মাদকবিরোধী অভিযান

মাদকসম্রাট শুক্কুর ও গডফাদার মঞ্জু নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

84

‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’- স্লোগানে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে এলিট ফোর্স র‌্যাব কঠোরভাবে নেমেছে এ যুদ্ধে। এর অংশ হিসেবে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলছে।
গত ৬ দিনে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ৩৮ জন। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এক রাতেই মারা গেছে ১১ জন। এ সময় চট্টগ্রামে শুক্কুর আলী ও ফেনীতে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু নিহত হন। এর মধ্যে মঞ্জু দেশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবা ডন। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত। মঞ্জু মিয়ানমান কানেকশনে ইয়াবা ব্যবসা করে শত কোটি টাকার মাকি বনে গেছেন।
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ফেনীতে সোমবার রাতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইয়াবার গডফাদার মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু (৪৯) নিহত হন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লেমুয়া এলাকায় সোমবার দিনগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
র‌্যাব জানায়, সোমবার রাতে র‌্যাব ফেনী ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের
ভিত্তিতে ফেনীর লেমুয়ায় অভিযান চালায়। এ সময় মঞ্জুরুল আলমের নেতৃত্বে একদল মাদক ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে লেমুয়া এলাকায় পৌঁছালে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাব সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে মঞ্জু গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে ঘটনাস্থল থেকে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবা গডফাদার মঞ্জুর গুলিবিদ্ধ দেহ, দশ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি ও গুলির ৫টি খালি খোসা উদ্ধার করে র‌্যাব।
র‌্যাব আরো জানায়, মঞ্জুর বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদকসহ অসংখ্য মামলা নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মঞ্জুলুল আলম মঞ্জু চট্টগ্রাম তথা দেশের একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবা গডফাদার। তার রয়েছে একটি বিশাল সিন্ডিকেট। তিনি লোক দেখানো সিগারেট-সাবানের ব্যবসা করলেও তার মূল কারবার হল ইয়াবা নিয়ে। লাখ লাখ ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত সে। শুধু চট্টগ্রাম নয় ঢাকায়ও তার রয়েছে নেটওয়ার্ক। এর আগে ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাড়ে পাঁচ লাখ ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ টাকা নিয়ে পাঁচ সহযোগীসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন ঢাকার আগারগাঁও র‌্যাব-২ এর হাতে।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সে সময় বলেছিলেন, মিয়ানমার থেকে মাছ ধরার ট্রলারে আনা ইয়াবার চালান খালাস করা হয় আনোয়ারা কিংবা পতেঙ্গ সমুদ্র সৈকতে। সংঘবদ্ধ একটি গ্রæপ সেইসব ইয়াবা ছড়িয়ে দেয় দেশের এলাকায়। মনজুর আলম মঞ্জু হচ্ছেন একটি মাদক চক্রের গ্রুপ প্রধান। মনজুরের গাড়ি চালক সেলিম ও সিন্ডিকেটের সদস্য মহিউদ্দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচারের কাজ করেন।
জানা যায়, টেকনাফ, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় চোরাচালান এবং মাদক পাচারের একটি শক্তিশালী গ্রুপ রয়েছে। গ্রæপটি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে ঢাকায় সরবরাহ করে। এ গ্রæপের মূল হোতা মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু। তিনি বসবাস করেন চৌমুহনী এলাকায়। চট্টগ্রামে আবাসস্থল হলেও মঞ্জু প্রায় সময় ঢাকায় বসবাসরত তার প্রধান সহযোগী গিয়াস উদ্দিন ওরফে গেসু ও আবদুল মান্নানের কাছে থাকতেন। মিয়ানমার থেকে টেকনাফ-কক্সবাজার হয়ে সাগরপথে ট্রলারে আসা ইয়াবার চালান খালাস হয় আনোয়ারা ও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। সেখান থেকে মনজুর গাড়িচালক সেলিম ও সহযোগী মহিউদ্দিন খালাস হওয়া ইয়াবার চালান বুঝে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পাচার করতেন।
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, মঞ্জুরের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটটি বিগত পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে মিয়ানমার হতে সমুদ্রপথে গোপনে টেকনাফ-কক্সবাজার হয়ে ট্রলারে ইয়াবা এনে খালাস করে আনোয়ারা ও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। সেখানে থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচার করা হয়।
সূত্র জানায়, সে বড় মাপের ইয়াবা কারবারি। টেকনাফের শীর্ষ কারবারিদের সঙ্গে তার ব্যবসায়ীক সম্পর্ক রয়েছে। মিয়ানমারের কারবারীদের সাথেও তার যোগাযোগ। লাখ লাখ পিস ইয়াবার কারবার তার। চট্টগ্রামে ইয়াবা বিক্রি কত না সে। আনোয়ারা-বাঁশখালী, পতেঙ্গা উপকূলে খালাস করার পর ঢাকায় পাঠিয়ে দিত ইয়াবা। নির্দিষ্ট বাহক গাড়ি সবই ছিল তার। পুলিশকে ম্যানেজ করে গাড়িতে করে তিন থেকে সাত লাখ পিস ইয়াবা পাচার করত সে। ইয়াবা কারবারে সে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে।
র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিমতানুর রহমান বলেন, মঞ্জু বড় মাপের একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত। তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
অপরদিকে র‌্যাবের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে চট্টগ্রামের আরেক ‘মাদক সম্রাট’ শুক্কুর আলী (৪৫) নিহত হয়েছে। নগরীর বায়জিদ বোস্তামি থানাধীন ডেবারপাড় জামতলাস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনির পূর্বপাশে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, ১টি ওয়ানশ্যুটারগান, ৩ রাউন্ড গুলি, ২ রাউন্ড খালি খোসা এবং ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি মাদক মামলা রয়েছে।
জানা যায়, শুক্কুর একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। সে শুধু চট্টগ্রামেই মাদক বিকিকিনি করত। সে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাইকারি কিনে নগরীর বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ করত। অন্তত শতাধিক স্পটে মাদক সরবরাহ করত সে।
র‌্যাবের সহকারি পরিচালক মিমতানুর রহমান বলেন, শুক্কুর আলী একজন মাদক সম্রাট। বিশাল এলাকা ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। দীর্ধদিন ধরে সে মাদক ব্যবসা করে আসছে।

