মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

অধ্যাপক আয়েশা পারভীন চৌধুরী

66

‘মাকে মনে পড়ে, আমার মাকে মনে পড়ে’- মাকে অনেক মনে পড়ে। খুব খুব বেশি মনে পড়ে, যতদিন যাচ্ছে ততই মায়ের প্রতি টানটা বেড়ে চলেছে। হয়ত নিজের জীবনে একজন মায়ের ভূমিকা কতটুকু পালন করতে পারছি সেই চিন্তাটুকু বার বার মনে করিয়ে দেয়। আমার মা একজন সাধারণ ঘরের মেয়ে। সেই গ্রাম থেকে বাবার হাত ধরে শহরে আসে। চট্টগ্রাম শহরে এসে সংসার শুরু করেন। ছয়জন সন্তানকে একই নিয়মে বড় করে তোলেন। ছয়জনের মধ্যে পাঁচ (০৫) জনই সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী। সবাই প্রতিষ্ঠিত, মায়ের আদর যত্নে ও বাবার আদর্শে আমরা এখন কর্মক্ষেত্রে যেমন সুপ্রতিষ্ঠিত তেমনি পারিবারিক ও সামাজিকভাবেও সকলের কাছে প্রিয় ব্যক্তিত্বে নিজেকে তৈরি করতে পেরেছি। আমাদের এতটুকু এগিয়ে যাওয়ার পিছনে মায়ের শিক্ষার বিকল্প নেই। শৈশবের সুশিক্ষায় নিজেকে এভাবে সাজানোর পিছনে আমার অল্প শিক্ষিত মায়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। নিজে এত লেখাপড়া না জানলে ও এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় নিজের জীবনকে সাজাতে না পারলেও মা আমাদেরকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন। পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের যে কোন পরিস্থিতে নিজেকে দাঁড় করাতে মনোবল জুগিয়েছে। তাই আমরা সমাজ ও রাষ্ট্র চালাতে পারি। শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে কখনও সত্যিকারের মানুষ হওয়া যায় না। সত্যিকারের মানুষ হতে পারিবারিক শিক্ষাটাই আসল। স্নেহময়ী মা ও আদর্শ বাবাই সেই শিক্ষা দিতে পারেন বলে সুনাগরিক তৈরি হচ্ছে। আমাদের মা যদি নিজের আরাম-আয়েশের চিন্তায় থাকত তাহলে আমাদের জীবন অন্য রকম হত। কিন্তু মা সবসময় একজন সত্যিকারের মানুষরূপে সন্তানকে পালন করে। আর এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে দিতে কখন যে নিজেকে অবহেলা ও অনাদরের পাত্রীতে পরিণত হতে হয়। অথচ এই মায়েরা কারো না কারোর রাজকন্যা। এই রাজকন্যারাই এক সময় স্বামী ও সন্তানের জন্য গৃহকর্মীতে পরিণত হয়। হায়রে আমার রাজকন্যা। আমার শাশুড়ি একজন রত্নগর্ভা মা। প্রত্যন্ত গ্রামের সেই দিনগুলোতে প্রতিটি সন্তানকে শিক্ষা দান করা যেমন তেমন ব্যাপার নয়। আমার শাশুড়ির ছয় সন্তানের মাঝে পাঁচ জন পুত্র সন্তান। এই পাঁচজন ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার পিছনে মায়ের পাশাপাশি বাবার অবদানকে সম্মান করতে হবে। একজন বাবাকে কখনো রত্নগর্ভা বাবা বলা হয় না। কারণ একজন বাবা গর্ভে ধারণ করেন না। দশ মাস গর্ভে লালন-পালন করেন না। প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করেন না। প্রায় ২ (দুই) বছর বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান না। সেই সকাল থেকে রাত অবধি সন্তানের লালন-পালনে নিজেকে নিয়োজিক করেন না। কিন্তু একজন বাবা তার প্রতি নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস, প্রতি ক্ষণ, প্রতিটি শ্রম, প্রতিটি ঘাম, প্রতিটি সুখ, আনন্দ-বিলাসিতা ব্যয় করেন এক একজন রত্ন সন্তানের পিছনে। মা-বাবার মিলিত প্রচেষ্টায় এ্েরকক জন রত্ন সন্তানের সৃষ্টি হয়। সেই রত্ন সন্তানরাই কখনো কখনো সু-সন্তানের পরিচয় দিয়ে থাকেন না। বর্তমানে বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে দেখা যায়, সে সব হতভাগী- মায়েরা বৃদ্ধাশ্রমে অবস্থান করছেন, তাদের সন্তানরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে