মিরসরাইয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

হত্যার অভিযোগ

মিরসরাই প্রতিনিধি

9

মিরসরাইয়ে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় হোসনে আরা আক্তার লিপি (২৫) নামে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর থেকে ওই গৃহবধূর স্বামী,শ্বশুর ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন। পালিয়ে যাওয়ার আগেই ঘরের মূল্যবান সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০ টায় উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজমনগরের আব্দুল পন্ডিত প্রকাশ কায়ানীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ হোসনে আরা আক্তার লিপি (২৫) ওই বাড়ির নুর মোহাম্মদের পুত্র কামাল উদ্দিনের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের মেহেদীনগর গ্রামের শেখ আলম সওদাগর বাড়ির বাঁশ ব্যবসায়ী শেখ আলমের কন্যা।
হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ জানান, নিহতের স্বামী আমাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় লিপির লাশ ঘরের তীরের সাথে ঝুলছে। নিহতের ৪ মাস বয়সী ১টি কন্যা সন্তান রয়েছে। ফাঁস দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যতটুকু জেনেছি পারিবারিক কলহের কারণে এই ঘটনা ঘটাতে পারে।
লিপির বাবা শেখ আলম সওদাগর অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকে স্বামীর ঘরে খুশি ছিলনা লিপি। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনে অসহ্য হয়ে বারবার আমাদের কাছে চলে আসতো সে। আবার স্বামী, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বামীর ঘরে ফিরে যেতো। তার গলায় ফাঁসের কোন চিহ্ন নেই। আত্নহত্যার বিষয়টি তাদের সাজানো ও পরিকল্পিত। আমি এই হত্যাকান্ডের জন্য খুনী কামাল ও তার বাবা মায়ের শাস্তি দাবি করছি।
জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবেদ আলী জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে লাশ নামিয়ে সুরতাহাল করি। নিহতের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে পুলিশ আসার খবর পেয়ে নিহতের শ্বশুর বাড়ির লোকজন গা ডাকা দিয়েছে।