মহাযোগী লোকনাথ বাবার ১২৮তম তিরোধান স্মরণে

অর্জুন কুমার নাথ

303

১৯ জ্যৈষ্ঠ ছিল ত্রিকালদর্শী মহাযোগী শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর বাবার ১২৮তম তিরোধান দিবস। ১৩৯৭ বাংলার (১৮৯০খ্রিঃ) এ দিনে ১৬০ বছর বয়সে তিনি ইহকাল ত্যাগ করেন। কলি যুগের পাপীতাপীদের উদ্ধারের জন্য ১১৩৭ বঙ্গাব্দে (১৭৩০ খ্রীষ্টাব্দে) শুভ জন্মাষ্টমীর দিনে পশ্চিম বাংলার উত্তর চব্বিশপরগনা জেলার বসিরহাট থানার স্বরুপনগর কচুয়া গ্রামে আবির্ভূত হন। পিতা রামকানাই ঘোষাল। মাতা কমলা দেবী। তিনি ধর্মপরায়না ও সত্য পতিব্রতা ছিলেন। কচুয়া গ্রামে বাস করতেন ভগবান গাঙ্গুলী নামের ভারতবর্ষের নামকরা এক পন্ডিত। লোকনাথের বয়স যখন ১১ বছর তখন গুরু ভগবান গাঙ্গুলী তাকে এবং তার একমাত্র বাল্য বন্ধু বেনীমাধব বন্দোপাধ্যায়কে উপনয়ন ও সন্ন্যাস দীক্ষা দেন এবং তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে গৃহত্যাগ করেন। গ্রাম্য পথ ধরে তারা কত নদ-নদী বন পার হয়ে চলেন। প্রথমে আসেন তারা কানাঘাটে, সেখান গুরু সঙ্গে থেকেই এই দুই নবীন সন্ন্যাসীর সাধনা শুরু। গুরু ভগবান গাঙ্গুলী দুই নবীন শিষ্যকে বিভিন্ন রকম যোগ শিখাইলেন। প্রথমে শিষ্যদের নানা ব্রত পালন করতে শিখান নক্তব্রত, একান্তর, ত্রিরাত্রি, পঞ্চাহ, নবরাত্রি, দ্বাদশাহ, পক্ষাহ, বারোদিন, পনেরোদিন, শেষে টানা একমাস উপবাসের পর আহার। এভাবে বিভিন্ন ব্রত উদাপনের পর তারা ছুটে যান হিমালয়ের পাদদেশে। সেখানে ভিন্ন ভিন্ন গুহার জঙ্গলে কঠিন সাধনায় অতিবাহিত করে ৯০ বছর। গুরুদেবের আদেশ ও নির্দেশ এক বাক্যে পালন করে দুই ব্রহ্মচারী হিমালয়ে থাকাকালীন প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে কঠিনতম তপস্যার মাধ্যমে লাভ করেন পরম সত্য, অর্থাৎ সিদ্ধিলাভ করেন। কিন্তু নিজের প্রচার বিমুখতার কারণে সেই কষ্টের কথা কাউকে কিছু বলে যাননি। শুধু বলতেন “মনে হয় এই বিরাট বিশ্বসৃষ্টির মধ্যে আমি ওতপ্রোত হয়ে গিছে। আমার মধ্যেই বিরাজ করছে সমগ্র সৃষ্টি, আর সমগ্র সৃষ্টির আদি ও অন্তে আমিই শাশ্বত হয়ে রয়েছি। সমাধিস্থ অবস্থায় অবস্থানকালে কত যে বরফ এই শরীরের উপর জমেছে। আবার বরফ গলে পানি হয়ে গেছে। তার খেয়াল করার মতো শরীর মনের চেতনা তখন আমার কোথায়”।
এভাবে পূর্ণ ব্রহ্মত্ব লাভের পর লোকহিতার্থে পৃথিবীর নানা দেশে পরিভ্রমণ করেন পায়ে হেঁটে। বিভিন্ন ধর্মের তত্ত্ব ও তথ্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে মক্কা-মদিনাসহ বিশ্বপরিক্রমা করেন। কাবুলে থাকার সময় মোল্লা সাদীর সাথে কোরআন শরীফ পাঠ করেন।
গুরু ভগবান গাঙ্গুলীর দেহত্যাগের সময় তার দুই শিষ্যকে নিয়ে ভারতের শ্রেষ্ঠ মহাযোগী তৈলঙ্গ স্বামীর কাছে চলে আসেন। ২০ বছর কাটান তৈলঙ্গ স্বামীর সাথে। বিশ্বপরিক্রমার পর তৈলঙ্গ স্বামীর নির্দেশে সঙ্গী বেনীমাধবকে সাথে নিয়ে ১৩৩ বছর বয়সে বাবা লোকনাথ বলে আসেন প্রথমে তিব্বতে, তিব্বত থেকে অরুনাচল, অনুনাচল থেকে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের এক গাছের নীচে ধ্যানে মগ্ন ছিলেন বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী। হঠ্যাৎ চোখ খুলে দেখেন চারিদিকে আগুনের লোলিহান