মাথাগোঁজার ঠাঁই পাচ্ছে ১৯৮ গৃহহীন পরিবার

আনোয়ারা, মিরসরাই ও কর্ণফুলীতে ঘর নির্মাণে প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ

রাহুল দাশ নয়ন

20

‘যার জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চট্টগ্রামের ১১টি উপজেলায় ২৭৬১টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয় সরকার। নির্মাণ কাজ শেষে ঘরগুলো গৃহহীন পরিবারগুলোকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এবার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মিরসরাই, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার ১৯৮টি পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিটি ঘর নির্মাণে কাজ তদারকি করছে স্থানীয় প্রশাসন। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় এক কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দও দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন পূর্বদেশকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দশটি উদ্যোগকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। এরমধ্যে একটি হচ্ছে গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন কেউ গৃহহীন, কেউ না খেয়ে কিংবা কেউ কর্মহীন থাকতে পারবে না। আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নিয়ে অনেক পরিবারকে ঘর করে দেয়া হয়েছে। নতুন করে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রাম ও জমি আছে ঘর নাই এমন তিনধরনের প্রকল্প নিয়ে মানুষকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করলে, ঘর না থাকলে সরকার তাদের ঘর করে দিবে। গৃহহীনরা শহরে কর্মহীনভাবে ঘুরাঘুরি না করে গ্রামে ফিরে গেলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘর দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।’
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৭৬১টি ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।
নতুন করে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আগের সময়ে বাদ পড়া মিরসরাই, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় ১৯৮টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে এক কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে আনোয়ারায় ৬০টি, মিরসরাইয়ে ১০৮টি ও কর্ণফুলী উপজেলায় ৩০টি নতুন ঘর নির্মাণ করা হবে। ঘর ছাড়াও প্রশিক্ষণ, ঋণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত ও নদী ভাঙন কবলিত ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবারকে প্রকল্পগুলোর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়।
এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাঁশখালীতে ২৫২টি, লোহাগাড়ায় ১৬৫টি, সাতকানিয়ায় ৩১২টি, চন্দনাইশে ১৬২টি, বোয়ালখালীতে ১৮০টি, পটিয়ায় ৩৯৬টি, স›দ্বীপে ২৫২টি, হাটহাজারীতে ২৭০টি, ফটিকছড়িতে ৩৬০টি, রাউজানে ২৫২টি ও রাঙ্গুনিয়ায় ১৬০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ শেষে পুনর্বাসিত পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৪৭ হাজার ২১০ পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সেসময় এ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭-২০০২ সালে চট্টগ্রামের ১১টি উপজেলায় ২৬টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দুই হাজার ১৪৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। ২০০২-২০১০ সাল পর্যন্ত চার দলীয় জোট ও ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে আটটি প্রকল্পে ৮৬০টি পরিবার পুনর্বাসিত হয়। ২০১০-২০১৭ সালে প্রথম ধাপে আটটি উপজেলায় ১৪টি প্রকল্পে ৮৯৫টি পরিবার ও দ্বিতীয় ধাপে চারটি উপজেলায় পাঁচটি প্রকল্পে ৪৪০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন পূর্বদেশকে বলেন, ২৭৬১টি পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। মিরসরাই, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় ১৯৮টি ঘর নির্মাণ হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা প্রকল্পগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রী দপ্তর দেখভাল করছে। স্থানীয়ভাবে উপজেলা প্রশাসন গৃহনির্মাণ কাজের তদারকি করছে।