ব্রেক্সিট ইস্যু

ভোটে আবারও হারলেন মে

14

যুক্তরাজ্যে পার্লামেন্টের ভোটে এমপি’রা আরো একবার প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল শুক্রবারের ভোটে চুক্তির পক্ষে পড়েছে ২৮৬ এবং বিপক্ষে পড়েছে ৩৪৪ ভোট। এতে আরো অনিশ্চয়তায় পড়ল যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা।
ব্রেক্সিট কখন হতে পারবে বা আদৌ যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে কিনা তা এখন পুরোপুরি অস্পষ্ট হয়ে পড়ল। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য এ ভোটটিকেই শেষ সুযোগ বলে পার্লামেন্টকে জানিয়েছিলেন মে। খবর বিডিনিউজের
এখন ভোটে চুক্তিটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরিণতি গুরুতর হবে বলেই মন্তব্য করেছেন মে। ব্রেক্সিট সম্পন্ন করার জন্য হাতে সময় আছে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। তার মানে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে প্রয়োজনীয় আইন তৈরির যথেষ্ট সময় এখন আর পাওয়া যাবে না বলেই জানিয়েছেন মে।
তিনি বলেছেন, আমি মনে করি হাউজের প্রতিটি সদস্যের জন্যই এটি খুবই গভীর পরিতাপের বিষয় যে, আমরা আবারো সুশৃঙ্খলভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়েছি। হাউজের এ সিদ্ধান্তের পরিণতি খুবই গুরুতর। আপাতত ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার জন্য হাতে সময় আছে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। অর্থাৎ, মাত্র ১৪ দিন। কোনো কিছুতে সম্মত হওয়া, কোনো আইন করা কিংবা কোনো চুক্তি অনুমোদ করার জন্য এ সময় যথেষ্ট নয়। আর হাউজও এটি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, তারা চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট অনুমোদন করবে না। সেই কারণে আমাদেরকে সামনে আগানোর একটি বিকল্প পন্থায় একমত হতে হবে বলে জানান মে।
ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এমপি’রা এ প্রক্রিয়ায় দেরীর জন্য ইইউ এর বেঁধে দেওয়া সময়সীমা যেমন ঠিক রাখতে পারলেন না, তেমনি একটি চুক্তির আওতায় ২২ মে তে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করার সুযোগও হাতছাড়া করলেন।
কমন্সে এখনো চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে রয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপি। ফলে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে সোমবার ফের আরো ভোট অনুষ্ঠান করবেন এমপি’রা এবং যুক্তরাজ্যকে একটি বিকল্প খুঁজে পেতে হবে বলে জানিয়েছেন মে।
ওদিকে, মে’র ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে চ‚ড়ান্তভাবে পরাজিত হয়েছে মন্তব্য করে তার ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ব্রেক্সিটপন্থি কনজারভেটিভদের ইউরোপীয় রিসার্চ গ্রুপের ডেপুটি চেয়ারম্যান স্টিভ বেকার। তিনি বলেন, চুক্তি পাস হয়নি। এটি পাস হবেও না। এখন মে’র উচিত নতুন নেতা আসার পথ করে দেওয়া, যিনি একটি ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করাতে পারবেন।
যুক্তরাজ্যের বিরোধীদলীয় লেবার নেতা জেরেমি করবিনও প্রধানমন্ত্রী মে’কে পদত্যাগ করে একটি নির্বাচন দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।