বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে ডা. শাহাদাত

মঈন-ফখরুদ্দিনের মতই তারা মাইনাস হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

20
  1. চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, যে দেশের প্রধান বিচারপতি সুবিচার পান না, সেখানে কোনো নাগরিকের সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নেই। তারেক রহমান ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দেশবাসী এ রায়কে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র করছে তারাই জেনারেল মঈন-ফখরুদ্দিনের মত মাইনাস হয়ে যাবে।
    গতকাল বৃহস্পতিবার নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে ২১ আগস্ট হামলা মামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের সাজা দেয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেনেড হামলার রায় দিয়েছে। তারেক রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেনেড হামলা মামলার যে রায় দেওয়া হয়েছে তা ছিল ফরমায়েশি। সরকার আদালতকে ব্যবহার করে তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করেছে। যেমনটি বেগম
    খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে। ডা. শাহাদাত বলেন, মুফতি হান্নান প্রথম দফায় যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন সেখানে তারেক রহমানের নাম বলেননি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারেক রহমানকে এ মামলায় ফাঁসানোর জন্য নীলনকশা শুরু করে। মুফতি হান্নানকে ২য় দফায় দীর্ঘদিন রিমান্ডে রেখে নির্যাতন করে তথাকথিত ২য় স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এ মামলায় ২২৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, একজনও বলেননি তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা এ ঘটনায় সম্পৃক্ত। মুফতি হান্নানকে দীর্ঘদিন রিমান্ডে নির্যাতন করার পরও বলেছেন কোনোদিন তার সাথে তারেক রহমানের দেখা হয়নি। বিএনপি এই রায়কে আইনগত এবং রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে।
    নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়েছে। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দেশের জনগণ এই ফরমায়েশি রায় মেনে নেয়নি।
    তিনি বলেন, কোন সাক্ষী তারেক রহমান বা বিএনপির কোনো নেতার নাম পর্যন্ত বলেননি। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাও রায়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সম্মান ক্ষুণœ করতেই এই অপকৌশল। ষড়যন্ত্র করে বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করো যাবে না। দেশের মানুষ সরকারের ষড়যন্ত্র বুঝে গেছে। আর বিএনপিও অবৈধ সরকারের কোনো ষড়যন্ত্রে পা দিবে না। সরকার বিএনপিকে মামলার জালে ফেলে আর একটি একতরফা নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে তা কখনো দেশের জনগণ পূরণ হতে দেবে না। বিএনপি সময়মত দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে অবৈধ সরকারের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজপথে নামবে। জনগণের অধিকার আদায় করে নির্বাচনে যাবে।
    কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ হারুন বলেছেন, তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়েছে। এ মামলায় তিনি ন্যায়বিচার পাননি। তারেক রহমান কোনো অন্যায় করেননি। তিনি এদেশে গণতন্ত্র রক্ষা, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে এদেশের বর্তমান নৈরাজ্যকর অবস্থার অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
    চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেছেন, তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এ রায় জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক এবং সরকার তার একদলীয় শাসন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অতি শীঘ্রই তারেক রহমানসহ বিএনপির অন্যান্য নেতারা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।
    সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, হাজী মোহাম্মদ আলী, এডভোকেট আবদুস সাত্তার, সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কি, হারুন জামান, ছৈয়দ আহমদ, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, ইকবাল চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মীর্জা, আবদুল মান্নান, মনজুর আলম মঞ্জু, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ শিহাব উদ্দিন আলম, সহ-সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গির আলম, হামিদ হোসাইন, দিদারুল আলম চৌধুরী, মনজুর রহমান চৌধুরী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, সাইফুর রহমান, হানিফ সওদাগর, মো. সেকান্দর, ডা, নুরুল আবছার, সরফরাজ কাদের রাসেল, নগর মহিলা দলের সভাপতি কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান প্রমুখ।