শিখা। প্রচন্ড ধোঁয়ায় নিশ্বাস নিতে কষ্ঠ হচ্ছিল। অজ্ঞান হবার মুহূর্তে দেখতে পান এক দীর্ঘ দেহী জটাধারী উলঙ্গ মানুষ তাকে কোলে তুলে নিচ্ছেন। যখন জ্ঞান ফিরে পান তখন দেখেন আশে পাশে কোন জনমানব নেই। তিনি একা পাহাড়ের নীচে শুয়ে আছেন। পরবর্তী কালে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী নামী ধর্ম প্রচারক হিসাবে পরিচিত লাভ করেন। ভারত ও বাংলাদেশে তার অসংখ্য ভক্ত ছিল। তিনি যখন নারায়নগঞ্জ বারদী আসেন তখন বাবা লোকনাথকে দেখে চিনতে পারেন। তিনিই তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন। প্রচার বিমুখ বাবা লোকনাথকে তিনি সারা ভারত ও বাংলাদেশে বাবার অসামান্য যোগ শক্তির কথা প্রচার করে বেড়ান।
এই চন্দ্রনাথ পাহাড়ে তাদের ১৪০ বছরের বন্ধুত্বের চির বিদায় নিয়ে বেনীমাধব চলে যান আসামের কামাখ্যায়। আর লোকনাথ বাবা লোকহিতার্থে অবতরণ করেন সমতলে। সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ পাহাড় থেকে প্রথমে চলে আসেন দাউদকান্দি। এখানেই পরিচয় হয় বারদী গ্রাম নিবাসী ডেঙ্গু কর্মকরের সাথে। তিনি জোর করে বাবাকে নিয়ে আসেন বারদী গ্রামে। বাবা ডেঙ্গুকে বলে ছিলেন “ডেঙ্গু তুই আমাকে নিতে চাইছিস, আমি তোর সাথে যেতে চাই, কিন্তু এই লেংটা পাগলাকে তুই কিভাবে ঘরে রাখবি। লোকে তোকে ছিঃ ছিঃ করবে। সহ্য করতে পারবি? ভেবে দেখ”। তখন ডেঙ্গু বলেছিলেন- “আমি কিছুই বুঝি না, আপনাকে আমার সাথে যেতে হবে। লোকে যা বলে বলুক শুধু আপনি কথা দেন বারদী চেড়ে কোথাও যাবেন না”।
ডেঙ্গুর সাথে বাবা বলে আসেন বারদী। বারদীর লোজন বাবাকে প্রথমে চিনতে না পেরে পাগল বলে উপহাস করতে থাকে। এমনকি পাগল ভেবে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা পাথর ছুড়ে মারতো। ডেঙ্গুর পরিবারে বাবাকে নিয়ে শুরু হয় অশান্তি। বারদীর এক জমিদার নাগ পরিবার তারা বাবাকে তাদের জমিদার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাবা থাকার জায়গা বেছে নেয় ছাওয়াল বাঘিনীর নদীর পাড়ে এক শ্মশান ভূমিতে। ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই শ্মশান ভূমি। দিনের বেলায় গ্রামের মানুষ ওখানে যেতে ভয় পায়। ওখানেই বাবা নিজ হাতে নিজের জন্য তৈরি করেন ছোট এক কুটির। যা আজ সারা বিশ্বে বাবা লোকনাথের লাখ কোটি ভক্তদের কাছে মহান এক তীর্থভূমি।
আপন ভোলা এই পাগলা সন্ন্যাসকে কেউ চিনতে পারেনি। একদিন দুই ব্রাহ্মন যুবকের পৈতা প্যাঁচ লেগে গিয়েছিল, কোন মতেই খোলা যাচ্ছিল না। তখন যুবক দুই জনের অনুরোধে সন্ন্যাসী গায়ত্রী জপ করে হাততালি দিতেই পৈতার প্যাঁচ খুলে গিয়েছিল। তখন চারিদিকে এ কথা প্রচার হওয়াতে দলে দলে ভক্তবৃন্দ আসিতে লাগিল। অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন মহাপুরুষ বাবা লোকনাথ তখন “বারদী ব্রহ্মচারী” নামে পরিচিত হন। এমন একটি ঘটনার মধ্যদিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আত্ম প্রকাশ করলেন। যে ঘটনা প্রতীক হয়ে হইল, অতপর আশ্রম হলো বারদীতে। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় এই পুণ্যভূমিতে। নিজেদের দুঃখের কথা জানায় বাবা লোকনাথের কাছে।