সু-প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কাজে তারা নিয়োজিত হয়ে দেশের উন্নয়ন ধারাকে তরান্তিত করে চলছে। অথচ তার বিশাল ফ্ল্যাট অথবা সুখের বাড়িতে মা-বাবার থাকার জায়গা নেই। আমাদের মাঝে অনেক রত্নগর্ভা মা আছে, যারা বৃদ্ধ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটাচ্ছেন। চোখের পানি মুছে মুছে নিজেকে সান্তনা দেন- তার আদরের সন্তানটি বউ-বাচ্চা নিয়ে সুখে থাকুক। না হয় পাশে থাকলাম না , দূর থেকে তো সন্তানের সুখ দেখতে পারব। মায়েদের কথা বলতে হলে সকল মায়ের কথাই বলতে হয়। সব মা চান তার সন্তান যেন সু’সন্তান হোন। নিজেদের শক্তি ও সামর্থ অনুযায়ী সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতে চান। অনেক সন্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করতে ব্যর্থ হয়।
২০০৫ সাল থেকে মাসিক চাটগাঁ ডাইজেপ্ট প্রতি বছর মা দিবস উপলক্ষে রত্নগর্ভা মাকে স্বীকৃত দিয়ে সম্মান দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে তারা রত্নগর্ভা মা’দের খুঁেজ নেন। আবার একটি নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রত্নগর্ভা মা’দেরকে স্বীকৃতিস্বরূপ সনদ দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ মরণোত্তর সম্মান পেয়ে থাকেন। জীবিত অবস্থায় যারা স্বশরীরে নিজ হাতে রত্নগর্ভার সম্মান পান তারা একটু বেশিই ভাগ্যবতী। ছেলেমেয়ে ও পরিবার পরিজনের সামনে এই সম্মান গ্রহণ তার অবস্থানকে অনেক পাকাপোক্ত করে। আর যারা মরণোত্তর সম্মান পান তাদের সন্তান ও পরিবার-পরিজনের আনন্দটুকু অন্য রকম। যে মায়ের জন্য এমন বিরল সম্মান, সেই মাকে তখন বেশি বেশি মনে পড়ে। আমার শাশুড়ির রত্নগর্ভার সনদটি যখন আমরা হাতে পাই তখন মনে হয়েছিল- এমন শাশুড়ির পুত্রবধূ হওয়ার যোগ্যতা আমার কতটুকু আছে? গ্রামে গেলে পাড়া-প্রতিবেশীদের মুখে আমার শ্বাশুড়ির যে গুণাবলীগুলোর বর্ণনা শুনি তখন সেই মহীয়সী মায়ের সংস্পর্শে আসার আগ্রহ বেড়ে যায়। তাছাড়া আত্নীয়-স্বজনের মুখে আমার শাশুড়ির কথা জানতে পারি। নিকট আত্নীয়রা মাঝে মাঝে আদর করে আমাদেরকে বলেন- তোমাদের শাশুড়ির কাছে তোমরা দাঁড়াতেই পারতে না। অনেক কড়া মেজাজের ছিলেন। ছেলেদেরকে সবসময় লেখাপড়ার জন্য কঠোর শাসনে রাখতেন। আদর দেখাতেন না। আশেপাশের আত্নীয়দের সন্তানদেরকেও একই নিয়মে শাসন করত। আমার বড় জ্যাদেরকেও তিনি বেশ শাসনে রাখতেন। তাই বলে গৃহস্থালীর কাজের জন্য নয়, আমার শাশুড়ির ইচ্ছা ছিল- ছেলের বউয়েরা শিক্ষিত হবে, চাকরি করবে, নাতি-নাতনীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করবে। আর যারা গরীব প্রতিবেশী ছিল তারা বলতেন- আমার জেঠি মার (আমার রত্নগর্ভা শাশুড়ি) দরজা সবসময় খোলা ছিল। খালি হাতে কাউকে ফেরত দিতেন না। বেশি কিছু দিতে না পারলেও বুকে জড়িয়ে ধরে বিদায় দিতেন। রত্নগর্ভা মায়ের কথা বলতে গেলে সকল মায়ের কথা বলতে হয়। সব মায়ের একমাত্র ইচ্ছা থাকে তার সন্তান যেন মাছে-ভাতে থাকে, দুধে-ভাতে থাকে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নাতি-নাতনি নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটাতে পারে। এভাবে একজন মা তার সন্তানের সুখের চিন্তায় নিজের সুখের দিনগুলো কাটায়। সন্তানের এই সুখ চিন্তায় একজন মায়ের জীবনের সুখ-নিদ্রা নষ্ট হয়। কত যে শ্রম, কত যে শখ-আহলাদ, কত যে মূল্যবান সময় ব্যয় করতে হয়! তবুও মায়ের প্রার্থনা থাকে- তার সকল কিছু বিসর্জনের বিনিময়ে যেন সন্তানের সুখ-শান্তি নিশ্চিত করা যায়। মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অব্যক্ত ভালবাসা মাকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে। যে কোন ধর্মে ও যে কোন বর্ণের মানুষের কাছে ‘মা’ শ্রেষ্ঠ। ইসলাম ধর্মের মতানুযায়ী, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত’। আর অন্য সব ধর্মেও মাকে মর্যাদার দিকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন।
