অ ন্য খ ব র

ভালো ঘুমের রহস্য কী?

বিবিসি বাংলা

11

আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি, আমাদের মস্তিষ্ক তখন স্মৃতি ও তথ্য সংরক্ষণ করে। শরীর ক্ষতিকারক উপাদানগুলো সরিয়ে ফেলে সব ঠিকঠাক করে যাতে জাগার পরে শরীর আবার ঠিকমত কাজ করতে পারে।
একটুখানি ঘুমের অভাবও আমাদের ভালো থাকা না থাকাকে অনেকখানি প্রভাবিত করে। অনেকেই আছেন যারা এক রাত না ঘুমালেই একদম ভেঙে পড়েন। তিন রাত না ঘুমালে আমাদের কর্মক্ষমতা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।
এক গবেষণা বলছে, কেউ টানা ১৭ থেকে ১৯ ঘণ্টা জেগে থাকলে যে ধরনের প্রভাব পড়ে, অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলেও মস্তিষ্কে একই ধরনের প্রভাব পড়ে। সময়ের সাথে সাথে এ ক্ষতির মাত্রা বাড়তে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ১১ দিন না ঘুমানোর ফলে আচরণ ও কাজে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। মনোযোগ ও শর্ট টাইম মেমোরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, হেলুসিনেশন হয়, এমনকি মস্তিষ্ক বিকৃতিও হয়।
বিজ্ঞানীরা বরাবরই যথেষ্ট ঘুমের ওপরে জোর দিয়ে আসছে। ঘুমের ক্ষেত্রে আলোর প্রভাব কতটা জরুরি তা হয়ত কিছুটা আড়ালেই রয়ে গেছে।
আলোর ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হল, এটি আমাদের চোখের বিশেষ আলোক সেন্সরের সাহায্যে আমাদের দেহঘড়ি বা বডি ক্লক নির্ধারণ করে।
মানুষের চোখ যে কোনো পরিবেশে আলো এবং অন্ধকার চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী শরীরে ২৪ ঘণ্টা পর পর শারীরিক কার্যক্রম চালু ও বন্ধ হওয়া নির্ধারণ করে। কারো চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার বডি ক্লক ও নষ্ট হয়ে যায়, ফলে ঘুমাতে সমস্যা হয়।
২৪ ঘণ্টা অন্ধকারে থাকলে বা আলোর সংস্পর্শে না আসলেও মানুষের বডি ক্লকে সামান্যই পরিবর্তন হয়। গবেষণা বলছে, সেক্ষেত্রে আধ বা এক ঘণ্টা এদিক-ওদিক হতে পারে।
ঘুমের ক্ষেত্রে আলোর প্রভাবের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ জেট লেগ। আপনি প্লেনে চড়ে ভিন্ন টাইম জোনের কোনো দেশে যাওয়ার পরে দেখবেন আপনার শরীর ধীরে ধীরে ওই দেশের টাইম জোনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। কয়েকদিন যাবার পরেই দেখবেন রাতের বেলা আপনি ঘুমাতে পারছেন, দিনে জেগে থাকতে পারছেন।
১৮০০ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই বাইরে কাজ করত। ফলে সরাসরি আলোর সংস্পর্শে থাকত। এখনকার অফিসগুলোতে মানুষ বুঝতেই পারে না কোনদিকে বেলা গড়াল আর কখন সূর্য ডুবল। কারণ বেশিরভাগ মানুষের কর্মক্ষেত্রই এখন দালানের ভেতরে। বাইরের কাজ, যেমন মাছ ধরা বা কৃষিকাজ, আমেরিকার মোট চাকরির মোটে ১ শতাংশ।
যেহেতু আমরা দীর্ঘসময় ধরে সূর্যের আলো বঞ্চিত হচ্ছি, এর প্রভাব পড়ছে আমাদের ঘুমের ওপরে তথাপি আমাদের ভালো থাকার ওপরে। সূর্যের আলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই জরুরি। কার, কী মাত্রায় আলো দরকার তা হয়ত ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে কোনো সংশয় নেই যে অধিকাংশ দালানের ভেতরে আলোর যে ব্যবস্থা আছে তা আমাদের শরীরের জন্য পর্যাপ্ত নয়।
পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর অভাবে ইউরোপের ২-৮ শতাংশ মানুষ এক ধরনের ডিপ্রেশনে ভুগছে যার নাম সিজনাল ইফেক্টিভ ডিসঅর্ডার। এমন আরো অনেক এলাকা আছে যেখানে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
যারা রাতের বেলা কাজ করেন তাদের জন্য আলোর বিষয়টি আরো গুরুতর। তাদেরকে এমন সময় কাজ করতে হয় যখন তাদের শরীর চায় ঘুমাতে। ওই সময় শরীর কোনো ধরনের মাথা খাটাতে বা সতর্ক থাকতে চায় না অথচ সেটাই করতে হয়। যারা রাতে কাজ করে তারা হয়ত দিনে একটু ঘুমিয়ে রাতের ঘুমের অভাব পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। কারণ সাধারণত তারা দিনের বেলা অল্প সময়ের জন্য ঘুমায় আর ঘুম তত গভীরও হয় না।
