মডার্নার করোনাভাইরাস টিকা পরীক্ষা জাগাচ্ছে আশার আলো

13

যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক কোম্পানি মডার্নার করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের প্রারম্ভিক ফল ইতিবাচক বলে জানানো হয়েছে। এই টিকা তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে মর্ডানা। মডার্নার চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. টাল জাকস সোমবার সিএনএনকে বলেছেন, আগামী পরীক্ষাগুলোতেও ঠিকঠাক ফল এলে আগামী জানুয়ারি নাগাদ তাদের টিকা সর্বসাধারনের জন্য চলে আসতে পারে।
“এটা প্রকৃত অর্থে দারুন খবর এবং এটা এমন খবর যে আমরা মনে করি অনেক বেশ কিছু দিন ধরে এর অপেক্ষায় ছিলেন।” মডার্নার এই টিকা পরীক্ষামূলকভাবে গত মার্চে মানুষের শরীরে প্রথম প্রবেশ করানো হয়। প্রথম পর্যায়ের এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরে টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনের দেহে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে যে ফল পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে এই ঘোষণা দিয়েছে মর্ডানা।
পরীক্ষার এই ধাপে দেখা হয়, টিকা মানুষের জন্য নিরাপদ কি না এবং সেটি শরীরে ওই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে কি না। মডার্নার বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে সব ভলান্টিয়ারের ওপর টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে এবং সেগুলো ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে তা ভাইরাসের বংশবিস্তার ঠৈকিয়ে দিতে সক্ষম, যা কোনো কার্যকর টিকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ওই আটজনের প্রত্যেকের শরীরেই করোনাভাইরাসের ‘নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি’ এমন মাত্রায় তৈরি হয়েছে, যা এই ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের দেহে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির সমান বা তার চেয়ে বেশি।
নিউট্রালাইজিং অ্যান্ডিবডিগুলো ভাইরাসকে আটকে ফেলে সেটিকে মানব দেহে আক্রমণের জন্য বিকল করে দেয়। মর্ডানার জাকস বলেন, “আমরা এই অ্যান্টিবডিগুলো দেখিয়েছি, এই প্রতিরোধ ক্ষমতা, এটা সত্যিকারে ভাইরাসটিকে আটকে দিতে পারে। “আমি মনে করি, আমাদের টিকা পাওয়ার যাত্রায় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ।”