আমরা যদি প্রাণিকুলে দিখে সকল জীবজন্তু পশুপাখি তাদের বাচ্চাদের জন্য অতন্দ্র প্রহরী। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ছোট ও বড় প্রতিটি প্রাণী- নিজের বাচ্চার নিরাপত্তা ও খাবারের ব্যবস্থার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য অনেক প্রাণী মাকে প্রাণ পর্যন্ত দিতে হয়। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী হচ্ছে মানুষ। এই বিবেকবান জাতিকে সকল বিষয়ে শিক্ষা-দীক্ষা, আদব-কায়দা, আচার-আচরণ এবং সকল মানবিক গুণাবলীর শিক্ষা দিয়ে থাকেন একজন মা। কারণ মা হচ্ছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। গর্ভাবস্থায় মায়ের আচার-আচরণ যেমন সন্তানের মধ্যে প্রভাব ফেলে তেমনি জন্মের পর প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে মায়ের স্বভাব-চরিত্র ও অন্যান্য ভাল-মন্দ দিকগুলো সন্তানকে প্রভাবিত করে। মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই প্রজন্মের পর প্রজন্মের এই ধারাবাহিকতায় মায়ের ভূমিকা বিশেষভাবে স্বীকৃত। কিন্তু সামাজিক ও রাষ্টীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাবাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে বাবারা এ সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য সব অধিকারগুলো ভোগ করতে থাকে। আমাদের দেশের প্রতি পরিবারে বাবারা সংসারের দেখ ভালের জন্য আর্থিক বিষয়টির সাথে জড়িত। আর আর্থিক সমর্থন না হলে একজন মায়ের পক্ষে তার সন্তানকে একা একা বড় করে তোলা অনেক কষ্টকর। কিন্তু একজন মা সেই সকাল থেকে রাত অবধি অক্লান্ত পরিশ্রম করে সংসারকে সাজিয়ে রাখে। নিজের জন্য তেমন কিছু না করেও আপন আনন্দে সন্তানদের আনন্দ দিয়ে যান। তবু মায়ের ভূমিকাকে কেউ স্বীকৃতি দিতে চায় না। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে মায়েদের অর্থনৈতিক ভূমিকার কোন স্বীকৃতি নাই। তাছাড়া নানা জুলুম-নির্যাতন, ও সীমাহীন যন্ত্রণা সহেও মায়ের মুখে অমলিন হাসি লেগে থাকে। এদের মধ্যে যারা নিরন্তন পরিশ্রম, সাধনা ও ত্যাগ স্বীকার করে সন্তানকে সুশিক্ষিত করে, ন্যায়-পরায়ণ, যোগ্য, প্রতিষ্ঠিত সন্তান রূপে গড়ে তুলতে সক্ষম হউন তারাই রত্নগর্ভা মা হিসেবে অভিষিক্ত হউন। কারণ তাদের সেই সন্তানরা দেশকে সমৃদ্ধ, উন্নত ও মর্যাদাশীল জাতি নির্মাণে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। রত্নগর্ভা মায়েরা সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে উদাহারণ স্বরূপ। বিপ্লবের নায়ক ও কিংবদন্তী রাষ্ট্রনায়ক নেপোলিয়ান বোনার্পাট বলেছিলেন- Give me an educated mother I shall give you an educated nation` শিশুর প্রথম শিক্ষক হচ্ছেন মা। সুসন্তান ও সুনাগরিক প্রতিষ্ঠায় মায়ের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
