতে দেখা যায়নি।
বিএসটিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, মিষ্টির দোকানে প্যাকেটের ওজনসহ হিসেব করা হতো। আইনে বলা হয়েছে নেট ওজন দিতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে বসেছি। বারে বারে তাদের তাগাদা দেয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে শতাধিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান প্যাকেটের ওজন বাদ দিয়ে মিষ্টি বিক্রি করা হয় এমন সাইনবোর্ডও লাগিয়েছে।
তিনি বলেন, এখন ডিজিটাল মেশিনে মাপা হয়। প্যাকেটের ওজন বাদ দিয়ে নেট মিষ্টির ওজনের উপর বিল নেয়া যাবে। কেউ নেট ওজনে বিক্রি করতে না চাইলে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওজনে কম দেয়ার প্রবণতা অনেক কাল আগ থেকেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ওজনে কম দেয়ার জন্য একেক ধরনের কারচুপির আশ্রয় নেয়া হয়। এতে দোকানিদের ওজনে হেরফের ধরা মুশকিল হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ওজনে কারচুপি করলেও করার কিছু থাকে না। এমনই একটি পণ্য হলো মিষ্টি। প্যাকেটের ওজনসহ মেপে নিয়মিত দোকানিরা ওজনে কম দিয়ে আসছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠলেও সেটার কোনো সমাধান ছিলো না। অবশেষে এ কারচুপি রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে স্ট্যান্ডার্ডস ওজন ও পরিমাপ আইন-২০১৮-এর বিল পাস হয়েছে।
এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, মিষ্টি প্যাকেট ছাড়া নেয়া যায় না। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দোকানিরা প্যাকেটও মিষ্টির সাথে ওজন করে আসছিলেন। এই প্রতারণায় ভোক্তাকে বাধ্য করা হচ্ছিল। আইনে নেট ওজন পরিমাপ করার কথা বলা হয়েছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এই কারচুপি রোধ
করতে হবে।
ওজন পরিমাপ ও মানদন্ড আইনে অনুমোদনহীন বাটখারা (ওজন মাপার যন্ত্র) উৎপাদন, ব্যবহার ও পণ্যের ওজনে অনিয়মের সাজা ও আর্থিক শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে মানদন্ডহীন বাটখারা বা পরিমাপক ব্যবহারের শাস্তি অনূর্ধ্ব একবছরের কারাদন্ডের সঙ্গে অর্থদন্ড বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, কোনও ব্যক্তি যদি ওজন বা পরিমাপ সম্পর্কিত মডেল অনুমোদনের সনদ ছাড়া তা বিক্রি, বিতরণ, সরবরাহের জন্য তৈরি করেন তাহলে দুই বছরের কারাদন্ড বা একলাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। লাইসেন্স ছাড়া ওজন বা পরিমাপক যন্ত্র বিক্রি করলে, উৎপাদন করলে একবছরের কারাদন্ড বা একলাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। অনুমোদন বহির্ভূত বস্তু দ্বারা ওজন বা পরিমাপক তৈরি বা উৎপাদন করলে একলাখ টাকা বা তিন বছরের কারাদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। মানদন্ড ব্যতীত, অন্য কোনও ওজন বা পরিমাপক বা সংখ্যমান ব্যবহার করলে ছয় মাসের কারাদন্ড বা ৫০ হাজার জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।