বাবা বলতেন “ওরা বড় দুঃখী, ওরা বড় অসহায়। ছোট ছোট ওদের চাওয়াগুলো পূরণ করে দেয়ার কেউ নেই, তাই তো ওরা আমার কাছে ছুটে আসে, ওদের দুঃখের কথা কষ্টের কথা আমাকে বলতে, ওদের দুঃখের কথা আমি শুনি বলেই আমার কাছে ওদের যত আবদার, অধিকার। সংসারের কঠিন পথ চলতে চলতে ওরা ক্ষতবিক্ষত, ওদের বিশ্বাস আমিই ওদের দুঃখ দুর করে দিতে পরি”।
বারদী আশ্রমের কাছেই কমলা নামের এক বৃদ্ধা থাকতেন। সম্বল বলতে এক গরু ছাড়া কিছুই ছিল না তার। দুধ বিক্রি করে দিন চালাতেন। লোকমুখে বাবা লোকনাথের প্রশংসা শুনে এক বাটি দুধ নিয়ে বাবাকে দেখার জন্য আশ্রমে আসেন। লোকনাথ বাবা “মা” ডাকতেন বলে পরবর্তীতে কমলা “গোয়ালিনী মা” নামে পরিচিতি লাভ করেন এবং শেষ জীবন পর্যন্ত তিনি বাবার আশ্রমেই কাটান।
ঢাকায় বিক্রমপুরে তারাকন্ত গাঙ্গুলী মায়ের এক বাসিন্দা ছিলেন। আইন পেশা ও শিক্ষাকতা পেশায় জড়িত ছিলেন। লোকমুখে বাবা লোকনাথের কথা শুনে কৌতুহলবশতঃ একদিন দেখতে আসেন। বাবার সান্নিধ্য পেয়ে পরবর্তীতে তিনি তার সমস্ত বিষয় সম্পত্তি দান করে বাবার আশ্রমে চলে আসেন। বাবা নতুন নামকরণ করেন তার “ব্রহ্মানন্দ ভারতী”। তাঁর হাতেই প্রথম রচিত হয়-“লোকনাথ বাবার জীবন কাহিনী ও দর্শন”।লোকনাথ বাবা ব্রহ্মানন্দ ভারতীকে বলেছিলেন- আমি মৃত্যুর সময় অতিক্রম করে এখনো বেঁচে আছি। এ অবস্থা নিন্দ্রা আসলে আমার মৃত্যু ঘটবে। ব্রহ্মান্দ ভারতীর মতো ঢাকার আরেক জজকোটের উকিল হরিহরণ চক্রবর্তীও বাবার দর্শন করতে এসে বারদী থেকে যান। হরিহরণের গুরুভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে বাবা লোকনাথ নিজের ব্যবহৃত পাদুকা দান করেন। তিনি কাশীতে বাবা লোকনাথের নামে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
সোনারগাঁর গোবিন্দপুর নিবাসী অখিলচন্দ্র সেন, উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত এক জমিদার পুত্র। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ কেন নিঃস্ব এক শ্মশানে থাকা মানুষের কাছে ছুটে আসেন তা জানার জন্য তিনি দেখতে আসেন। দূর থেকে দাঁড়িয়ে প্রায় মাঝে মাঝে এসে দেখে যান। একদিন বাবার কাছাকাছি এসে নিজের অশান্তির কথা জানান। নিজের কারণে যেসব মানুষকে কষ্ট দিয়েছি , তাদের সে কষ্টের মোচন করার উপদেশ দেন লোকনাথ বাবা। অখিলচন্দ্র বাড়ি ফিরে গিয়ে সব সহায় সম্পত্তি গ্রামের দুঃখী মানুষের নামে দান করে দেন এবং নিঃস্ব এক কাপড়ে বাবা লোকনাথের আশ্রমে এসে উপস্থিত হন। বাবার আশীর্বাদে ও সাধনায় তিনি “সুরথনাথ ব্রহ্মচারী” নামে খ্যাতি লাভ করেন।
বারদী নিবাসী কবিরাজ রামরতন চক্রবর্তীর ছেলে জানকীনাথ। যৌবনে দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন । পিতা সন্তানকে আর বাঁচানোর আশা না দেখে বাবা লোকনাথের আশ্রমে ছেলেকে দান করে যান। বাবার সান্নিধ্যে অসুস্থ জানকীনাথ সম্পুর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেন। বাবা তাকে বারদী আশ্রমের দেখাশুনার দায়িত্ব প্রদান করেন। গুরুকৃপায় জানকীনাথ ব্রহ্মচারী এক উচ্চ সাধক হিসাবে প্রতিষ্টিত হন। বাবার নয়নের মনি ছিলেন তিনি, অসম্ভব স্নেহ করতেন জানকীনাথকে। বাবা লোকনাথের সমাধির পাশেই সমাধিস্থ হন জানকীনাথ ব্রহ্মচারী। বাবা লোকনাথের দেহত্যাগের পরে ভক্তদের মনে বাবার অভাব পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যান। কথিত আছে বাবা দেহত্যাগের আগে সমস্ত অলোকিক শক্তি জানকীনাথ ব্রহ্মচারীকে দান করে যান এবং জানকীনাথের কাছে জানানো যে কোন আর্জি সরাসরি বাবা লোকনাথের কানে পৌঁছে। বাবার সমস্ত শিষ্যের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট হলেন জানকীনাথ ব্রহ্মচারী। তাই তিনি বাবা লোকনাথের সাথে সমভাবে পূজিত হন।
