ভাষাসৈনিক শিক্ষাবিদ আবুল কালাম আজাদ স্মরণে

রনজিত কুমার দে

5

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শত বর্ষের ইতিহাসে, যে মহান নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের নাম বারবার আলোচনায় উঠে আসে তিনি হলেন উনিশ’শ বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের প্রথম সারির সংগঠক ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ভাষাসৈনিক, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জি.এস, তমদ্দুন মজলিশ ও মুকুল ফৌজ নেতা, স্কাউট লিডার, ক্রীড়াসংগঠক ও সমাজসেবী প্রয়াত আবুল কালাম আজাদ স্যার। গাছবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি আজীবন নিরলসভাবে শিক্ষাসেবা দিয়ে গেছেন। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, এমনকি নিজ উপার্জিত অর্থব্যয় করে বিভিন্ন আঞ্চলিক পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্টে বিদ্যালয়ের খেলোয়াড় নিয়ে খেলে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। শিক্ষকতাকে পেশা নয়, নেশা হিসেবে নিয়েছিলেন বলেই অর্থ, পদ, ক্ষমতা, বিত্ত ইত্যাদির মোহ এড়িয়ে জাতি গঠনের মহান দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছিলেন। অথচ বিনিময়ে কিছুই চাননি এবং পাননিও।
চট্টগ্রামের প্রবীণ শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবী প্রয়াত আবুল কালাম আজাদ স্যার এ বিদ্যালয়ের অন্ততঃ চল্লিশটি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে আজো উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত ভাস্বর হয়ে আছেন। বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে নিঃস্বার্থ, নির্লোভ এরকম একজন শিক্ষকের মর্যাদা কতোটুকু উচ্চ পর্যায়ের তা ভাবাই অসম্ভব। বলতে গেলে বিরলই বটে। গাছবাড়িয়া স্কুল পার্শ্ববর্তী উত্তর হাসিমপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম আবদুল আজিজ ও রশীদা খাতুনের পুত্র আবুল কালাম আজাদ এর লেখাপড়ায় হাতেখড়ি বাড়িতেই। পরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার রাঙামাটি গভর্মেন্ট হাই স্কুলে তাঁর আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া। এ বিদ্যালয় থেকে ইংরেজি মাধ্যমে ১৯৪৪ সনে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন তিনি। বিদ্যালয় পঞ্চায়েত এর নেতা ও সদস্য ছিলেন। রাঙামাটি জেলার তৎকালীন (ব্রিটিশ নাগরিক) জেলা প্রশাসক স্যার নিবলেট সাহেব তাঁকে খুবই ভালবাসতেন। ইংরেজি ভাষায় আবৃত্তি, বিতর্ক, বক্তৃতা ইত্যাদিতে তিনি দক্ষ ছিলেন, আবার, কৃতি এথলেট ও চৌকষ স্কাউটও ছিলেন। রাঙামাটির ডি.সি স্যার নিবলেট সাহেব তাঁকে ‘আজাদ’ নামে অভিহিত করেন। ম্যাট্রিক পাসের পর তিনি ডাক্তারি পড়ার মানসে তৎকালীন চট্টগ্রাম মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হয়ে কিছুদিন পড়ালেখা করেন। বাংলাদেশের খ্যাতিমান চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ মরহুম এম এ ওয়াদুদ এর সহপাঠি ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করে তা বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে আই এ ক্লাসে ভর্তি হন। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নবাগতদের পক্ষে বক্তৃতা মঞ্চে গিয়ে দেড় ঘণ্টা অনর্গল ইংরেজিতে বক্তৃতা দিয়ে ছাত্র-শিক্ষক অতিথিদেরকে চমকে দেন। ক্রমে কলেজ অঙ্গনের প্রিয়মুখ আবুল কালাম আজাদ মুসলিম হোস্টেলের ম্যাগাজিন ও ডিবেট সেক্রেটারী নির্বাচিত হন। প্রিন্সিপ্যাল আবু হেনা সাহেব তাঁকে খুব স্নেহ করতেন। তাছাড়া সকল অধ্যাপকরা ও তাকে ভালবাসতেন। ১৯৪৮ সালে তমদ্দুন মজলিশ এ যোগ দেন এবং চট্টগ্রাম শাখার ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৯ সালে বি,এ-ক্লাসের ছাত্র হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র সংসদের জি এস নির্বাচিত হন। প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম সাহেব তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের তরুণ প্রভাষক। ভাষা আন্দোলনে তাঁর একনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চট্টগ্রামের আবুল কালাম আজাদ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখেন। ‘সৈনিক’ পত্রিকা প্রকাশের জন্য যাদু প্রদর্শনীর মাধ্যমে টাকা তুলে (তহবিল গঠন করে) কাসেম সাহেবের হাতে দেন। তাঁর নির্দেশে ১৯৫২ সালের ১৯ ফেব্রæয়ারি রাতে তিনি কেন্দ্রিয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচিতে যোগ দিতে, ঢাকা পৌঁেছন, তাঁর ভাই প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ সোলায়মান এবং বন্ধু ডক্টর মাহফুজুল হক তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ২১ফেব্রæয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশে যোগ দেন এবং পরে ছাত্র ধর্মঘট সফল করতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলে যোগ দেন। পুলিশের গুলি, লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে মাতৃভাষার মর্যাদার দাবিতে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন আজাদ স্যার। প্রথমে মুসলিম ছাত্র লীগ, পরে ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা আবুল কালাম আজাদ ১৯৫২ সালে বি.এ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে এলএলবি অধ্যয়ন করেন। ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতির তিনি সংগঠক ছিলেন দীর্ঘদিন। মাওলানা ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিব প্রমুখের নেতৃত্বে কাজ করেছেন যুক্তফ্রন্টে। শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের শুরুতে ঢাকা জিনজিরা আপগ্রেড ইনস্টিটিউটে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া দেওদীঘি খাসমহাল উচ্চ বিদ্যালয়, পটিয়ার (পরে চন্দনাইশ) বৈলতলী (ছিদ্দিক মিয়া) উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। আবার রাঙ্গুনিয়া খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর রাঙ্গুনিয়া হাইস্কুলেও তিনি প্রধান শিক্ষক ছিলেন বেশ কিছুদিন। তাঁর এলাকার গাছবাড়িয়া স্কুলের তদানীন্তন পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ চাইছিলেন তাঁকে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে আনার জন্য। কিন্তু মাঝে মাঝে ক্লাশ নিতেন তিনি। প্রয়াত গিরিজা শংকর বাবু, বিনোদ বিহারী দত্ত এবং মোঃ ইছহাক প্রমুখ প্রধান শিক্ষকেরা তাঁকে যথেষ্ট সম্মান করতেন। ১৯৫৬-৫৭ সনে ও তিনি এই স্কুলে পড়িয়েছেন। এ সময় প্রয়াত সাহিত্যিক আহমদ ছফা, সাবেক মন্ত্রী অলি আহমদ বীর বিক্রম প্রমুখ তাঁর ছাত্র ছিলেন। চট্টগ্রামে একজন ব্যতিক্রমধর্মী ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে তাঁর খ্যাতি তখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সাবেক এম.এন.এ ও প্রবীণ আইনজীবি এডভোকেট আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ এলাকাবাসীর অনুরোধে তিনি এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। প্রধান শিক্ষকের পদ নিতে রাজী হননি। তবে বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে তিনিই ছিলেন নিরলস কর্মী ও নেতৃত্বদানকারী।
