মশা মারতে কামান দাগানো! ঔষধের গুণগত মান ও তদারকি প্রয়োজন

14

শীত মৌসুমে মশার উপদ্রব কম থাকলেও এবার অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে বেড়ে গেছে মশা। সন্ধ্যা থেকে রাত, এমনকি দিনেও নিস্তার নেই মশার কামড় থেকে। ফুটপাত থেকে বাসাবাড়িসব জায়গায় এখন মশার উপদ্রব। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী। খবর নিয়ে জানা গেছে, বিকাল থেকে রাত অবধি খোলা জায়গায় বা বাসা-বাড়িতে বসা যায় না, ঘুমানো যায় না। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে মানুষ। বাসায় মশা থেকে বাঁচতে অনেকে দুপুর থেকে দরজা-জানালা সব বন্ধ করে রাখছেন। তারপরও মশার অসহ্য যন্ত্রণা থেকে পার পাওয়া যাচ্ছে না। মশার উপদ্রব বাড়লেও সিটি কর্পোরেশন মশক নিধনে ঔষধ ছিটাচ্ছে, কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এ ঔষধ ছিটানোর পর কিছুক্ষণ মশার উপদ্রব কমলেও আবারও শশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উয়ে উঠে নগরবাসী। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রকাশিত দৈনিক পূর্বদেশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের এক দৈনিক পত্রিকায় ১৫ দনিরে মধ্যে ৩বার ঔষধ ছিটানোর পরও মশার উপদ্রব কমেনি। কৌতুহলি প্রতিবেদক এবষিয়টি খতিয়ে দেখতে ঔষধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে মশার ঔষধ সরবরাহ করে। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ঔষধ সংগ্রহ করে ঢাকা (দক্ষিণ) সিটি কর্পোরেশন। গত বছর ঢাকায় ছিটানোর মশার ঔষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ এবং সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। প্রশ্নবিদ্ধ সেই একই প্রতিষ্ঠানের ঔষধ চট্টগ্রামে কতটা কার্যকর হবে? তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। এমনকি সিটি কর্পোরেশনও তার কার্যকারিতা যাচাইয়ে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ ও ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান দুইটি মশার ঔষধ পরীক্ষা করার ল্যাব নেই বলে সিটি কর্পোরেশনকে। এছাড়া চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর ৩ ফুটের চেয়ে বড় অনেকগুলো খাল-নালা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার এ উদ্যোগ নগরবাসী কর্তৃক প্রশংসিত হলেও খবর নিয়ে জানা যায়, এসব খাল ও নালা পরিষ্কারের দায়িত্ব চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। কিন্তু চসিক এ কাজ করতে গিয়ে বিদ্যমান জনবলের উপর চাপ বেড়েছে। ফলে ছোট নালাগুলো পরিষ্কার কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। যার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে অনেকগুণ। এরবাইরে, আধুনিত যন্ত্রপাতির অভাব, জনবলের অপ্রতুরতা, আমলাকান্ত্রিক জটিরতা ও করোনা মহামারির কারণে ঠিক সময়ে নির্বাচন না হওয়ায় কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ড পর্যায়ে থমকে গেছে মশা নিধনে নিয়মিত মনিটরিং। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্র বলছে, গত চারমাসে প্রথমধাপে ১৫ হাজার লিটার, দ্বিতীয়ধাপে ১৬ হাজার লিটার কালো তেল কিনেছে সংস্থাটি। সর্বশেষ আরও ১৬ হাজার লিটারের চাহিদা দিয়েছে পরিচ্ছন্ন বিভাগ। এছাড়া ১১০টি ফগার মেশিনের মধ্যে ৩৫টি নষ্ট হয়েছে কেনার এক বছরের মাথায়। ৪১টি ওয়ার্ডে চারজন করে পরিচ্ছন্নকর্মী রয়েছে, যারা মশার ঔষধ ছিটানোর দায়িত্ব পালন করেন। এ হিসেবে ৪১ ওয়ার্ডে এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করার কথা ১৬৪ জন। যা ৬০ লাখ নগরবাসীর জন্য যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আর ঔষধ মজুদের বিষয়ে জানা যায়, এডালটিসাইড প্রায় শেষ। নতুন করে ১০ হাজার লিটার কিনতে প্রস্তাব করা হয়েছে। লার্ভিসাইট রয়েছে আরও ৭ হাজার লিটার।। এদিকে নগরবাসীকে মশার কামড় থেকে বাঁচাতে জল-স্থল সব জায়গায় মশাল ঔষধ ছিটাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। ফগার মেশিনে এডালটিসাইড, বদ্ধ জলাশয়ে লার্ভিসাইড ছিটানোর পাশাপাশি কালো তেলও যোগ করেছে সংস্থাটি। তবুও মশার উপদ্রব কমছে না। কাজ আর ফলাফলে মিল না থাকায় সংস্থাটির বিশেষ কর্মসূচিতেও আস্থা হারাচ্ছে মানুষ। এমনকি সাধারণ মানুষ মনে করছে, লোক দেখানো কর্মকাÐে মরছে না মশা। সুতরাং এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। মশা মারার নামে কামান দাগানো হচ্ছে, আর তাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছেম বাস্তবে এর কোন সুফল নগরবাসী পাবেনা, তা হতে পারে না। সুতরাং নগর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। মশা মারতে কামান দাগানোর নামে কি হচ্ছে, ঔষধের গুণগত মান ও সঠিকভাবে মশার ঔষধ ছিটানো হচ্ছে কিনা তা তদারক করতে হবে। তবেই মশা নিয়ে স্থায়ী সমাধানের পথ উন্মোচন হতে পারে।