বাবা লোকনাথের অন্যতম প্রধান শিষ্য ছিলেন মথুয়া মোহন চক্রবতী। শক্তি ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। প্রথম জীবনে রোয়াইল গ্রামে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে করতে আয়ুর্বেদ ঔষধের ব্যবসা শুরু করেন। ঢাকার দয়াগঞ্জে স্বামীবাগ-এ শক্তি ঔষধালয়ের ভিতরে প্রথম লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
মহাপ্রয়াণের কয়েকদিন পূর্বে বাবা ভক্তদের কাছে প্রশ্ন করে বসেন-“বল দেখি দেহ পতন হলে কিরুপ সৎকার হওয়া ভালো? বাবা ভক্তদের অগ্নিদ্বারা দগ্ধ করার নিদের্শ দান করেন এবং ১৯ জ্যৈষ্ঠ দেহ ত্যাগ করবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ১৯ জ্যৈষ্ঠ ছিল রবিবার। সকাল হতে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় বরাদীর আশ্রমে। দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে গোয়ালিনী মা বাল্য ভোগ তৈরি করে নিজ হাতে বাবা লোকনাথকে খাইয়ে দেন। লোকনাথ বাবাকে ভক্তদের কান্না শুনে ঘর থেকে বের হয়ে বলেন- “ওরে তোরা এত চিন্তায় কাতর হচ্ছিস কেন? আমি কি মরে যাবো? কেবল এই জীর্ণ পুরাতন শরীরটা পাত হবে, কিন্তু আমি আছি যেমন তোমাদের মাঝে ছিলাম ঠিক তেমনই তোদের কাছে থাকবো। আমার মৃত্যু নেই। তোরা ভক্তি বিশ্বাস নিয়ে আমাকে একটু আদর করে ডাকলে দেখবি আমি তোদের কতো কাছাকাছি আছি। এখনও শুনছি, তখনও শুনব, এ কথা মিথ্যা হবে না”।
সকল ভক্তদের খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে তিনি আসন গ্রহণ করেন। সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট। বাবার আর কোন নড়াচড়া না দেখে ভক্তরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বুঝার আর বাকি থাকল না বারদীর প্রাণপুরুষ আর নেই। শোকের ছায়া নেমে আসে বারদী আশ্রমে। সমবেত কণ্ঠে তখন উচ্চারিত হয়- জয় বাবা লোকনাথ, জয় বারদীর ব্রহ্মচারী।
লোকনাথ বাবা একজন ভক্তকে একদিন বলেছিলেন “ধার্মিক হতে চাইলে প্রতিদিন রাত্রে শোবার সময় প্রতি দিনের কর্মের হিসাব নিকাশ করবে। অর্থাৎ ভালকর্ম কি কি করেছিস এবং মন্দ কর্ম কি কি করেছিস তা চিন্তা করে মন্দ কর্ম আর যাতে করতে না হয় সেজন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হবি।” শুধু সুখের সময় নয়, রণে বনে জলে জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়িবে আমাকে স্মরণ করিও, আমিই রক্ষা করিব। এই চিরসত্য বাণীই আজ সাধারণ মানুষের অভয়মন্ত্র। শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর একটি ছবি যার ঘরে আছে তাঁর কখনো অভাব হবে না, যার কাছে একটি ছবি রয়েছে তিনি যে কোন বিপদ থেকে উদ্ধার পাবেন- একথা সর্বাংশে সত্য।

লেখক : প্রাবন্ধিক