সময়-নিষ্ঠ, সৎ ও আন্তরিক শিক্ষক হিসেবে তাঁর তুলনা ছিল না। তাই সবার কাছে তিনি ছিলেন আদর্শ ব্যক্তিত্ব। স্কাউটিং সংগঠক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। ক্রীড়া ও শরীর চর্চা ইত্যাদির দায়িত্বে ও শ্রদ্ধেয় আজাদ সাহেব ছিলেন নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী। ফুটবল, ভলিবল, ইত্যাদি খেলাধুলায় ছিলেন খেলোয়াড়দের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বিশেষ করে আবৃত্তি, সংগীত বিতর্ক, নাটক ইত্যাদিতে ও তাঁর নির্দেশনা ও পরিচালনা ছিল খুবই প্রাণবন্ত। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত প্রায় বছর জোন এর খেলায় খেলোয়াড়দের একমাত্র ভরসা ছিল মরহুম আজাদ স্যার, একেকটি খেলায় যা টাকা খরচ সবই তার পকেট থেকে যেতো। শেষ বছর (৬৫) একটি টুর্নামেন্ট (পটিয়ার মাঠে) এগারদিন চলেছিল। ফাইনাল খেলা-য় বাইরের বেশ ক’জন খেলোয়াড় দিয়ে খেলতে হয়। সব খেলোয়াড়ের গাড়ি ভাড়া, যাওয়া-আসা, খাওয়া দাওয়া খরচ করতে গিয়ে কয়েক হাজার টাকা তাঁকে দিতে হয়। সাউথ প্িটয়া কালচারাল এসোসিয়েশনের ফাইনাল খেলাটি ছয়দিন ড্র হয়ে পরে শেষ হয়েছিল। স্কাউট টিম এর সদস্যদেরও নিজ পকেট থেকে টাকা দিয়ে খাওয়াতেন। জাম্বুরীতে নিয়ে যেতেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অর্থাভাবে খেলার খরচ চালাতে পারেননি, তাই আজাদ স্যার নিজের ব্যয়ে খেলা চালান। শ্রেণিকক্ষে তিনি কেমন পড়াতেন? প্রাক্তন ছাত্রদের মতে, আজাদ স্যারের মত ইংরেজি জানা লোক কমই ছিল। গ্রামার, সাহিত্য-ইতিহাস পৌরনীতি-ইত্যাদি বিষয়ে তিনি ছিলেন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। ফলে তাঁরা বেশ লাভবান হতেন। লেখাতেন বেশী। হাতেকলমে শিক্ষার উপর জোর দিতেন। আমি যখন তাঁর ছাত্র হিসেবে বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছিলাম তিনি আমাদের ক্লাসে বিভিন্ন ধরনের শ্লোক বলতেন- ‘কালি কলম মন, লিখে তিনজন’ এবং বলতেন ‘মুখের মজা, পেটের সাজা” অর্থাৎ বেশি মিষ্টি জাতীয় জিনিস খেলে পেটের অসুখ বাড়ে। নৈতিক শিক্ষাকে তিনি মানুষ গড়ার একমাত্র উপযোগী মনে করতেন। দুষ্টু ও অমনোযোগী ছাত্রদের কড়া শাসনে রাখতেন। অত্যন্ত সাহসী, মেজাজী এবং চট্পটে লোক ছিলেন। তবে টাকা পয়সার লোভ করতেন না। এক রকম টাকা ছাড়াই অনেক ছাত্রকে প্রাইভেট পড়াতেন। সাবেক মন্ত্রী ড.অলি আহমদের মতে, তাঁর শিক্ষক মরহুম আবুল কালাম আজাদ স্যার তাঁর অন্যতম অনুকরণীয় আদর্শ শিক্ষক। প্রিন্সিপাল ছাদেক স্যারের মতে, শিক্ষক আজাদ সাহেব ছিলেন অনন্য প্রতিভার অধিকারী উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আজাদ স্যারের মত নিঃস্বার্থ, নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক বর্তমানে বিরল। বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও ভাষা বিজ্ঞানী, শুবাচ (শুদ্ধ বানান চর্চা) প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমীন তাঁর প্রকাশিত ‘স্যমন্তক’ উপন্যাসে আবুল কালাম আজাদ স্যারের একটি ছড়া উল্লেখ করেছেন- ‘নোয়াখালীর মজুমদার, কুমিল্লার রায়, চট্টগ্রামের চৌধুরী জলে ভেসে যায়’।