তাদের যখন জেগে থাকার কথা তারা তখন ঘুমায়, যখন ঘুমানোর কথা তখন জেগে থাকে আর এ কারণে তাদের স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাতে কাজ করার সাময় প্রভাব হল, তথ্য-উপাত্ত ঠিকভাবে বুঝতে না পারা, মনে রাখতে না পারা আর কিছু আচরণিক অস্বাভাবিকতা। রাতে কাজ করার বেশ মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আছে। সবচেয়ে ভয়ানক হল এর ফলে ছয় বছর পর্যন্ত আয়ু কমে যেতে পারে।
নাইট শিফটে কাজ করা ৯৭ শতাংশ লোক কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়। যত বছর ধরেই তারা কাজ করুক না কেন। তারা তাদের শারীরবৃত্ত পরিবর্তন করতে পারে না। অফিসে যত আলোই থাকুক না কেন তা কখনোই দিনের আলোর সমকক্ষ নয়। অফিসের কৃত্রিম আলোর চেয়ে দিনের স্বাভাবিক আলো ২৫০ গুণ প্রখর।
রাতের শিফট শেষ করে তারা যখন বাসায় যায় তখন তাদের শরীর সকালের আলোর সংস্পর্শে আসে। এই আলো তাদের শরীরে এই সংকেত পৌঁছায় যে এখন জাগার সময় হয়েছে।
হার্ভাডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের শিফটে কাজ করা লোকজনের অনেকে নিশাচর হয়ে যান। তারা কিছুতেই দিনের আলোয় বের হতে চান না। তবে অধিকাংশ মানুষের জন্য এটি কোনো বাস্তব সমাধান নয়।
অধিকাংশ নার্সিং হোমে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পৌঁছায় না। বেশিরভাগ হোমের ভেতরেই হালকা আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বাসিন্দারা পর্যাপ্ত সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হন। এসব নার্সিং হোমের বাসিন্দাদের ঘুমের সমস্যা হওয়াটা খুবই সাধারণ ঘটনা। এক ডাচ গবেষণায় নার্সিং হোমগুলোর বেডরুম অন্ধকার রেখে বাকি জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ফলে, সেখানকার বাসিন্দাদের দিনের বেলা ঝিমানোর সময় কমে, রাতের বেলা ঘুমানোর সময় বেড়ে যায়। তাদের মানসিক সামর্থ্য ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। আলোর অভাবের বিষয়টি শুধু আলোর পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। এর সাথে সময়ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সন্ধ্যার মৃদু আলো আমাদের বডি ক্লকের বিলম্ব ঘটায় ফলে পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়। সকালে আলো বডি ক্লক এগিয়ে আনে। ফলে সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা যায়।
যখন মানুষ বাইরে কাজ করত তখন এটা কোনো সমস্যা ছিল না। সন্ধ্যার আলো ঘুমের যে দেরি ঘটাতো, সকালের আলো সে সময়টা এগিয়ে নিতো। কিন্তু এখন খুব কম লোকই সকাল ও সন্ধ্যার আলো দুটোরই সংস্পর্শে আসে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি ভালো উদাহরণ যারা সকালে একটু দেরিতে দিন শুরু করে আর সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইরে থাকে। সন্ধ্যার আলো তাদের বডি ক্লক পিছিয়ে দেয়। মানে তারা দেরিতে ঘুমায় এবং দেরিতে ওঠে। বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে এ বিষয়টি সংহত হয়। ফলে বডি ক্লক প্রায় দুই ঘণ্টা পিছিয়ে যায়।
ধূমপান, মদ্যপান কিংবা অরক্ষিত যৌন মিলনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে যত আলোচনা করা হয়, ঘুমানোর প্রয়োজনীয়তা এবং এক্ষেত্রে আলোর ভূমিকা নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয় না।
ঘুম নিয়ে পর্যাপ্ত আলাপ আলোচনা হলে মানুষ এ বিষয়ে আরো সচেতন হতে পারত। পর্যাপ্ত আলো পাওয়া, দিনের আলো ও সন্ধ্যার আলোর সংস্পর্শে আসার বিষয়ে সতর্ক হত। নীতিনির্ধারকরাও বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজের সময়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার সময় নির্ধারণ করতে পারতেন।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে যতটা কম পারা যায় আলোর সংস্পর্শে আসা আর সকালের আলোতে যত বেশি থাকা যায় ততই আপনার ভালো ঘুম হবে। এবং একই সময়ে ঘুমাতে পারবেন।