৭ জেলায় আরও
৯ জন নিহত
সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আরও ৯ জন নিহত হয়েছে। র‌্যাব ও পুলিশ এসব ঘটনাকে বর্ণনা করে আসছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ৭ জেলায় মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এর মধ্যে পুলিশের গুলিতে কুমিল্লা ও নীলফামারীতে দুই জন করে মোট চারজন এবং চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোণা ও দিনাজপুরে একজন করে তিনজন নিহত হয়েছেন। আর র‌্যাবের গুলিতে, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে নিহত হয়েছেন চারজন। খবর বিডিনিউজের
পুলিশ ও র‌্যাবের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিল। কারও কারও বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলাও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধে গত চার দিনেই অন্ততঃ ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে তা দমন করছে- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এ ধরনের ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে তারা।
এসব ঘটনার যে বিবরণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে আসছে, তা মোটামুটি একই রকম। তাদের দাবি, অভিযানের সময় মাদক চক্রের সদস্যরা গুলি চালালে পাল্টা গুলিবর্ষণ হয়, তাতেই এদের মৃত্যু ঘটে। তবে বিভিন্ন সময়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে, ধরে নিয়ে হত্যা করা হয় তাদের স্বজনদের।
দেশ থেকে মাদক নির্মূলের প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, জঙ্গি দমনের মত মাদক ব্যবসায়ী দমনে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। আর এই দায়িত্ব মূলত দেওয়া হয়েছে র‌্যাবকে। অবশ্য গোয়েন্দা পুলিশ, রেল পুলিশ, থানা পুলিশ এবং বিজিবিকেও নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে দেখা যাচ্ছে।
কুমিল্লা : জানা গেছে, কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়েছেন, যারা জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি’ বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আবু ছালাম মিয়া বলেন, গোয়েন্দা শাখা ও থানা পুলিশের কয়েকটি দল সোমবার রাত পৌনে ১ টার দিকে বিবির বাজার অরণ্যপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজনের মধ্যে মো. শরীফ (২৬) জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। আর নিহত পিয়ার আলী (২৮) আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে। শরীফের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনের পাঁচটি এবং পিয়ারের বিরুদ্ধে ১৩ টি মামলা রয়েছে বলে জানান কোতোয়ালির ওসি।
নীলফামারী : নীলফামারীর সৈয়দপুরে সোমবার সন্ধ্যায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার দুই যুবক গতকাল মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল বলেন, মঙ্গলবার ভোরে সৈয়দপুরের গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় ‘মাদক চোরাকারবারীদের সঙ্গে’ পুলিশের গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সৈয়দপুর পৌর শহরের ইসলামবাগ মহল্লার আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. জনি হোসেন (২৭) এবং নিচু কলোনি মহল্লার ইউসুফ হোসেনে ছেলে শাহিন আহমেদ (৩০)।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রেলওয়ে স্টেশন রোডে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কামরুজ্জামান সাধু নামে ৫০ বছর বয়সী একজন নিহত হয়েছেন। আলমডাঙ্গা থানার এএসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার হারদী গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে কামরুজ্জামান সাধুর বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে ‘একাধিক’ মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, সাধু ও তার সহযোগীরা এক বস্তা ফেনসিডিল নিয়ে স্টেশন এলাকা দিয়ে যাচ্ছে- এমন খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার রাত আড়াইটার দিকে রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম পাশের পুকুরের কাছে অবস্থান নেয়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করে। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে কামরুজ্জামান সাধু গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়’।
