মাদক ও অবৈধ অর্থসহ আটক জেলার বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি

10

রক্ষক যখন ভক্ষক হয়,তখন সাধারণ মানুষ যায় কোথায়- কিছু সংখ্যক পুলিশের কর্মকান্ড নিয়ে হতাশার এমন উক্তি সাধারণ মানুষ থেকে প্রায়ই শোনা যায়। যদিও পুলিশ কর্তৃপক্ষ দাবি করছে তাদের সেই অবস্থা এখন আর নেই। পুলিশের বিরুদ্ধে আগের মত পাঁচ পারসেন্ট অভিযোগও নেই বলে দাবি করছেন তারা। আমরা তাদের দাবির প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই, পুলিশের অবস্থান আগের চেয়ে আরো ভাল হয়েছে, তবে তাতে আত্মতুষ্টির কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। কারণ সোহেল রানা বিশ্বাসের মত জেলারসহ চট্টগ্রামে কয়েকটি থানার এসআই ও কনস্টেবলের মাদক ব্যবসা ও ঘুষ দুর্নীতির যে প্রতিবেদন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ ও কয়েদিদের জানমালের রক্ষকদের নীতি ও নৈতিকতা কত নিচে নামতে পারে-তা সম্যক ধারণা করা যায়। এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনকে অল্পতেই বাহবা না নিয়ে দেশব্যাপী তাদের কর্মস্থলের অবস্থা ও কর্মকান্ডের খোঁজ-খবর নেয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি। আমরা পুলিশের সামগ্রিক কর্মকান্ড ও আচরণে যেমন সন্তুষ্ট হতে চাই তেমনি তারা যে অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় সিদ্ধান্তও চাই। গতকাল শনিবার দৈনিক পূর্বদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৪৪ লাখ টাকাসহ চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার আটক শীর্ষক সংবাদে আমরা হতাশ না হয়ে পারি না। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার দুপুর একটার দিকে রেলওয়ের আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেসের কেবিনে চড়ে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনে রেল (জিআরপি) পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ মো. সোহেল রানা বিশ্বাস। সূত্র জানায়, বিজয় এক্সপ্রেসে করে মাদকের চালান আসার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রেলওয়ে পুলিশের একটি টিম শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ভৈরব স্টেশনে অবস্থান নেয়। বিজয় এক্সপ্রেস দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ভৈরব স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিলে জিআরপির টিম ট্রেনে উঠে তল্লাশি চালায়। কারাধ্যক্ষ সোহেল রানা ট্রেনের কেবিনে ছিলেন। তার কেবিনে তল্লাশির একপর্যায়ে দুটি ব্যাগ থেকে নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, আড়াই কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের রশিদ, বিভিন্ন ব্যাংকের এক কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক ও পাঁচটি চেক বই, একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা ও ১২ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়। এরপর সোহেল রানাকে আটক করে ভৈরব রেলওয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়। আটকের পর তিনি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।
পুলিশ হেফাজতে সোহেল রানা বিশ্বাস দাবি করেন, নগদ টাকাগুলোর পুরোটাই হচ্ছে অবৈধ। কারাগারে বন্দীদের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার ট্রেনে ওঠার আগে তাকে দিয়ে যান। এর মধ্যে শুধু পাঁচ লাখ টাকা তার। বাকি টাকা সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক ও কারা প্রশাসনের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি পার্থ কুমার বণিকের। মাসোহারা কিংবা ঘুষের টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। সর্বশেষ গত দু’মাসের মাসোহারার টাকা তার কাছে রাখা ছিল। আর ঠিকাদার টাকার সাথে ব্যাগের ভেতরে ফেন্সিডিলগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছে। সবমিলিয়ে ওই দুই কর্মকর্তা ও ঠিকাদার মিলে ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সোহেল রানা তার স্বীকারোক্তিতে যাই বলুক, বাস্তবতা হচ্ছে, তার কাছে অবৈধ ঘুষের টাকা, চেক ও ব্যাংক ড্রাপ্ট পাওয়া গেছে, সাথে মাদকের অন্যতম অনুষঙ্গ ফেন্সিডিলও। এখানে তার অপরাধ প্রমানে দ্বিতীয় আর কোন বিষয় প্রয়োজন আছে বলে আমাদের মনে হয় না।
দৈনিক পূর্বদেশে জেলার সোহেল রানাকে নিয়ে যে সাইড হিস্টুরি ছাপানো হয়েছে তাতে প্রতিয়মান তিনি এ ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কাজে নবীন নয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ কাজে জড়িত। সর্বশেষ পাপের প্রাশ্চিত্য তাকে জড়িয়ে ধরেছে মাত্র। আমরা জেনেছি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করি, জেলার যে অপরাধ করেছেন তার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া তিনি যে ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন তাও আমলে নেয়ার প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এতে অনেক সাপের সন্ধানও মিলে যেতে পারে। যা পুলিশ বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য খুবই প্রয়োজন।