ভুল চিকিৎসায় শিশু রাইফার মৃত্যুতে ক্যাবের নিন্দা

25

বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে দৈনিক সমকালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুবেল খানের মেয়ে রাইফার ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্যাব চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ। তারা এক বিবৃতিতে জানান, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সকে থানায় নিয়ে যান পুলিশ। কিন্তু পরবর্তীতে থানায় উপস্থিত হয়ে বিএমএ চট্টগ্রামের এক নেতার জোরপূর্বক হস্তক্ষেপের কারণে ডাক্তার ও নার্সকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। চট্টগ্রামের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর দায়িত্বহীন আচরণ, ভুল চিকিৎসার কারণে প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। কিছুদিন আগেও এক চিকিৎসক দম্পতির সন্তানকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছিলো। পরে আর একজন দম্পতির নবজাতককে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়াসহ এ ধরনের নানা অপকর্মে জড়িত হলেও সেখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বিএমএ নেতৃবৃন্দ এ সমস্ত অপরাধের কোন সুষ্ঠু বিচার করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। রোগীরা ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবেহেলায় মারা গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ পাওয়া মৌলিক অধিকার। যা রাষ্ট্র একজন নাগরিককে দিয়েছে। সেখানে একজন নাগরিকের সে অধিকার খর্ব করার হীন প্রয়াস শুধু মাত্র নিন্দনীয় নয় এটা চরম বর্বরতার সামিল। এ অবস্থায় রাইফা খানের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দায়িদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহন এবং মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করার প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও নগর কমিটি। নগরে বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু পরবর্তীতে চিকিৎসককে থানায় আটক ও সেখান থেকে বিএমএ নেতার হস্তক্ষেপে জোরপুর্বক ছাড়িয়ে নিয়ে আসার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বেসরকারি ক্লিনিকগুলির দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে চলে গেছে যেখানে কোন রোগী বা তার আত্নীয়স্বজনরা প্রতিবাদ বা প্রতিকার চাইতে পারে না। কারণ ক্লিনিকগুলি পরিচালিত হয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)’র তত্ত্বাবধানে। স্বাস্থ্যখাতে সরকারি স্বাস্থ্যবিভাগের কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি নাই। যাবতীয় হকুম তালিম করেন বিএমএ। আর স্বাস্থ্য খাতে যাবতীয় ব্যবসা বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রন তাদেরই হাতে। সে কারণে সাধারণ জনগণ তাদের কাছে পুরোপুরি জিম্মি। নেতৃবৃন্দ বলেন, চিকিৎসা পেশা একটি মহান পেশা হলেও বর্তমানে কিছু চিকিৎসক এ মহান পেশাকে কাজে লাগিয়ে দিনে দিনে কোটিপতি হবার বাসনায় লিপ্ত। ফলে রোগীর সেবা, মানবতার সেবার চেয়ে অর্থই তাদের কাছে মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও সুযোগ সুবিধা থাকলেও রোগীরা সেখানে ন্যুনতম চিকিৎসা সেবা পান না। রোগীদেরকে ক্লিনিক ও চেম্বারে যেতে পারমর্শ প্রদান করা হয়। আর যে কোন মানুষ রোগাক্রান্ত হলেই আগে পরামর্শ দেয়া হয় প্যাথলজিকাল টেস্ট ও অপারেশন। কারণ এতে তাদের লাভ বেশি। ফলে প্যাথলজিকাল ল্যাবগুলি ব্যাঙের ছাতার মতো শহর, গ্রাম সর্বত্র ছাড়িয়ে পড়েছে। আর ক্লিনিকগুলি নামমাত্র সেবা দিয়ে গলা কাটা বিল আদায় করছে। বিএমএসহ সরকার ও বিরোধীদলের সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলির দৌরাত্ম্য, একচেটিয়া প্রভাবের কারণে এখানে রোগীদের মানম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কোন প্রকার নজরদারি করার সাহস পর্যন্ত নেই। ফলে মানুষ অসহায় হয়ে পাশের দেশে চিকিৎসার জন্য ভিড় জমাচ্ছে।
নেতৃবন্দ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেক্টরে এ ধরণের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বেসরকারি ক্লিনিক, প্যাথলজিকাল ল্যাবসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সকল প্রতিষ্ঠানে বিএমএ এর হস্তক্ষেপ এর বাইরে কঠোর নজরদারির দাবি জানান। স্বাস্থ্য সেক্টরে কমিশন প্রথা, উপহার প্রথা বাতিলসহ, চিকিৎসক সুরক্ষা আইনের পরিবর্তে, সত্যিকারের রোগী সুরক্ষায় কঠোর আইনী প্রতিকার এবং সিবিএ সংগঠনের মতো বিএমএর অযাচিত হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন বিএমএর এর দাবির প্রেক্ষিতে বিগত জেলা প্রশাসকের দায়িত্বপালনকালীন সময় থেকে বেসরকারি ক্লিনিক, প্যাথলজিক্যাল ল্যাব এমনকি ফামের্সীগুলিতে পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অঘোষিত ভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে এ সমস্ত খাতে নাগরিক ভোগান্তির কোন প্রতিকার দেশে সম্ভব হচ্ছে না। সাধারণ জনগণ পুরোপুরি স্বাস্থ্য খাতে তাদের হাতে জিম্মি। সভ্য সমাজে এ ধরনের ঘটনা বিস্তার পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি