আচরণবিধি লংঘন

মহেশখালীতে পাঁচ প্রার্থীকে অর্থদন্ড

মহেশখালী প্রতিনিধি

12

মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণাকালে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচ প্রার্থীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মহেশখালীতে গভীর রাতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় পাঁচ প্রার্থীকে অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার পর থেকে কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয় উপজেলা থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত।
মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ জানান, আগামী ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে মহেশখালীতে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে মহেশখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তৎপর রয়েছে।
বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা হয়। মহেশখালী পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫ প্রার্থীকে অর্থদন্ড দেন আদালত। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ হোছাইন ইব্রাহীম (নৌকা) আটহাজার টাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শরীফ বাদশা (আনারস) ১৫ হাজার টাকা, সাজেদুল করিম (দোয়াত-কলম) আট হাজার টাকা, নারী ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ারা কাজল (কলসি) আট হাজার টাকা ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী চশমা প্রতীকের নেওয়াজ কামালকে চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ জানান, প্রার্থীদের কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিপুল গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন করে, কেউ আবার গভীর রাতে গাড়িতে মাইক টাঙিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল বুধবার প্রার্থীদের নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। সভায় সকল প্রার্থীকে আচরণবিধি মেনে চলার আহবান জানানো হয়েছে। এতে প্রার্থীরাও নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।

উপজেলা নির্বাচনে
দ্বিতীয় ধাপে
ভোট কমেছে

উপজেলা ভোটের দ্বিতীয় ধাপের চেয়ারম্যান পদে ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা প্রথম ধাপের চেয়ে কম। গতকাল সোমবার দেশের ১৫ জেলার ১১৬ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান গতকাল বুধবার জানান, এ ধাপে চেয়ারম্যান পদে গড় ভোটের হার ৪১.২৫ শতাংশ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৯.৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে; সর্বনিম্ন ভোটের হার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ৮.৬৩ শতাংশ। খবর বিডিনিউজের
গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান পদে গড়ে ৪৩.৩২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। রাজশাহীর বাগমারায় সর্বনিম্ন ১৩.১৯ শতাংশ এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় সর্বোচ্চ ৭১.১৬ শতাংশ ভোট পড়ে প্রধম ধাপে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে; ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে এবং ১৮ জুন পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে।
প্রথম দুই ধাপে ভোটারদের তুলনামুলক কম উপস্থিতির কারণে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে ভোটের উত্তাপ সেভাবে দেখা যায়নি। বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের বর্জনে এবারের উপজেলা নির্বাচন জৌলুসহীন হয়ে পড়েছে বলে খোদ একজন নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকেই মন্তব্য এসেছে।
২০১৪ সালে সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গড়ে ৬১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০০৯ সালে ভোটের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
দ্বিতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৭৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন; এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২৩ জন। এ ধাপে জাতীয় পার্টির ২ জন ও স্বতন্ত্র ৩৮ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান পদে ৫৮ জন নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে; এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৬ জন নির্বাচিত হন। ২৩ উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।