মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে

মছিউদ্দৌলা জাহাঙ্গীর

19

মনটা বড় খারাপ। কদিন আগে গেল মেয়ের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী, সময় কত তাড়াতাড়ি চলে যায়, এভাবেই একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে। কোন ভুল নাই; যেতে সবাইকে হবেই, কেউ থাকতে পারবে না, এটি আমরা সবাই জানি। কুল্লু নাফসিন যায়েকাতুল মউতÑ প্রাণী মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে; পবিত্র কোরানের আয়াত। সবাই আমরা তা জানি তারপরও কিছু কিছু মৃত্যু আছে, যা আমরা সহজে মেনে নিতে পারি না। দুর্ঘটনায় মৃত্যু, অকাল মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, হত্যা-খুন, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দৈব-দুর্বিপাক, ইত্যাদি কারণ জনিত অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুগুলো আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। তাই এমন মৃত্যুগুলো প্রতিরোধে আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকি, সবসময় চেষ্টা চালিয়ে যাই এসব করুণ মৃত্যুগুলো যাতে না ঘটে। তাই তো সেদিন সারা বিশ্ব আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে থাই কিশোর ফুটবল দলের সদস্যদের সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে বের করে এনেছিল। নিশ্চয় সেদিনের সেই ঘটনা সকলের মনে আছে তথাপি স্মৃতিটা একটু ঝালাই করতে ঘটনাটির এখানে আরেকবার অবতারণা করছি।
কিছুদিন আগে থাইল্যান্ডের কিশোর ফুটবল দলের সদস্যরা সেখানকার পাহাড়ের থাম লুয়াং নামের এক বিশাল গুহায় আটকে গিয়েছিল। ১১ থেকে ১৬ বছরের বার জন কিশোর এবং ২৫ বছর বয়সী তাদের একজন কোচসহ মোট তের জন। সারা বিশ্ব এই সংবাদে স্তম্ভিত, বিশ্বের প্রত্যেকটি মানুষ যারা সংবাদটি শুনেছে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছে প্রত্যেকে ঐ কিশোরদের জন্যে উদ্বিগ্ন ছিল। ঘটনা ঘটেছে ২৩ জুন, আর দশটি খুন, গুম, হারিয়ে যাওয়ার সাধারণ খবরের মত এটিও তখন কারো নজরে পড়েছিল আবার কারো পড়েনি। এভাবেই সবাই এড়িয়ে গিয়েছিল। প্রতিদিনই তো ঘটছে এমন কত ঘটনা, নয় দিন পর যখন বিশ্ব জানতে পারল ঐ গুহার ভিতর তের জনকে পাওয়া গেছে, তারা সবাই জীবিত আছে! তাদের পরিবারের কথা কি বলবো, পুরা পৃথিবীতে তোলপাড় শুরু হলো যেন সবার মধ্যে তাদের জন্যে আলাদা এক দরদ উথলে উঠল। আর এটিই স্বাভাবিক, কারণ গুহার যে চিত্রটি সবাই দেখল, তাতো সাক্ষাৎ একটি মৃত্যুকূপ! স্থানে স্থানে গুহার ভিতর চড়াই উতরাই যুক্ত ‘ ূূূূ ’ এমন সংকীর্ণ দুর্গম পথও ছিল যেখানে ডুবুরিদের অক্সিজেন ট্যাংক পর্যন্ত খুলে ফেলতে হয়েছে, প্রশস্ত দুই ফুটেরও কম! হেঁটে যাওয়া যেখানে রীতিমত দুঃসাধ্য ডুব সাঁতার দিয়ে সে পথ অতিক্রম করা পাতালপুরী রাজকন্যার গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয় গুহার দৃশ্য দেখলে তার চাইতেও দুর্গম বলে মনে হয়। গোটা একটি শুকনো জায়গা মুহূর্তের মধ্যে ডুবে গেল, ভেবে দেখুন কি বৃষ্টি হয়েছিল সেখানে!
