মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সন্ত্রাসী দস্যুদের আত্মসমর্পণ ইতিবাচক

8

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী-কুতুবদিয়া দ্বীপ দু’টি এক সময় সন্ত্রাসী জনপদে রূপান্তরিত ছিল। পাঁচ-ছয় মাস পূর্বেও মহেশখালী-কুতুবদিয়ার জনদস্যু ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে ধীবররা সাগরে জাল ফেলতে ভয় পেত। পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানা গেছে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে বহু জেলে তাদের বোট, জাল এমনকি জীবন পর্যন্ত হারিয়েছে জলদস্যু ও সন্ত্রাসীদের হাতে। জলদস্যুদের ভয়ে সাগরে জেলেরা মাছ ধরতে না যাওয়ায় বাজার অনেক সময় সামুদ্রিক মাছশূন্য হয়ে পড়তেও দেখা গেছে।
কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপটির বিরাট অংশ দুর্গম পাহাড়। এ দুর্গম পাহাড়ে বহু অস্ত্র তৈরির কারখানা পাওয়া গেছে। আর সন্ত্রাসীরা সাগরে ডাকাতি করে মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ে আশ্রয় নিত। কুতুবদিয়াতেও বহু জলদস্যু রয়েছে। তারাও সাগরে ডাকাতি করে দিনের বেলায় মহেশখালীর পাহাড়ে আশ্রয় নিত এমন খবর নতুন নয়। এসব জলদস্যু ও সন্ত্রাসীরা জমি দখল, পাহাড় দখল, চর দখল, মাদক ব্যবসা, ইয়াবা ব্যবসা, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির কাজে লিপ্ত থাকায় কুতুবদিয়া-মহেশখালীর প্রায় অঞ্চল সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছিল।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং কুতুবদিয়া-মহেশখালীর যোগাযোগ পূর্বের তুলনায় উন্নত হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা কমতে শুরু করে। মহেশখালীর মাতারবাড়িতে সরকারের উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন, অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা মহেশখালী-কুতুবদিয়ার পরিবেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা রাখছে। যোগাযোগের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের প্রবণতা মহেশখালী-কুতুবদিয়া দ্বীপের জীবনমান উন্নয়নে যে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এতে কোন সন্দেহ নেই।
বর্তমান সরকারের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণেই জলদস্যু ও সন্ত্রাসীরা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে উৎসাহিত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সাড়া দিয়ে ৪৩ জন ডাকাত-সন্ত্রাসী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলো- এমন শুভ সংবাদ জাতির জন্য সুখকর। ৪৩ জন সন্ত্রাসী ৯৪টি অস্ত্র এবং ৭৬৩৭ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করায় মহেশখালী-কুতুবদিয়ার জেলে মৎস্যজীবীসহ সাধারণ মানুষ আশায় বুক বেঁধেছে এই মর্মে যে, ভবিষ্যতে তাদের জীবন-যাপনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ডাকাতির ঘটনার মুখোমুখি আর হতে হবে না। আনুষ্ঠানিক এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের উপর ভরসা করে বসে থাকলেও চলবে না। ক্রমান্বয়ে সকল সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। আর এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কুতুবদিয়া-মহেশখালী জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।