মাদকের ন্যায় ভেজালের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ

9

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো ট্রলারেন্স এর পর এ পর্যন্ত সাড়ে তিন শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়া ছাড়া গ্রেফতার হয়েছে কয়েক সহস্রাধিক। কক্সবাজার জেলার কয়েশত মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের তৎপরতা এখনও কিছুটা দেখা গেলেও আগের তুলনায় বহুগুণে কমেছে বলা যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী মাদকের চূড়ান্ত বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে অভিযান। এরমধ্যে দেশে ভেজাল মিশ্রিত বিষাক্ত খাদ্য এবং নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বহুগুণে বেড়ে গেছে। এ নিয়ে সরকার বিব্রতকর অবস্থায় আছে বলা যায়। সরকার প্রধান নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং হত্যাকান্ডের মত ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ ও প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপশি ভেজালের বিরুদ্ধে সরকারের স্থানীয় প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। বিশেষ করে ভেজাল বিরোধী দেশের উচ্চ আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ দেশের মানুষকে আশাবাদী করে তুলেছে। যে রায় বাস্তবায়নে মহামান্য রাষ্ট্রপতিও সম্মতি দিয়েছেন। স¤প্রতি উচ্চ আদালত এক রায়ে ৫২টি মানহীন খাদ্যপণ্যের তালিকা দিয়েছে। ভাবলে অবাক হতে হয় যে, নামী কোম্পানির সব খাদ্যপণ্য এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। কী নেই মানহীন ওই পণ্যের তালিকায়? রয়েছে সরিষার তেল, লবণ, লাচ্ছা সেমাই, নানারকম মসলা, চিপস, নুডলসসহ বেশ কিছু খাদ্যপণ্য। এর ভেতর অনেক খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে ফলাও করে প্রচার হয়ে থাকে। লবণের নাম বললেই যে ব্র্যান্ডের লবণটির কথা সবার আগে চলে আসে, দেখা যাচ্ছে সেটিই মানহীন। মানুষ তাহলে কাকে বিশ্বাস করবে? কোথায় যাবে? উচ্চ আদালত নির্দেশনা দিয়ে বলেছে, মানহীন ৫২টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে আরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, বাজারে থাকা ১৮টি কোম্পানির এসব পণ্য দ্রুত অপসারণ করে ধ্বংস এবং মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে। খুবই স্পষ্ট নির্দেশনা। সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ ও তৎপরতার নির্দেশ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সমাজের জন্য এটি স্বস্তিকর বার্তা। পাশাপাশি দেশের উচ্চ আদালত ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন।
খাদ্যপণ্য যে মানহীন এবং তাতে ভেজাল মেশানো হচ্ছে এটি মনিটরিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষ রয়েছে। তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এসব অপকর্ম দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকত না সমাজে। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, একটি অসাধু চক্র গড়ে উঠেছে মানহীন ও ভেজাল পণ্য বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা লোটার জন্য। কথায় বলে কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। অসাধু ব্যবসায়ী এবং তাদের লালন-পালনকারীদের পৌষ মাস বছরভরই। অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তা তথা আমাদের সর্বনাশা দশার ইতি ঘটছে না। শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতকেই বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হলো। অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো ভাষায় উচ্চ আদালত বলেছে যে, খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। দেশবাসী আশাবাদী সরকার উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবার সত্যি সত্যি যুদ্ধ ঘোষণা করবে। ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলে পুরো জাতির খাদ্য নিরাপত্তার আওতায় আসার পরিস্থিতি তৈরি হবে, রোগব্যাধি হ্রাস পাবে। মানুষের প্রত্যাশা, ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামান্যতম ছাড় নয়। এর সাথে দেশে আমদানিকৃত বিভিন্ন মানহীন খাদ্যসামগ্রী শনাক্ত হওয়া প্রয়োজন। সে ব্যাপারেও যথোচিত ব্যবস্থা নেয়া চাই। আমরা আশা করব সরকার এর পরের দাপে ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অবলম্বন করে দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং সম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করবে।