এখানে একটি কথা বলা দরকার যা সবার জানা উচিত, অজানা জায়গায় হুট করে কখনো কোন সিদ্ধান্ত নেবে না, সবকিছু জেনে-শুনে, বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ প্রকৃতি বৈরী হলে অবস্থা যে কি ভয়াবহ হতে পারে তা থাইল্যান্ডের এই একটি ঘটনাই বুঝার জন্যে যথেষ্ট। তাই বলা হয় অপরের ভুল থেকে নিজে শিক্ষা নাও, কারণ সবকিছু নিজের উপর প্রয়োগ করে শিখতে চাইলে তোমার আয়ু কম পড়বে- কথাটি বলেছেন শ্রদ্ধেয় চাণক্য। দরকারি মনে করে কথাটি আমি এখানে উল্লেখ করেছি। থাম লুয়াং গুহাটির দিকে গোটা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল, সবার মধ্যে ছেলেগুলোর খোঁজ পেতে কামনার যে ছোট্ট বীজটি সুপ্ত অবস্থায় লুক্কায়িত ছিল হঠাৎ যেন সেটি তীব্র আকাক্সক্ষার বিশাল মহীরুহে পরিণত হলো। তাদের জীবিত থাকার সংবাদ পেয়ে গোটা বিশ্ব এবার তাদের অক্ষত ফেরত চাইছে, হঠাৎ করে সবার বাসনা লক্ষ-কোটি গুণ বেড়ে গেল, মনে হচ্ছিল বিশ্বের প্রতিটি মানুষ তাদের সুস্থ দেহে ফিরে আসার প্রার্থনা করেছিল। গুহার অভ্যন্তরে তারা চার কিলোমিটার ভিতরে চলে গেছিল, কি দুর্গম পথ, চারদিকে পানি, ভেতরের ঘুটঘুটে অন্ধকার আর অতি সংকীর্ণ চড়াই-উতরাইগুলো দেখে ঐ বাচ্চাদের মা-বাবার কথা কি বলবো, আমার স্ত্রী নিজে কান্না করে দিয়েছেন। আমার তো দম আটকে আসছিল, একই অবস্থা আমার স্ত্রীরও, মনে শুধু আসছে সেখানে তারা নিঃশ্বাস কেমনে নিল, ঘুটঘুটে অন্ধকারে নয় দিন তারা কাটাল কিভাবে? যদি বিষধর কোন সাপ-টাপ থাকতো, হিংস্র কোন প্রাণী বা সারা গুহা যদি পানিতে ডুবে যেত? মাটি, কাদা, পাথর পড়ে যদি গুহার পথ বন্ধ হয়ে যেত কিংবা বের হতে গিয়ে সংকীর্ণ পথে আটকে যেত? এমন সব নানান কথা খালি মনের মধ্যে আসছিল আর থেকে থেকে যেন দম আটকে যেতে চাইছিল। খোদ একজন ডুবুরি তো তারমধ্যে মারাও গেছে, তবে শান্তি লেগেছিল যখন শুনেছি উদ্ধারকর্মীরা আটজনকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে।
বাকীদেরকেও অতি দ্রæত নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হবে, গোটা বিশ্ব যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল এই সংবাদে। আমিও অনেক খুশি হয়েছিলাম, আমি আমাকে দিয়ে আমার স্ত্রীকে দিয়ে সারা পৃথিবীর সকল মানুষের অনুভূতিটাকে বুঝতে সক্ষম হয়েছিলাম। সকলেই আমার মতনই খুশি হয়েছে। যেদিন জানতে পারলাম, গুহার ভেতর থেকে ঐ ছেলেগুলো তাদের বাবা-মার কাছে চিঠি লিখেছে, বের হওয়ার পর আমরা অনেক খাবার খাব, কেউ ঝলসানো মাংস খেতে চায়, সব্জি খেতে চায়, কেউ ফ্রায়েড রাইচ খেতে চায়- আমার ইচ্ছে হল বাংলাদেশ থেকে তাদের জন্যে অনেকগুলো খাবার নিয়ে যেতে। সারা বিশ্বে সকল মানুষদের মধ্যে এই কিশোরগুলোর জন্যে অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখে আমি মুগ্ধ হলাম। পৃথিবীর অনেক দেশ এই বালকগুলোকে উদ্ধারের জন্যে সাহায্য পাঠিয়েছে, ডুবুরি পাঠিয়েছে, উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে, রেসকিউ টিম পাঠিয়েছে। ফিফা তো ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে যদি তারা উদ্ধার হয় তাহলে সবাইকে মাঠে বসে ফাইনাল খেলা দেখার সুযোগ করে দেবে- একেই বলে মানবতা। সেদিন ঐ ছেলেগুলোর জন্যে আমি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের চোখে প্রেম দেখেছি, মায়া দেখেছি, মমতা দেখেছি, ¯েœহ দেখেছি, ভালোবাসা দেখেছি। এ জন্যেই তো আমরা মানুষ, মানুষ মানুষের জন্য তাইতো ভুপেন হাজারিকা গেয়েছেন; মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে। মাশাল্লাহ্ কি মধুর সুরেলা গানের কণ্ঠ তাঁর, যেমন সুর তেমন তার কথা বড়ই মন কাড়া সেই গানের আবেদন।
পরদিন ভোরে সংবাদে দেখলাম ‘থাইল্যান্ডের গুহায় আটকেপড়াদের সবাই উদ্ধার।’ খুশিতে বুক ভরে উঠল, বিশ্বের সবাই খুশি হলো, সকলে কেবল উদ্ধারকারী দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছে, ধন্যবাদ দিচ্ছে। বিশ্বের সব দেশের রাষ্ট্র প্রধানরাও আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে শুধু অভিনন্দন আর ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, কি খুশি সবাই সেদিন সে বিজয়ে, একেই বলে মানবতার বিজয়। তবে ফিফার আশাটি পূরণ হয়নি, ডাক্তার বলেছেন রাশিয়া গিয়ে খেলা দেখার মতো শারীরিক সামর্থ্য ছেলেদের এখনও ফিরে আসেনি। কোনই ব্যাপার না, সবচে বড় কথা হলো সকলের, পৃথিবীর সব মানুষের অকল্পনীয় ভালোবাসা, প্রার্থনা আর ¯েœহে সিক্ত হয়েছে ঐ কিশোর দলের প্রতিটি সদস্য। এর চাইতে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে ? সকলের ¯েœহ, ভালোবাসা, মমতা, প্রার্থনা, আদর তাদের জন্যে উপচে পড়েছে। এটিই হচ্ছে সব চাইতে বড় পাওয়া।
বন্ধুরা, এবার তোমাদের কাছে আমার একটি নিবেদন, সেদিন এ কিশোর দলের সদস্যদের জন্যে আমি ও আমার স্ত্রীসহ সারা বিশ্বের প্রতিটি মানুষের চোখে যে অনুভূতি দেখলাম, সে একই অনুভূতি মিয়ানমারের ঐ রোহিঙ্গা শিশুটি কি প্রাপ্য নয় ? যাদের মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পশুর মতো গুলি করে হত্যা করছে? সেই একই সহানুভূতি কি আজ ফিলিস্তিনের ঐ অবুঝ শিশুগুলোর প্রাপ্য নয়, যাদের বাবা-মা, ভাই-বোনকে নিষ্ঠুর ইসরাইল সেনাবাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করছে? আজ ঐ সিরিয়া গৃহযুদ্ধের কারণে জর্জরিত, অসহায় মানুষগুলোর কি করুণ দশা! আজ মনে পড়ছে ভূমধ্যসাগরের বালুকা বেলায় মুখথুবড়ে পড়ে থাকা নিস্পাপ শিশু আয়ান কুর্দির লাশটির কথা। কি দোষ করেছিল সে ? সেদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও দেখলাম দশ-বার বছরের এক রোহিঙ্গা বালকের করুণ আর্তনাদ তাতে, সু চির কাছে। সে বলছে; ‘আমার মাকে সেনা সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে, আমি আমার অন্য তিন ভাই-বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সেনা সদস্যরা আমার বাবাকে আমার চোখের সামনে গুলি করে হত্যা করেছে! যে বাবা আমার মুখে খাবার তুলে দিত, সে বাবার মৃত্যু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আমি কিছুই করতে পারলাম না। সৈন্যরা আমাকে মাথায় আঘাত করল, আমি জ্ঞান হারালাম। যখন হুঁশ এলো দেখলাম, আমাদের বাড়ি-ঘর কিছুই নাই সব জ্বালিয়ে দিয়েছে, অন্য মানুষদের সাথে তখন আমিও অজানার পথে পা বাড়ালাম। পথে এক জায়গায় দেখি আমার মায়ের উলঙ্গ মৃত দেহটি পড়ে আছে। আল্লাহ্, যে মায়ের আমি দুধ খেয়েছি আজ তার নগ্ন দেহ আমাকে দেখতে হলো! মায়ের দেহটি যাতে শিয়াল-কুকুরে খেতে না পারে তাই সাথে থাকা মানুষগুলোকে নিয়ে মায়ের দেহটিকে মাটিতে পুঁতে পাড়ি জমালাম বাংলার মাটিতে।” বন্ধুরা, ঐ কিশোর ছেলেটির মায়ের সাথে কি হয়েছিল তা আমরা সবাই বুঝি, শুধুমাত্র হত্যা করলে দেহ নগ্ন থাকার কথা নয়। ভিডিওটি দেখে আমার বুক ফেটে কান্না এসেছিল।
