মতবিনিময়কালে অরবিস ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক

মানবতার সেবায় কাজ করছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল

20

মানবতার সেবায় উৎসর্গকৃত চমৎকার স্থান চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল এমনটি মন্তব্য করেছেন অরবিস ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক (মনিটরিং এন্ড ইভ্যালুয়েশন) আরলিন লোজানো। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকমানের চট্টগ্রাম চক্ষুু হাসপাতালে আমাদের সেবার পরিধি আরো সম্প্রসারণ করবো। মানবতার সেবায় উৎসর্গকৃত চমৎকার স্থান এই হাসপাতাল। বিশ্বব্যাপী এই হাসপাতালের সুনাম যেমন শুনেছি, আজ এখানে এসে বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শনে আমি মুগ্ধ হয়েছি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সেমিনার হলে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার দিকগুলো তুলে ধরেন সভার সভাপ্রধান হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন অরবিস বাংলাদেশের প্রজেক্ট ডিরেক্টর (প্রোগাম) মো. আলাউদ্দিন, অরবিস বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার (মনিটরিং এন্ড ইভ্যালুয়েশন) মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন, ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলোজি (আইসিও) এর পরিচালক প্রফেসর ডা. খুরশীদ আলম, আহমেদুর রহমান রিসার্স সেন্টারের জয়েন্ট ডাইরেক্টর অধ্যপক ডা. মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান ওসমানী, হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. কামরুল ইসলাম। সভায় বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসা সেবায় অরবিসের অবদানের কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ শিশু। তাদের চক্ষু চিকিৎসায় স্বতন্ত্র ব্যবস্থা হিসেবে শিশু চক্ষু বিভাগ স্থাপনে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অরবিস ইন্টারন্যাশনাল ২০০১ সালে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে আসছে। এ সময় “ভিশন সেন্টার” এর মাধ্যমে ৫ থেকে ৮ লক্ষ লোকের চক্ষু চিকিৎসা, অন্ধত্ব নিবারন ও রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জনালেন অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গ্রামমূখী কার্যক্রম স¤প্রসারণের আওতায় “ভিশন সেন্টার” স্থাপনে অরবিস সহায়তার কথাও উল্লেখ করে বলেন, ইতোমধ্যে সাতকানিয়ার কেরানীহাট, মিরসরাইয় ও ফেনীতে সংস্থাটির সহায়তায় তিনটি ভিশন সেন্টার চালু হয়েছে। চক্ষু চিকিৎসা ছাড়াও এসব সেন্টারে পরিচালিত হচ্ছে সেন্টার ভিত্তিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চক্ষু পরীক্ষা, গ্রাম ডাক্তার ও বিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
আরলিন লোজানো হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে আরো বলেন, চোখের জটিল রোগের চিকিৎসা এবং চক্ষু সেবায় নিয়োজিত নার্স ও বায়োমেডিক্যাল টেকনিশিয়ানদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল সৃষ্টির জন্য হাসপাতালটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে সমাদৃত। উন্নত চক্ষু চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণে অরবিসের সহায়তায় এ হাসাপাতাল যোগ করেছে অনন্য মাত্রা। বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় ১৯৮৩ সালে স্থাপিত চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং দক্ষ চিকিৎসক ও সহকারী সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি এতদঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে চক্ষু চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বিজ্ঞপ্তি