মহাকাশে মাপজোকের নানা মানদন্ড

51

পৃথিবীর বুকে বসে বিশ্বব্রহ্মান্ডের বিশালত্ব সম্পর্কে ধারণা করা সত্যি কঠিন। বিশেষ করে বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তুর মধ্যে দূরত্ব মাপা বড় চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীরা সেই লক্ষ্যে কিছু কৌশল প্রয়োগ করেন।
মহাকাশে দূরত্ব মাপার উপায় কী? মাইল বা কিলোমিটারের মতো পরিচিত মাপকাঠি দিয়ে আমাদের সৌরজগতে মাপজোক করা সম্ভব নয়।
গত কয়েক দশকে আমরা সৌরজগতের সীমানার বাইরেও মহাকাশযান পাঠিয়েছি। এমনকি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের মহাজাগতিক বস্তু, অর্থাৎ প্রায় ৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে চাঁদের বুকে মানুষ পা রেখেছে। প্রায় দেড়শো কোটি কিলোমিটার দূরে শনিগ্রহের সঙ্গে তুলনা করলে সেই দূরত্ব অবশ্য কিছুই নয়।
কখনো যদি আমাদের সবচেয়ে কাছের সৌরজগতে যেতে হয়, তার জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ কোটি কিলোমিটার পাড়ি দিতে হবে। সেই দূরত্ব অতিক্রম করতে আলোর প্রায় ৩ বছর সময় লাগবে। বিশ্বব্রহ্মান্ডে আলো একই গতিতে এগিয়ে যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাই সেই সময়কে মানদন্ড হিসেবে স্থির করেই দূরত্বের বর্ণনা দেন।
সেইসঙ্গে তথাকথিত ‘প্যারালাক্স’ পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁরা দূরত্ব মাপেন। সে ক্ষেত্রে তাঁরা কোনো বিশেষ নক্ষত্রের কোণ মাপেন। ৬ মাস পর আবার নতুন করে সেই মাপ নেওয়া হয়। ত্রিকোণমিতির সাহায্যে তাঁরা অঙ্ক কষে পৃথিবী থেকে সেই নক্ষত্রের দূরত্ব নির্ণয় করেন। তবে এই প্রক্রিয়া শুধু অপেক্ষাকৃত কাছের অঞ্চলে প্রয়োগ করা সম্ভব। অর্থাৎ প্রায় ১৫০ আলোকবর্ষ পর্যন্ত দূরত্বে তা কার্যকর হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মিল্কি ওয়ে ছায়াপথেরআয়তন অথবা আমাদের প্রতিবেশী ছায়াপথের সঙ্গে দূরত্ব মাপতে চাইলে অন্য মাপকাঠির প্রয়োজন হয়। তার পোশাকি নাম ‘সেফাইড’ অর্থাৎ যে সব নক্ষত্রের মিটমিটে আলোর বিকিরণের সঠিক পরিমাণ জানা আছে, সেগুলিই মাপকাঠি হয়ে ওঠে। সেগুলিকে মান নির্ণায়ক মোমবাতিও বলা হয়। ‘সেফাইড’ থেকে যে পরিমাণ আলো টেলিস্কোপে ধরা পড়ে, তা বিচার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দূরত্ব মাপতে পারেন। নির্দিষ্ট ধরনের বিস্ফোরণরত নক্ষত্র আরও উজ্জ্বল মান নির্ণায়ক মোমবাতি।
মহাকাশে হাবল টেলিস্কোপে দৃশ্যমান ব্রহ্মান্ডের প্রান্ত পর্যন্ত আলোর এই সব উৎস ধরা পড়ে। একটি ছবিতে এমন সব গ্যালাক্সি দেখা যাচ্ছে, যেগুলি পৃথিবী থেকে প্রায় ১,৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে। এত দূরের কোনো দৃশ্য সত্যি বিরল। সূত্র : ইন্টারনেট