বাঘাইছড়ির ৩ স্কুলছাত্রের জবানবন্দী

ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ৩ দফা ধর্ষণ

95

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে একই বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। ধর্ষণকালে প্রতিবার ভিডিও চিত্র ধারণ করে তারা। প্রথমবার ধারণ করা ধর্ষণের ভিডিও চিত্র প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ছাত্রীটিকে আরও দুইবার পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। পুলিশের কাছে দেয়া প্রাথমিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা এসব তথ্য দেয় বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাঘাইছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম।
পুলিশ জানায়, বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের সর্দার পাড়ায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে। বুধবার সন্ধ্যায় আমতলীর পাবলাখালী বাজার এলাকা হতে ধর্ষকদের আটক করে পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে বাঘাইছড়ি থানায় দায়ের করা মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার থানা থেকে চালান দিয়ে বিকালে রাঙামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা আলীর আদালতে তোলা হয়। আদালতে আসামিরা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করলে আদালত আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন। আসামিরা হল আমতলী ইউনিয়নের সর্দার পাড়ার বাসিন্দা আবদুস সালামের ছেলে মো. নাঈম হোসেন (১৮), মুজিবুর রহমানের ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (১৮) ও মৃত আবদুল জলিলের ছেলে মো. হাফিজ উল্লাহ রাহিদ (১৮)। আসামি তিনজনেই আমতলী উচ্চবিদ্যালয় হতে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ধর্ষিতাও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শুক্রবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ধর্ষিতাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিন ধর্ষক মিলে ছাত্রীটিকে প্রথমবার ধর্ষণ করে ২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর। এদিন সকালের দিকে ধর্মীয় শিক্ষার পর বাড়ি ফিরছিল ধর্ষিতা। এ সময় গতিরোধ করে তাকে ডেকে নিয়ে যায় হাফিজ উল্ল্যাহ। এরপর পাশের সেগুন বাগানে নিয়ে হাত, পা বেধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তিনজন। প্রথমে ধর্ষণ করে নাঈম। ধর্ষণ চিত্র মোবাইলে ধারণ করে অপর দুইজন। পরে ধর্ষণ করে ফরহাদ এবং শেষে হাফিজ উল্ল্যাহ। ধর্ষণের সব চিত্র মোবাইলে ধারণ করে তারা। পরে তা প্রকাশ করে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আরও দু’বার ধর্ষণ করে। সবশেষ ধর্ষণের ঘটনাাটি ঘটে বুধবার বিকালে। এর পরপরই নিজেরা ধর্ষণের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাড়ে। এতে ঘটনাটি ফাঁস হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তিন ধর্ষককে আটক করে পুলিশ। ভিডিও চিত্র ধারণ করা মোবাইলও উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে লজ্জায় ও ধর্ষকদের হুমকিতে ধর্ষিতা ঘটনাটি কাউকে জানাতে পারেনি বলে জানায় তার পরিবার। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বাঘাইছড়ি থানায় বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নম্বর-১ তারিখ: ০১/০২/১৮) করেছেন ধর্ষিতার বাবা আবদুর রউফ। এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে রাঙামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পর্ণোগ্রাফি আইনে এফআইআর (নম্বর ৮(১) তারিখ:০১/০২/১৮) রুজু করা হয় বলে জানায় আদালত সূত্র। বিকালে আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি নেয়া হয়।