সু চি একজন নারী। তাঁর দেশে এমন লাখো নারী ধর্ষিতা হচ্ছে। তাতে কি তাঁর নারী সত্তায় বীভৎসতার সামান্যতম আঁচড়ও লাগছে না, কি জঘন্য ? একই অবস্থা আজ ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে চলছে, দেশগুলোতে নির্বিচারে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ হত্যাকাÐ চলছে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের ঘর-বাড়ি, বসতভিটা। খবরে এসেছে জাতিসংঘের সাথে করা মিয়ানমারের গোপন চুক্তির নথিতে রোহিঙ্গা শব্দটিরই উল্লেখ নেই! তাহলে মানুষ কার কাছে যাবে, স্বয়ং জাতিসংঘের মতো সর্বোচ্চ বিশ্ব সংস্থাই যদি এমন ধূ¤্রজালের সৃষ্টি করে? আজ মিয়ানমার, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেনে লক্ষ লক্ষ নারী, পুরুষ, শিশুহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার। এখানে বিশ্বসংস্থাগুলো নীরব কেন? থাইল্যান্ডের ঐ তের কিশোরের জন্যে বিশ্ববাসীর চোখে যে মমতা দেখেছি, এ দেশগুলোতে যে তের লক্ষ খুন হয়ে যাচ্ছে, আশ্চর্য সে খেয়াল যেন কারো নেই! বন্ধুরা, গুহার অন্ধকারে দম আটকে বা মাটিচাপা পড়ে মরা, যেই মৃত্যু। গুলি খেয়ে, সাগরে ডুবে বা আগুনে পুড়ে মরাও সেই একই মৃত্যু। সকল মৃত্যুর এক রং, বীভৎস। থাইল্যান্ডের ঘটনায় আমরা ফিফার যে ব্যাকুলতা দেখেছি সে একই ব্যাকুলতা আমরা এখানেও দেখতে চাই। পৃথিবীর প্রতিটি দেশ, যেখানে মানবতা লঙ্ঘিত, সেখানেই জাতিসংঘসহ প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবতার পক্ষে সোচ্চার হয়ে উঠুক। বিশ্বের প্রতিটি মানুষের আওয়াজ ধ্বনিত হোক হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
এ বিশ্ব সকল মানুষের, প্রত্যেকের এখানে নিরাপদে, সম্মানের সহিত বেঁচে থাকার অধিকার আছে। এখানে জাত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই সমান। সকলের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার আছে। ধর্মের ভিন্নতার কারণে কেউ কাউকে আঘাত করতে পারবে না, তাই যদি হতো তাহলে আজ থাইল্যান্ডের ঐ কিশোর দলের জন্যে সকল ধর্মের সব মানুষের চোখে পানি আসত না। ঘটনাটি আজ এক আশা জাগানিয়া বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনের রূপ ধারণ করেছে। আমরা চাই, সে বন্ধন বিশ্বের সকল প্রান্তে, সবসময়, সকল অবস্থাতেই অটুট থাকুক। আর কোন অন্যায়, কোন হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন আমরা দেখতে চাই না। কোন শিশুর আর্তনাদ আমরা শোনতে চাই না। আজ আমরা কত হাসি-খুশি, আনন্দে দিন কাটাচ্ছি একই রকম খুশি, আনন্দে থাকার অধিকার তাদেরও তো আছে। কিন্তু তারা তা পারছে না। আজ তাদের কান্না দেখে দুঃখে বুক ফেটে যাচ্ছে, আমরা কিছুই করতে পারছি না। তাই আজ বিশ্বের সকল মানুষের কাছে বিনীত আবেদন, আসুন সকলে এক হয়ে নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াই তাদের শান্তিতে বাঁচার সুযোগ করে দেই, খুশিতে থাকার সুযোগ করে দেই। আসুন, ভুপেন হাজারিকার মত সবাই মন খুলে গাই, মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ? ও বন্ধু–

লেখক : প্রাবন্ধিক