ভাষা শহীদদের স্মরণে ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দলের রক্তমাখা বর্ণমালা

32

মহানভাষা আন্দোলন ও ভাষা সৈনিকদের স্মরণে ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দলের ধারাবাহিক আয়োজনের ষষ্ঠ পর্ব গত বৃহস্পতিবার নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দল বৃন্দ আবৃত্তি ‘রক্তঝরা ফাগুন’ পরিবেশন করে। যার গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন আবৃত্তি শিল্পী ও অধ্যাপক দেবাশিস রুদ্র। এরপর সম্মানিত অতিথি ও আলোচক বৃন্দের উপস্থিতিতে ভাষা সৈনিক ডা. ছৈয়দুর রহমান চৈৗধুরীও সকল ভাষা সৈনিকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দল এবারের আয়োজনটি উৎসর্গ করে সম্প্রতি প্রয়াত ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. ছৈয়দুর রহমান চৈৗধুরীকে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা, নাসিরুদ্দীন চৌধুরী, ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দলের উপদেষ্টা ড. সাজিদ হোসেন, ভাসা সৈনিক ডা. ছৈয়দুর রহমান চৌধুরীর পুত্র সাইফুর রহমান চৌধুরী ও সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠক তাপস হোড়। আলোচনা পর্বে অতিথিবৃন্দ বলেন, মাতৃভাষা র্চচা শুধুমাত্র কিছু বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পালন করলে হবে না। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চলন, বলন ও মননে তার প্রয়োগ থাকতে হবে।
পৃথিবীর বুকে আমরাই একমাত্র জাতি, যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছি। তাই এর যথাযথ সম্মান রক্ষা করতে হবে। অন্যান্য ভাষার চর্চা আমরা অবশ্যই করবো, কিন্তু কখনো মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে নয়। বক্তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমি মাতৃভাষার কথা বলে গলা ফাটালাম, কিন্তু আমার সন্তানকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ালাম এবং পাশ্চাত্য সাংস্কৃতিক পরিবেশে গড়ে তুললাম, তাহলে তা হবে স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত এবং দেশ ও মাতৃভাষার সাথে প্রতারণা। তাই বাঙালির শেকড় ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে হলে সবার আগে সব ক্ষেত্রে মাতৃভাষার প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত কবি হিসেবে কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি খালিদ আহসান ও অনুপমা অপরাজিতা। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে আমন্ত্রিত সংগঠন ‘প্রমিতি সাংস্কৃতিক একাডেমি ও স্বদেশ আবৃত্তি সংগঠন। সবশেষে একুশের প্রথম কবিতার জনক কবি মাহবুবুল আলম চৌধুরীর কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি কবিতাটি আবৃত্তি শিল্পী সুপ্রিয়া চৌধুরীর কন্ঠে চমৎকার পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের যবনিকা ঘটে।