দুই মেধাবীর আর্তনাদ

মসৃণ করো মোদের স্বপ্নের সিঁড়ি

দাউদ বাঁচতে চায়

32

এই যে নিশুতি রাত। সবার ঘুমের আয়োজন শেষ। কেউ ঘুমিয়েছে অনেক্ষণ আগে। দাউদ এখনো বসে আছে। খাটের উপর কুন্ডলী পাকিয়ে সে বসে বসে ঘুমুচ্ছে। আমাদের জন্য এটা ঘুম নয়। দাউদের জন্য এটাই ঘুম। আমাদের মতো করে শেষ কবে বিচানায় গা এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়েছে সে নিজেও জানে না। একটু খানি শুতে গেলেই তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। মেরুদন্ডে ভীষণ অসুখ তার। ভুগছে বহু বছর ধরে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী দাউদ বাতজ্বরে আক্রান্ত হয় সেই ক্লাস সেভেনে থাকতে। তার বাবা ছিলেন দিনমজুর। চার বছর বয়সে সেই অভাবী বাবাটাও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সুবিধাবঞ্চিত দাউদ দারিদ্রতা আর অসুস্থতাকে জয় করে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পায়। এইচএসসি পরীরক্ষার সময় তার অসুখ আরো বেড়ে যায়। শুয়ে শুয়ে পরীক্ষা দিতে হয় তাকে। অল্পের জন্য এপ্লাস পাওয়া হয়নি তার। জীবন যেখানে বিপন্ন, পাশ করাটাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ সেখানেও সে কৃতিত্ব দেখিয়েছে। ভার্সিটি এডমিশনের সময় সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে ভর্তি ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখনকার মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. এবিএম আবদুল্লাহর অধীনে প্রায় মাস খানেক হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, প্রতিদিন দুধ ডিমসহ ভালো খাবার খেতে। বলেছিলেন স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে মাসে অন্তত চার হাজার টাকার বেশি খাবার খেতে। অথচ দাউদের একবেলা খাবারই ছিল অনিশ্চিত। কয়েক বছরে দাউদ আরও অসুস্থ হয়ে গেলো। অনার্স থার্ড ইয়ারের সময় দাউদ কুঁজো হয়ে যেতে লাগলো। অনেকের সহযোগিতায় তাকে ভারতে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলো। বিশেষ লাভ হলো না। গত ছ’মাস আগে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের ডাক্তার বলেছেন দ্রুত সার্জারী করতে।
ডাক্তারের হিসেবে হাসপাতালে খরচ হবে বাংলাদেশি টাকায় ১২ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে তার চিকিৎসার ব্যয় অন্তত পক্ষে ২০ লক্ষ টাকা। দ্রুত চিকিৎসা না হলে দাউদের মেরুদন্ড যেকোন মুহুর্তে কলাপস হয়ে যেতে পারে। যে কোন সময়ই তার ঘাড় থেকে মাথাটা ছিঁড়ে যেতে পারে। এই মেধাবী ছেলেটা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। এই সীমাহীন অসুস্থতা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স বিভাগ থেকে অনার্সে ৬ষ্ঠ হয়েছে। মাস্টার্স পরীক্ষার সময় হলে কয়েকবার বমি করে দিয়েছিলো। এই মেধাবীর চিকিৎসায় বিভাগের শিক্ষকরা নিজেরা টাকা তুলেছেন। এখনো শিক্ষক শুভাকাঙ্খীরা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাকে বাঁচাতে প্রয়োজন বিশ লক্ষ টাকা। এ বিশাল অঙ্কের টাকার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
সাহায্য পাঠানোর জন্য-
মো. দাউদ নবী, সঞ্চয়ী হিসাব নং ১৩৩১ ৫১০০৭৯ ৪৭৫, ডিবিবিএল, মুরাদপুর শাখা চট্টগ্রাম।
মো. দাউদ নবী, সঞ্চয়ী হিসাব নং ০২৬১ ২১০০১৬ ৭৮০৮, এক্সিম ব্যাংক সিডিএ এভিনিউ শাখা, চট্টগ্রাম।
বিকাশ ০১৬৪০৮৩৫৮৩৬ (পারসোনাল) রকেট ০১৮৩৭৬৮৫৫৬৩। (সূত্র : দৈনিক যুগান্তর)