মানবজাতির কারণেই বিলুপ্ত হয়েছে ৬০ শতাংশ প্রাণী

26

মানুষের ব্যবহৃত পণ্য ও বর্জ্য নিঃসরণের কারণে ভয়াবহ হুমকির মুখে রয়েছে প্রাণীজগত। বিজ্ঞানীদের দাবি ১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শুধু এই কারণেই ৬০ শতাংশ প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের বেসরকারি দাতব্য সংস্থা দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর ন্যাচারের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতি দুই বছর অন্তর লিভিং প্লানেট রিপোর্ট নামে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ও সংরক্ষণ বিষয়ে পরিসংখ্যান হাজির করে। এবারের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪ হাজার প্রজাতির ১৬ হাজার ৭০০ এরও বেশি প্রাণীকে নিয়ে। এছাড়া এ বিষয়ে আগের বিভিন্ন ফলাফলও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এবারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পৃথিবী তার জীববৈচিত্র হারাচ্ছে। স্তন্যপায?ী, সরীসৃপ এবং উভচর প্রাণীসহ মাছ ও পাখি মানব সৃষ্ট এ বিপর্যয়ের শিকার। নীতি নির্ধারকদের এখনই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ারও আহব্বান জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের চারভাগ অঞ্চলের মাত্র একভাগ অঞ্চলে মানবসৃষ্ট এ বিপর্যয় থেকে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদ। তাছাড়া বাকি তিনভাগে তাদের জীবন চরমভাবে সংকটাপন্ন। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০ ভাগের মধ্যে ৯ ভাগ অঞ্চল বন্যপ্রাণী বসবাসের অনুপুযুক্ত হয়ে উঠবে। মূলত খাদ্য উৎপাদন ও জ্বালানি তৈরির কাজে জমি ও পানি ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বন উজাড় করাকেও একটা বড় কারণ হিসেবে বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় বন্যপ্রাণীরা সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে পড়েছে। ১৯৭০ সালের তুলনায় ওই অঞ্চলে ৮৯ শতাংশ বন্যপ্রাণীর বিলুপ্তি ঘটেছে।
প্রতিবেদন বলছে, মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় শিকার মিঠা পানির প্রাণীগুলো। ১৯৭০ সালের তুলনায় মিঠর পানির প্রাণীর সংখ্যা ৮৩ শতাংশ কমেছে। এছাড়া সমুদ্রের গভীরতম অঞ্চলেও পাওয়া গেছে প্লাস্টিক বর্জ্য। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির মতো ব্যবস্থা নেওয়ার আহব্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।