মধ্য অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার : কাদের

পূর্বদেশ ডেস্ক

10

একাদশ জাতীয় সংসদের জন্য অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে আকারে ছোট একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এতথ্য জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। এই সরকারে বাইরের কেউ আসবে না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি, টেকনোক্রেট কেউ আসবে না, আকারটা ছোট হবে।
তবে জাতীয় পার্টি তাদের দু-একজন আরও অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছে, অনুরোধ করেছে। সেটাও প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, তিনি কতটা বিবেচনা করবেন, সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এগুলো আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে।
মন্ত্রিসভার আকার গতবারের কাছাকাছি হবে বলে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগ গতবারের মতো জোটগত নির্বাচন করবে কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবে। বিএনপি যদি আসে তাহলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসনবণ্টন, সমঝোতা হবে। সবকিছু নির্ভর করছে মেরুকরণ কীভাবে হবে, সেভাবেই অ্যালায়েন্সের সমীকরণ হবে। খবর বিডিনিউজের
আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে একেএম শামীম ওসমানের নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কাদের বলেন, এ ধরনের তালিকা শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ জানেন না।
বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য নেই দাবি করে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে দলটির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দেওয়া হয়েছে তা সফল হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, বিএনপির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলে। তাদের নিজের ঘরেই তো ঐক্য নেই। তারা নিজেদের অফিসেই একে অন্যকে সরকারের এজেন্ট বলে। যারা নিজেরা ঘরেই ঐক্যবদ্ধ নয়। তারা কিভাবে জাতীয় ঐক্য গড়বে?
আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে বড় দল। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এদেশে জাতীয় ঐক্য কীভাবে হয়? আর আওয়ামী লীগ না থাকলে অন্য অনেক দলও তাদের সঙ্গে যাবে না। আসলে তারা জাতীয় ঐক্যের নামে সা¤প্রদায়িক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।তাদের আন্দোলন গত ১০ বছরে হয় নাই, আর আগামী দুই মাসেও হবে না।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নামে বিএনপি রাজনীতি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এর আগে খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তার নিয়ে তারা রাজনীতি করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা বলছে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চাই। তার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।
গণমাধ্যমের একটি অংশ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কাজে উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের।
কোটাবিরোধী আন্দোলনে দেখেছি, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে দেখেছি। বিএনপি মাঠে না থাকলেও মিডিয়ার একটা অংশ তারা আন্দোলন করছে। অথবা আন্দোলনে উস্কানি দিচ্ছে।
নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে নিজের উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে ‘কিছু মিডিয়া’ উদ্দেশ্যমূলকভাবে সমালোচনা করেছে বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস চিলাহাটি পর্যন্ত যায়। ওই ট্রেনে যাত্রী ছিল সাড়ে ছয়শো। আমরা ছিলাম সত্তর জনের মতো। পথে পথে যেসব স্টেশনে থামে, সেখানে যাত্রী নেমে গেছে আবার উঠেছে। যখনই রাস্তায় রেলস্টেশনে নেমেছি, তখন যাত্রীরাও অনেকে গিয়ে শামিল হয়েছে। এই যে দুর্ভোগ বলেন, কয়জন যাত্রীর দুর্ভোগ হয়েছে?
অথচ পল্টনে তিনটি রাস্তা বন্ধ করে যে বিএনপি সমাবেশ হয়েছে তাতে কয় লাখ লোকের দুর্ভোগ হয়েছে।