লবণের ন্যায্যমূল্য ও ওজন নিশ্চিতকরণ

মহেশখালীতে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন

মহেশখালী প্রতিনিধি

12

লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ, মিল মালিকের কারসাজিতে ওজনে বেশি নেওয়া বন্ধ, মিল মালিক কর্তৃক বিক্রেতাদের কাছ থেকে অন্যায্য খরচ আদায়, কক্সবাজারে স্থায়ী লবণ বোর্ড গঠন ও ১৯৯৬-৯৭ সালে সরকার কর্তৃক মাঠ পর্যায় থেকে ন্যার্য্য মূল্যে লবণ কেনার জন্য চাষীদের দেওয়া একর প্রতি ৫ হাজার টাকা ঋণ মওকূপসহ লবণ চাষীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবীতে মহেশখালীতে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৯ জানুয়ারি মহেশখালী প্রেসক্লাবে মহেশখালী লবণ চাষী সংগ্রাম পরিষদ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে মহেশখালী লবণ চাষী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার পাশা চৌধুরী মিল মালিক সিন্ডিকেট করে লবণের পরিমাপে বেশি নেয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, সরকারিভাবে সাড়ে ৩৭ কেজিতে একমণ হলেও মিল মালিকরা এখন তাদের ইচ্ছা মাফিক মণ প্রতি ওজনে ৪৫ কে:জি নিয়ে নিচ্ছে। ফলে মাঠ পর্যায়ে চাষিরা ওজনে হয়রানির শিকার হচ্ছে। বক্তারা সাড়ে ৩৭ কেজিতে মণ নির্ধারণ করে ওজনে কারচুপি বন্ধের দাবী জানান। তারা বলেন, বাজার থেকে এক কেজি লবণ আমরা ক্রয় করছি ৩০/৪০ টাকা। কিন্তু আমরা এক কেজি লবনের দাম ৫ টাকাও পাচ্ছি না। অথচ বর্তমান সরকার লবণের ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত করলেও মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে আমরা তা পাচ্ছি না। চাষিদের দাবী, প্রতি কেজি লবণ ১০ টাকা করে মন (সাড়ে ৩৭ কেজি) প্রতি ৩৭৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হোক। তাছাড়া মিল মালিক কর্তৃক ক্রয়কৃত লবণের যাবতীয় খরচ মিল মালিকের নিকট থেকে বহন করার ব্যবস্থা করার দাবী জানান।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ সরকার এ পর্যন্ত লবণকে শিল্প পণ্য বা কৃষি পণ্য কোনটিতেই স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে শিল্প মন্ত্রণালয়ে গেলে বলে এটি শিল্প নয়, আবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে গেলে বলে এটি কৃষি পণ্য নয়। তাই অবিলম্বে লবণকে কৃষি পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কক্সবাজারে স্থায়ী লবণ বোর্ড গঠন করে লবণ চাষিদের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে কক্স বাজারে নবনির্বাচিত চার সাংসদ, জেলা প্রশাসক, মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন, ককসবাজারের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আর্কষণ করেন। লবণ চাষীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, ১৯৯৬-৯৭ সালে মাঠ পর্যায়ে লবণের অস্বাভাবিকভাবে দর পতনের ফলে চাষীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বানিজ্যমন্ত্রী মরহুম আব্দুল জলিল কক্সবাজারে পরিদর্শনে এসে লবণ চাষীদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সরজমিনে দেখেন। এরই প্রেক্ষিতে সরকারের নির্দেশে লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায় থেকে সরকারিভাবে মন প্রতি ১১০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ন্যায্য মূল্যে লবণ ক্রয় করার নিমিত্তে ২০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেন। উক্ত ২০ কোটি টাকা থেকে প্রায় ১৭ কোটি টাকা লবণ চাষীদের মাঝে স্থানীয় সকল তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে একর প্রতি ৫ হাজার টাকা করে বিলি করেন। কথা ছিল সরকার মাঠ পর্যায় থেকে লবণ কিনবে। কিন্তু পরবর্তীতে লবণের বাজার মূল্য স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসায় সরকার আর লবণ কিনেনি। ফলে লবণ চাষীদের মাঝে দেয়া একর প্রতি ৫ হাজার টাকা ব্যাংক কর্তৃক ঋণ হিসাবে তুলে দেয়। বর্তমানে কিছু কিছু লবণ চাষী বিভিন্ন দায়ে পড়ে চাষীরা ঋণের টাকা পরিশোধ করলেও হাজার হাজার লবণ চাষীর নামে ওই টাকা সুদে আসলে চক্রবৃদ্ধির হারে তুলে দিয়ে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করেছে। ফলে হাজার হাজার লবণ চাষীদের উপর এখন সার্টিফিকেট মামলা ঝুলছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রয়োজনে সরকারের দেয়া একর প্রতি ৫ হাজার টাকা মওকুপ করে সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বড়মহেশখালি ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, সাবেক সভাপতি এম, ফোরকান, মো. কামাল কোং,দলিল মিয়া, লবণ ব্যাবসায়িদের মধ্যে মহসিন আনোয়ার, নেচার উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, এনামুল হক, জাফর আলম, সুকুমার কান্তি দে, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইসলাম, সালমান, আব্দুল্লাহ আল নিশান, সিরাজুল ইসলাম, আশরাফ জামাল ও আব্দুল্লাহ আল নোমান সুমন প্রমুখ।