কিন্তু কিছু কিছু দিবস আছে সেগুলো বিশ^ব্যাপী পালিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দিবসগুলোর মধ্যে ‘‘মা’’ দিবস একটি। এই দিবসটি পৃথিবীর সকল মাকে শ্রদ্ধা জানানোর, ভালোবাসা প্রকাশের এবং স্মরণ রাখার দিবস। ১৯০৮ সালের ১১ মে মার্কিন নারী আন জার্ডিস এর উদ্যোক্তা। মায়ের প্রতি বিশেষভাবে সম্মান ও ভালবাসা নিবেদনের জন্য এই দিবসটির সূচনা করে। এই দিবসের মাধ্যমে মাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে নারীদের প্রতি ইতিবাচক ভূমিকার ব্যাপারটি সর্বাগ্রে বিবেচনায় আনা হয়। কারণ এই মায়েরাই এক একজন নারী। তাই নারীদের অবহেলা ও অবজ্ঞা করে কখনো রত্ন তুল্য সন্তান আশা করা যায় না। নারীদেরকে শিক্ষিত করে তোলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নারী উন্নয়নে বিশে^ খ্যাতি অর্জন করে চলছে। তারই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা কর্মরত আছেন। নারী উন্নয়নে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মধ্যে এম ডি জি পুরস্কার ২০১০, সাউথ সাউথ এ্যাওয়ার্ড ২০১১, ইউনেস্কোর পিস ট্রি এ্যাওয়ার্ড ২০১৪, জাতিসংঘের চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ পুরস্কার ২০১৫, আমাদের নারী উন্নয়নের বিশ্ব স্বীকৃতী স্বরূপ। বাংলাদেশের নিরাপদ মাতৃত্ব কর্মসূচি জাতিসংঘ কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। তাই নারীর উন্নয়নে তথা মায়ের সঠিক পরিচর্যা ছাড়া সু’সন্তান পরিচর্যা সম্ভব নয়। সু-সন্তান ও সুনাগরিক তৈরিতে মায়ের অনবদ্য পরিশ্রমকে সার্থক করার জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদের সমর্থন কাম্য। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন মায়ের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি আজ যা হয়েছি কিংবা হতে পারি, তার জন্য পুরোপুরি ঋণী আমার সোনামণি মায়ের কাছে’। নারীর বেড়ে উঠার মাঝখানে হঠাৎ বাধা আসে বাল্য বিবাহ। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে ও নিম্ন আয়ের পরিবারের মেয়েদেরকে উপযুক্ত বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিবাহ পরবর্তী দুঃখ-দুর্দশা খুব কম বয়সেই একজন নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যহানি ঘটায়। সে যেমন পরিবারের হাল ধরতে সক্ষম হয় না, তেমনি যত্নসহকারে সন্তান লালন-পালন করতেও ব্যর্থ হয়। আবার স্কুলের লেখাপড়ার মাঝখানে হঠাৎ ঝড়ে পড়াও নারীর বিকাশের পথে বাধা হয়ে যায়। আর্থিক অভাব-অনটনে অনেক অভিভাবক সে সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে মেয়ে সন্তানদের অর্থ-উপার্জনের লক্ষে গৃহস্থালীল কাজে অথবা বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় চাকুরী করতে পাঠায়। এতে ৭ম শ্রেণি ও ৮ম শ্রেণির বেশির ভাগ মেয়ে সন্তানরা লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে না, আর যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে তাদেরকেও নানাবিধ বাধার সম্মুখিন হতে হয়।এই মেয়েদের মাঝখান থেকেই কেউ কেউ রত্নগর্ভা মায়ের সম্মান পান। এই রত্নগর্ভা মায়েদের অতীত স্মৃতি দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনার। আমাদের রত্নগর্ভা মায়েদের সার্থকতা তাদের অতীত স্মৃতিকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। কেউ কেউ রতœগর্ভা মায়ের সম্মান পান আবার সঠিক বিচার-বিবেচনার অভাবে কেউ কেউ আবার এই সম্মান অর্জনে ব্যর্থ হউন। আবার কেউ কেউ শত কষ্ট করেও যোগ্য সন্তান গড়ে তুলতে পারে না। তবে মায়ের ভূমিকায় সকল মায়ের অবদান অতুলনীয়। মায়ের ঋণ শোধ করবে এমন ধারণা যারা করে তাদেরকে বলছি, মায়ের ঋণ শোধের নয়। আপনার আজীবন ভালবাসাই মায়ের সারাজীবনের শান্তি।

লেখক : কলামিস্ট ও অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ
ডাঃ ফজলুল-হাজেরা ডিগ্রী কলেজ, চট্টগ্রাম।