ভোক্তা অধিকার দিবসের সভায় বক্তারা

ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে সচেতনতার বিকল্প নেই

4

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমরা সকলেই ভোক্তা। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাছে পণ্যের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি, ওজনে কম দেয়া, অনুমোদনহীন খাবার পানি, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজারজাতকরণ, গরুর মাংস বলে মহিষের মাংস দেয়া, হোটেল-রেস্তোরায় পঁচা ও বাসি খাবার পরিবেশন করে ভোক্তাদের সাথে নিয়মিত প্রতারণা করে আসছে। জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পরও ভেজাল ও অবৈধ ব্যবসা থামছে না। শুধু মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদন্ড দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। মোবাইল কোর্ট পরবর্তী অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারসহ নিত্যপণ্য সঠিক ওজনে ও মানে ভোক্তারা পাচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকিতে রাখতে হবে। সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ, সরকারের ভিশন বাস্তবায়নসহ ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে হলে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই’।
গতকাল রবিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত বিশ^ ভোক্তা অধিকার দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার-সুরক্ষিত ভোক্তা-অধিকার’।
বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ প্রণয়ন করেন। নিরাপদ পণ্য বা সেবা নিশ্চিতকরণ, প্রতারণা রোধ, ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা এবং ভোক্তা-অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি এ আইনের উদ্দেশ্য। আমরা যদি নৈতিক চরিত্রবান ও মূল্যবোধগুলো প্রতিষ্ঠা করতে না পারি তাহলে ভোক্তারা কখনো আস্থাশীল হবে না। সরকারের ডিজিটাল সেবা, ভোক্তাদের নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার আস্থাশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হতে হবে। ভোক্তারা যাতে প্রতারণার শিকার না হয় সে বিষয়টির দিকে নজর রেখে পাড়া-মহল্লাসহ সর্বত্র প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা সচেতন না হলে ভেজাল খাবার ও ওষুধ পণ্য বিক্রি রোধ করা সম্ভব হবে না। তাই ভোক্তা অধিকার বাস্তবায়ন করতে হলে নিয়মিত বাজার মনিটরিং, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও নিয়মিত তদারকির বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হতে হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ জানান, বিগত ২০১৯ সাল থেকে চলতি ২০১০ সালের ২৯ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত সময়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে মোট ২ হাজার ১২৭টি অভিযোগ আসে। তন্মধ্যে নিস্পত্তি করা হয় ২ হাজার ৪৭টি এবং জরিমানা আদায় করা হয় ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার ২’শ টাকা। ৭৬(৪) ধারা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ হারে অভিযোগকারীকে প্রদান করা হয় ৯ লাখ ৩১ হাজার ৭৫০ টাকা। আরো ৮০টি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও ক্যাব চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে দিবসটির মূল তাৎপর্য উপস্থাপন করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর এবিএম আবু নোমান, ক্যাব কেন্দ্রীয় ভাইস-প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন, দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নী জেনারেল অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম, আনসার-ভিডিপি’র পরিচালক মো. আজিম উদ্দিন, সিভয়েস অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক এম. নাসিরুল হক ও সিএমপি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবদুর রউফ। আলোচনায় অংশ নেন বনফুল লিমিটেড’র জিএম আমানুল আলম, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি আবদুল মান্নান, ক্যাব সদস্য জানে আলম, সায়েরা বানু, তৌহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ক্যাব, উইমেন চেম্বার, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ট্রেডবডি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ অংশ নেন। সভার পূর্বে সকাল সাড়ে ৯ টায় বেলুন উড়িয়ে বিশ^ ভোক্তা অধিকার দিবসের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপি ট্রাক-শো শহর প্রদক্ষিণ করে। বিজ্ঞপ্তি