উল্লেখ্য, বয়স ষাট বছর পূর্ণ হওয়ার সরকারি বেতন বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি অবসর নেননি। নাম মাত্র (৫৬৯.৭০ টাকা) বেতনেই শিক্ষাসেবা দিয়ে গেছেন। এভাবে আরো ছয়/সাত বছর এ বিদ্যালয়ে ছিলেন। সর্বশেষ, ১৯৯৫ সালে ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে গেলে আর আসতে পারেননি। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীরা তার বিদায়ের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু তিনি ছাত্রছাত্রীদের থেকে বিদায় নেননি। তিনি বলেন, এ বিদ্যালয় থেকে তিনি বিদায় নেবেন না। যতদিন বেঁচে থাকবেন এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবেই বাঁচবেন। তৎকালীন কমিটির সদস্যরা তাঁকে মাসিক আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাও দিতে পারেননি। ভীষণ আত্মসম্মানবোধ এবং ব্যক্তিত্বের অধিকারী শিক্ষক সৃষ্টিকর্তার সাহায্য ব্যতিরেকে কারো করুণার পাত্র হননি তিনি।ভাগ্যের নির্মমতা, সরকারি ভাবেও কোন অবসর সুবিধা কিংবা বেসরকারি কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও কোন আর্থিক সুবিধা বরাদ্দ তিনি পাননি। নেননি কোন বয়স্ক ভাতাও। অর্থাভাবে, বার্ধক্য জনিত কারণে দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। তাঁর একমাত্র সন্তান শাহজাহান আজাদ ১৯৯৩ সাল থেকে জোয়ারা বি.সি হাই স্কুলে শিক্ষকতায় যোগ দেন। পরে ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে এ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেলে তিনি খুশী হয়েছিলেন কিন্তু মাত্র ক’বছর পর ২০০০ সালের ১১ এপ্রিল আদর্শ শিক্ষকও মহান ভাষাসংগ্রামী, দেশপ্রেমিক আবুল কালাম আজাদ স্যার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ পরিচালনা পরিষদ, ছাত্রছাত্রী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ও সমগ্র এলাকার মানুষ শোকার্ত হয়ে পড়ে। সাথে সাথে বিদ্যালয় ছুটি দেয়া হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এবং পরে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। বিদ্যালয় একদিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করার মাধ্যমে তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে তাঁর কবরে ফুলের শ্রদ্ধার্ঘ্য অপর্ণ করা হয়। উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত প্রতি বছরই বিদ্যালয়ে তাঁর স্মরণে সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত স্মৃতি সংসদ ও আবুল কালাম আজাদ এডুকেশন সোসাইটির উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে পুরস্কৃত করা হয়। বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষকেরা, এই শিক্ষকের উপর মূল্যবান আলোচনায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। তাঁর সন্তান শাহজাহান আজাদ তাঁর নামে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন। তবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উচিত এই মহান শিক্ষকের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখার উদ্যোগ নেয়া। তাঁর নামে বিদ্যালয়ের কোন একটি নিদর্শন থাকা ও জরুরি। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা চাইলে তাঁর স্মৃতিকে আরো উজ্জ্বল করার পদক্ষেপ নিতে পারেন। শতবর্ষের ব্যতিক্রমধর্মী নিবেদিতপ্রাণ এই শিক্ষক বেঁচে থাকবেন শত সহস্র প্রাক্তন শিক্ষার্থীর হৃদয়ে। ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা প্রয়াত শিক্ষক ও ভাষাসৈনিক আবুল কালাম আজাদ স্যারকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
তথ্যসূত্র : ‘ভাষা সংগ্রামী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ’ -আহমদ মমতাজ : দৈনিক আজাদী ১১ এপ্রিল ২০১৬
‘ভাষা আন্দোলনের অজানা ইতিহাস‘ -শামসুল আরেফিন : দৈনিক পূর্বকোণ ।
‘অবহেলিত ভাষা সৈনিক আবুল কালাম আজাদ’ -আহমদ মমতাজ : সাপ্তাহিক চট্টলা ২১ ফেব্রæয়ারি ২০১২

লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, প্রাবন্ধিক