মহেশখালীর এলএনজি পাইপলাইনে যেতে ১ মাস অপেক্ষা

44

কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের বিশেষায়িত ভেসেল ‘এক্সেলেন্স’ কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে পৌঁছালেও সেই গ্যাস সরবরাহে যেতে আরও মাসখানেক অপেক্ষা করতে হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জানিয়েছেন, আগামী ২৫ বা ২৬ মে ওই এলএনজি জাতীয় সঞ্চালন লাইনে দেওয়া শুরু হতে পারে।
বুধবার ঢাকায় এক সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য দেন বলে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের বিশেষায়িত ভেসেল ‘এক্সেলেন্স’ এক লাখ ৩৩ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল কক্সবাজারের মহেশখালীতে এসে নোঙর করে। ২৭৭ মিটার দৈর্ঘ্য, ৪৪ মিটার প্রস্থ এবং সাড়ে ১২ মিটার ড্রাফটের (গভীরতা) এই জাহাজকে বলা হয় ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট-এফএসআরই।
এই ইউনিট একইসঙ্গে গ্যাস মজুদের জন্য ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে কাজ করে এবং তরলীকৃত গ্যাসকে পুনরায় গ্যসীয় অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে ভূমিতে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে পারে।
এফএসআরই দেশে আসার দিন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছিলেন, অন্যান্য কাজ শেষে মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই দেশের প্রথম এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যাবে বলে তারা আশা করছেন।
তবে বুধবার ‘উন্নত জীবনের জন্য কারিগরি দক্ষতা: উত্তরণ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, “এলএনজি পাইপ লাইনে আগামী মে মাসের ২৫/২৬ তারিখ থেকেই দেওয়া হবে। এলএনজি শিল্প কারখানায় সংযোগ দেওয়া হবে। এতে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট কেভিন নালয়ন ও সুইস কন্ট্রাক্ট বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর অনির্বাণ ভৌমিকও উপস্থিত ছিলেন ওই অনুষ্ঠানে।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এর আগে জানিয়েছিলেন, এফএসআরইউ কাজ শুরু করলে আমদানি করা গ্যাস মহেশখালী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রথমে যাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। পরে তা জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে পাঠানো হবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে।
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত নতুন বসানো ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইন ইতোমধ্যে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।
কিন্তু আনোয়ারা থেকে সীতাকুন্ড পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইনের কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ শুরু করতে সময় লাগছে।
জিটিসিএলের এমডি আলী মো. আল মামুন বলেন, “আনোয়ারা থেকে সীতাকুন্ড পর্যন্ত পাইপলাইনের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে বাকিটাও শিগগিরই শেষ হবে বলে আশা করা যায়।”
কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের প্রথম এলএনজি টার্মিনালের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘন মিটার। ওই টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন বা তরল থেকে গ্যাসে রূপান্তরের ক্ষমতা রয়েছে দিনে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনাল নির্মাণ ও অন্যান্য খরচ হিসেবে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের জন্য তাদের ৪৯ সেন্ট করে দিতে হবে। অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ার পর তা ৫৯ সেন্টের মত হবে।
১৫ বছর পর মহেশখালীর টার্মিনাল ও এফএসআরইউ কোনো বিনিময়মূল্য ছাড়া পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে। বার্তা সংস্থার খবর