মন্ত্রীদের বেতন-ভাতা আটকানোর পক্ষে শ্রীলঙ্কার এমপিদের ভোট

4

মন্ত্রীদের বেতন এবং ভ্রমণ ভাতা আটকানোর পক্ষে ভোট দিয়েছে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট সদস্যরা। তবে বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের মন্ত্রিসভার সদস্যদের ওপর এটি কিভাবে কার্যকর হবে তা এখনও পরিস্কার নয়। মন্ত্রীদের বেতন-ভাতা আটকানোর ওই প্রস্তাব শুক্রবার ২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টে ১২২-০ ভোটে পাস হয়। মাহিন্দা রাজাপাকসের মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই ভোট বয়কট করে। বৃহস্পতিবার একই রকম অপর এক ভোটাভুটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাজেট কমানো হয়।
গত মাসে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করে রাজাপাকসেকে নিয়োগ দিলে শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। এর মধ্যে দুইবার পার্লামেন্ট রাজাপাকসেকে বহিস্কার করলেও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। পার্লামেন্টে সংখাগরিষ্ঠতা না থাকার পরও পদ ধরে রাখা রাজাপাকসের ওপর নতুন এই ভোটাভুটি নৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। নিজেকে বহিস্কার করা অবৈধ বলে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছাড়তে অস্বীকার করে আসছেন বিক্রমাসিংহে। রাজাপাকসের অনুগত এমপিরা শুক্রবারের ভোটাভুটি বর্জন করে। তাদের দাবি এই ভোটাভুটি অবৈধ। পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া বলেছেন, মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, এবং প্রতিমন্ত্রীদের বেতন-ভাতা স্থগিতের প্রস্তাব পাস হয়েছে। এর আগে তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়কে জানাবেন। শীর্ষ সরকারি কর্মচারিদের বেতন ভাতা আটকাতে ওই প্রস্তাব আনা হয়েছিল।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, এই পদক্ষেপ আসলে কিভাবে কার্যকর হবে তা পরিস্কার নয়। কারণ এটি কার্যকর করতে যেসব ধাপ পার হতে হয় তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বৃহস্পতিবারের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় রাজাপাকসের অনুগতরা ওই ভোটাভুটিকে অবৈধ ঘোষণা করে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাজাপাকসের বিতর্কিত সরকারের মন্ত্রী অনুরা প্রিয়দর্শনা বলেন, ‘আজকের এই পদক্ষেপ অবৈধ আর আমার বিষয়টি স্পিকারকেও জানিয়েছি। এধরণের অবৈধ প্রক্রিয়ায় আমরা অংশ নেব না।