মালেশিয়ায় পাড়িব চেষ্টায় রোহিঙ্গারাই

37

আবারো আলোচনায় রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। এবার তারা সগর পথে উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমায় মালেশিয়ার উদ্দেশে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অদূরে ১৩৮ জন যাত্রী নিয়ে রোঙ্গিা বহনকারি ট্রলারটি ডুবে যায়। যাত্রীদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা শরণার্থী। কোস্ট গার্ডের দুটি দল আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে জীবিত উদ্ধঅর করে ৭২ জনকে। তাদের মধ্যে দালালের লোকজনও রয়েছে। নিহতের মধ্যে নারীর সংখ্যা ১২ ও শিশু ৩ জন। পাচারকারিরা হলেন ট্রলার মাঝি ফয়েজ আহমদ, সৈয়ধ আলম, আজিম ও ওসমান। এদের আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মালেশিয়া পাড়ি জমানোর সংবাদ পাওয়া মাত্র কোস্ট গার্ড এদের পাকড়াও করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এরই মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী বোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়। মৃতদের সকলই রোহিঙ্গা। বিপদগ্রস্তরা ৯৯৯ ফোন দিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করে। যা তাৎক্ষণিক কোস্ট গার্ডের নজরে আনা হয়। উদ্ধারকৃতদের অকূলস্থল থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছে তা বার বারই প্রমানিত হচ্ছে। তারা পাহাড়-সবুজ শ্যামলিমা, পরিবেশই ধ্বংস করছে না। নানা অপরাধ চক্রে জড়িয়ে এলাকার সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে চলেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেন। মানবতার দৃষ্টান্ত এখন আমাদের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। শরণার্থী পালা ও তাদের সামাল দেয়া এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কক্সবাজারে এক জনসভায় রোহিঙ্গারা যে স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য বিশাল বোঝা হয়ে দেখা দিয়েছে তার কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন তার বক্তব্যে। এতে করে বোঝা যায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকার রীতিমত উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে শীঘ্রই এর সমাধান করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। সু চি জুন্তা আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কেও গায়ে মাখছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না। তারা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে নানা তালবাহানা করে কালক্ষেপন করেই চলছে। অপরদিকে অভিযোগ রয়েছে কতিপয় এনজিও রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন না করতে উৎসাহিত করছে। অতি গোপনে তাদের সংগঠিত করছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১১ লক্ষ শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান একটি বিরল ঘটনা। মানবতা প্রদর্শন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাদান্যতা। একে ভিন্ন পথে পরিচালিত করা কোন পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে না। আশ্রিত রোঙ্গিারা অবৈধভাবে মালেশিয়া পাড়ি দিলে সুনাম নষ্ট হবে বাংলাদেশেরই।