মাতামহুরীর চরের বাদামে চাষীদের ভাগ্য পরিবর্তন

চকরিয়া প্রতিনিধি

17

কক্সবাজারের চকরিয়ার উপরদিয়ে বয়ে যাওয়া মাতামহুরী নদীর বুকে জেগে ওঠা অসংখ্য চরের ২৪৭ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে বাদাম চাষ করে ৫৬৮ মেট্রিকটন বাদাম উৎপাদন হবে এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এ বছর বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ৬৮ হেক্টর বেশী জমিতে বাদাম চাষ করা হয়। ফলে এ মৌসূমে বাদামের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চকরিয়ার চাষিরা। বাদাম চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন চরের প্রায় সাড়ে ১৭ শত ভূমিহীন বর্গাচাষি। চকরিয়া উপজেলার দক্ষিণ ও পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত মাতামহুরী নদীর চরে এ বছর বাদাম চাষ করেছেন প্রায় ১৭৫৭ চাষি। মাতামহুরী নদীর ভাঙনে চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর, সুরাজপুর, কাকারা, মাজেরপাড়ী, ঘুনিয়া, খোয়াজ নগর, মৌলভীরচরের প্রায় তিন হাজার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিল। ঠিক সে সময়ে বাদাম চাষ করে নদীভাঙা মানুষের মুখে এখন হাসি ফুটেছে। চকরিয়া উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর মাতামহুরীর চরাঞ্চলের পলিযুক্ত বেলে-দোআঁশ মাটিতে দুইশত হেক্টর জমিতে সাড়ে পাঁচশত মেট্রিক টন বাদাম উৎপন্ন হয়। বাদাম চাষ করে চরাঞ্চলের ১৮ শত ভূমিহীন বর্গাচাষি পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। বাদামের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা লাভবান হয়েছেন। চলতি মৌসূমে গত বছরের চেয়ে ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে চিনা বাদাম আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারো বাদামের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তারা। সরেজমিন পরিদর্শনে যায়, মাতামহুরী নদীর ভাঙনে চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর, সুরাজপুর, কাকারা, মাজেরপাড়ী, ঘুনিয়া, লুটনী, খোয়াজ নগর, মৌলভীরচর, আমানচর, কাজির পাড়া, ভরইন্নারচর, ডীপকুল, মোবিয়ারচর, পূর্ববড় ভেওলা, খীলছাদেক, ও পালাকাটা এলাকা সহ অনেক স্থানে জেগে উঠা ছোট-বড় অসংখ্য চরের ২৪৭ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। বাদাম চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চরাঞ্চলে বাদাম চাষের সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা সমস্যা। বীজসস্কট বাদাম চাষের প্রধান সমস্যা। চাষিরা স্থানীয়ভাবে দেশী পদ্ধতিতে বাদামবীজ সংরক্ষণ করায় অনেক সময় ভালো ফলন পাওয়া যায় না। কাকারা’র বাদাম চাষী আবু বক্কর জানান এ বছর মাতামহুরী নদীর জেগে উঠা চরের ৬০ শতক জমিতে চিনা বাদামের চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন ভাল হয়েছে। পৌর এলাকার হালকাকারা গ্রামের চাষী আবদুর রহমান জানান কৃষি অফিসের পরামর্শে মৌলভীর চরের ৫০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করা হয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষনে বাদামের ফলন ভাল হয়েছে। পালাকাটার বাদাম চাষী জাফর আলম জানান এ বছর তিনি চরের ৫০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। এতে খরচ পড়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। আশাকরি ফলন ভাল হবে। চকরিয়া উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মহি উদ্দিন জানান, চলতি মৌসূমে চকরিয়ায় ২৪৭ হেক্টর জমিতে চিনা বাদামের চাষ করা হয়েছে। তৎমধ্যে বারী-৫ জাতের ৯০ হেক্টর ও ৩ দানা জাতের ১৫৭ হেক্টর জমিতে বাদাম চায় হয়েছে। গত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে রোপণ শুরু হয়। চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে বাদাম উত্তোলন শুরু হয়েছে। ১০-১৫ তারিখের মধ্যে পরো উপজেলায় বাদাম উত্তোলন সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি আরো জানান রোপন থেকে উত্তোলন পর্যন্ত সাড়ে ৩ মাস সময় লাগে। প্রতি হেক্টরে ফলন আসে ২.৩ মেট্রিকটন ।
সে হিসেবে পরো উপজেলায় ৫৬৮ মেট্রিকটন ফলন আশা করা যায়। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ জানান বাদাম চাষে তেমন খরচ পড়েনা। সঠিক সময়ে শুধু মাত্র বীজ সংগ্রহ করতে হয়। সার বা কীট নাশকের তেমন প্রয়োজন পড়েনা। শুধু মাত্র সেচের প্রয়োজন হয়। আবহাওয়া অনূকূলে থাকা ও মাতামহুরী নদীতে প্রচুর পানি প্রবাহ থাকায় এ বছর চকরিয়া উপজেলায় বাদামের দানা পুষ্ট হচ্ছে। এ বছর বাদাম গাছে তেমন কোনো রোগবালাইয়ের আক্রমণ নেই। ফলে এ অঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করেন।