মাঝ সাগরে বাড়ি বানিয়ে মৃত্যুদন্ডের মুখে যুগল

18

তীর থেকে খানিকটা দূরে সাগরের থৈ থৈ পানির ওপর বাড়ি বানিয়ে মৃত্যুদন্ডের মুখে পড়েছেন এক মার্কিন-থাই যুগল। মার্কিন নাগরিক চাড এলওয়ার্টস্কি তার থাই প্রেমিকা সুপ্রানি থেপডেটকে নিয়ে একান্তে থাকতে মাঝ সাগরে এ ভাসমান বাড়ি তৈরি করেন। বাড়িটি থাইল্যান্ডের ফুকেট দ্বীপের পশ্চিম উপকূল থেকে ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে অবস্থিত। এ বাড়ি তৈরি করে তারা থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্বে হুমকি সৃষ্টি করেছেন বলে নৌববাহিনী অভিযোগ করেছে। এ অভিযোগে ওই যুগল দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড কিংবা মৃত্যুদন্ড হতে পারে।
থাইল্যান্ড বলছে, বাড়িটি ২শ’ মাইল বিস্তৃত বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকার মধ্যে পড়েছে। নৌবাহিনীর অভিযানের সময় বাড়িটিতে কেউ ছিল না। নৌবাহিনী বলছে, বাড়িটি তৈরির আগে ওই যুগল থাইল্যান্ডের অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করেনি। মৃত্দুন্ড হওয়ার ভয়ে এখন দুইজনই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং থাইল্যান্ডে আত্মগোপন করে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার থাইল্যান্ডের এক সরকারি কর্মকর্তা ওই যুগলকে তাদের অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার আহব্বান জানিয়েছেন। ফুকেটের প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর সুপোজ রডরুয়াং না নংখাই রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেন, “আমি তাদেরকে মামলা লড়ার জন্য আইনজীবী ঠিক করতে বলেছি। সার্ববৌমত্ব লঙ্ঘনের আইনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সাজা হিসাবে তাদের যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদন্ড হতে পারে। থাইল্যান্ড আইন অনুযায়ীই সব প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে। আমরা তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছি না।”চাড এলওয়ার্টস্কি মার্কিন সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসাবে কাজ করতেন। পরে ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনে বিনিয়োগ করেন তিনি। ‘সিস্টেডিং’ নামক একটি আন্দোলনে এ যুগল জড়িত। তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক জলসীমাতেই বাড়ি তৈরি করা উচিত।
এতে তারা কোনো দেশের আইনের আওতায় পড়বেন না। তাছাড়া, ‘ওশেন বিল্ডার্স’ নামক একটি গোষ্ঠীর সঙ্গেও তারা জড়িত। এ গোষ্ঠী সাগরে বাড়ি বানাতে সহায়তা করে থাকে। গত ফেব্রুয়ারিতে ভাসমান ওই বাড়ি তৈরির বিস্তারিত জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন চাড। তবে তা থাই কর্তৃপক্ষের নজরে আসে চলতি সপ্তাহে। বাড়িটিতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ কাটিয়েছেন চাড ও সুপ্রানি।