নেত্রকোণা : নেত্রকোণায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার এক যুবক কয়েক ঘণ্টার মাথায় সদর উপজেলার বড়াইল বালুঘাটে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। নিহত আমজাদের (৩৫) বাড়ি নেত্রকোণা শহরের উত্তর নাগড়া এলাকায়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের ১৩ টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশের ভাষ্য।
ফেনী : ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে র‌্যাবের চেকপোস্টে তল্লাশির সময় গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। নিহত মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু (৪৯) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় মাদক চোরাচালান ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল ফাহিমের ভাষ্য। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে মাদকের একটি চালান ঢাকার দিকে যাওয়ার খবরে ফেনীর লেমুয়ায় মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছিল র‌্যাব। ভোরের দিকে মাদক ব্যবসায়ীরা সেখানে পৌঁছে র‌্যাব দেখে গুলি করে। আত্মরক্ষার জন্য র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ী মঞ্জু গুলিবিদ্ধ হয়’।
দিনাজপুর : দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত প্রবাল হোসেন (৩৫) বিরামপুরের দক্ষিণ দামোদারপুর (বাসুদেবপুর) গ্রামের খলিল উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় আটটি মামলা রয়েছে বলে বিরামপুর থানার ওসি আব্দুস সবুরের ভাষ্য।
নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে, যাকে একজন মাদক চোরাকারবারি বলছে র‌্যাব। র‌্যাব-১ এর উপ-অধিনায়ক মেজর ইশতিয়াক বলেন, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে আড়াইহাজার উপজেলার শিমুলতলী এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু খান (৩৩) রাজধানী ঢাকার উত্তরখান এলাকার আশরাফ খানের ছেলে। তিনি টঙ্গী, গাজীপুর ও কালিয়াকৈর এলাকায় মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন বলে র‌্যাবের ভাষ্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মাদক মামলার এক আসামি নিহত হয়েছে, আটক করা হয়েছে তার স্ত্রীকে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাতে উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে বলে র‌্যাব-১০ এ দায়িত্বরত অতিরিক্ত এসপি মহিউদ্দিন ফারুকী জানান। নিহত ধন মিয়া (৩৫) বাঞ্ছারামপুরের মরিচাকান্দি গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে থানায় চারটি মাদকের মামলা রয়েছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা ফারুকী।


বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে প্রমাণ নেই
বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের নিহতের খবর আসছে। তবে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ থাকার পরও কক্সবাজার-৪ টেকনাফ-উখিয়া আসনের এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না-এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংসদ সদস্য বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। আমরা সেই অভিযোগগুলো সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। বদিসহ অন্য মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে আপনাদের কাছেও কোনও তথ্য থাকলে আমাদের দিন। বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তথ্য-প্রমাণ নাই।’
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশে কোনও ক্রসফায়ার হচ্ছে না, যা হচ্ছে বন্দুকযুদ্ধ।’ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে পুলিশ সামনের দিকে এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।-খবর বাংলা ট্রিবিউনের
উল্লেখ্য, এর আগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, র‌্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মাদক পাচারকারীদের তালিকায় এমপি বদি সামনের সারিতে আছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এযাবৎ দুই হাজারের বেশি মাদক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচার করে জেল দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, র‌্যাব, সাংবাদিক যারাই মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকবে তাদের ছাড় নয়।’
প্রসঙ্গত, সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানে গত ১৪ মে থেকে এ পর্যন্ত ৩৮ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও র‌্যাব সব ঘটনাকেই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দাবি করেছে।