৩৪ জায়গা থেকে ওয়াসার
পানি পরীক্ষার নির্দেশ

রাজধানীর ৩৪টি পয়েন্ট থেকে ঢাকা ওয়াসার পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। পানি পরীক্ষার জন্য আদালতের নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের কমিটিকে ২ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
হাই কোর্ট বলেছে, আইসিডিডিআরবি, বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসোলেশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে ওয়াসার পানির ওই নমুনা পরীক্ষা করতে হবে।
প্রতিটি নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার টাকা খরচ ধরে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ওয়াসাকে দিতে বলা হয়েছে। আর স্থানীয় সরকার সচিবকে বলা হয়েছে ওয়াসার কাছ থেকে এ টাকা আদায় করে দিতে।
আদেশে আদালত চারটি উৎস (বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা, ভূ-গর্ভস্থ ও ভূমিস্থ), ১০টি বিতরণ জোন (যা মডস জোন নামে পরিচিত) এবং গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে বলেছে।
পানি পরীক্ষার ব্যয় সংকোচন ও সার্বিক চিত্র পাওয়ার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান আদালতে তার মতামত তুলে ধরার পর গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি
এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। খবর বিডিনিউজের
অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান আদালতের নির্দেশে গঠিত ওয়াসার পানি পরীক্ষা কমিটিরও সদস্য। অন্য সদস্যরা হলেন আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মনিরুল আলম ও বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান। স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব এ কমিটির আহ্বায়ক।
এদিনে আদালতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রিটকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে গত বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত তিন মাসে ওয়াসার হট লাইনে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি মডস জোনের ৫৯টি এলাকার পানিতে ময়লা থাকার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়। ওয়াসার ১০টি জোনের প্রত্যেক এলাকা থেকে ৩৫৫টি নমুনা সংগ্রহ করে তিনটি ল্যাবরেটরিতে রোগজীবাণু ও ভৌত রাসায়নিক পরীক্ষা করতে মোট ৭৫ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হবে বলে সেদিন হিসাব দিয়েছিল ওয়াসা।
এরপর হাই কোর্ট পানি পরীক্ষার ব্যয় সংকোচন ও পরীক্ষা পদ্ধতির বিষয়ে মতামত দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের (মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্ট) চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানকে আদালতে আসতে বলে। এর ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক সাবিতা গতকাল মঙ্গলবার হাই কোর্টে উপস্থিত হয়ে তার মতামত তুলে ধরেন।
শুনানির এক পর্যায়ে বিচারক বলেন, ‘মূলত বেশি বাজেটের বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাচ্ছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য দূষিত পানি সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে। কেন এটা সাপ্লাই হচ্ছে? এটা এক্সামিনের জন্য। এ এক্সামিনে এত লার্জ স্কেল কেন? স্যাম্পল কিভাবে নেওয়া হবে। মূলত পরীক্ষায় খরচ কিভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে জানতে আপনাকে আসতে বলেছিলাম’।
জবাবে অধ্যাপক সাবিতা বলেন, পানি দূষিত- এমন ঢালাও অভিযোগের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে সুপেয় পানিতে কোনো রকম রং, গন্ধ বা অস্বচ্ছতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সুপেয় পানি সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এসব লক্ষণ থাকলে অভিযোগ কেন্দ্রে আনা পানির নমুনা চূড়ান্তভাবে অগ্রহণযোগ্য বিবেচনায় কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার সংযোগ যেখানে ছিল ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৪টি, বর্তমানে তা বেড়ে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ১৭৭টি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে পানিতে ময়লা দেখা যাচ্ছে বা ঘোলা, সেটাতো পরীক্ষার দরকার নেই। সেটা রিজেক্টেড। যেটা সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, এমন পরিষ্কার পানি পরীক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হবে; যা পান করে কোনো এলাকার রোগ ছড়াবার তথ্য মেলে’। দূষণের প্রকৃত চিত্র পাওয়ার জন্য অভিযোগ আছে এমন এলাকার পানি সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা করার ওপর জোর দেন অণুজীব বিজ্ঞানের এই অধ্যাপক।
তিনি বলেন, ওয়াসা ৫৯টি এলাকার পানি নিয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা কয়েক মাস আগের। ওয়াসার পানির উৎস হলো ভূমিস্থ, ভূগর্ভস্থ, শীতলক্ষ্যা বা বুড়িগঙ্গা নদী। এসব উৎসের পানির ধরণ ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে পারে। ঢাকা ওয়াসার ১০টি জোনের ৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৪৩টি আউটলেট আছে ধরে আমরা ইতোমধ্যে জানিয়েছি, ৯৯ ভাগ আস্থা অর্জন করতে হলে ১৫ হাজার ৮৫৮টি আউটলেট পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অন্তত ৯৫ ভাগ আস্থা অর্জন করতে হলেও ১ হাজার ৬৫টি আউটলেট পরীক্ষা করা আবশ্যক।
আদালত তখন জানতে চায়, চারটি উৎস, বিতরণের ১০টি জোন, দৈবচয়ন ভিত্তিতে দশটি এলাকা এবং ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পানির নমুনা করলেও মোট ৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করতে হব; তাতে মোট কত টাকা খরচ হতে পারে? জবাবে অধ্যাপক সাবিতা বলেন, প্রতি স্যাম্পলে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হবে। সে ক্ষেত্রে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হবে।
আদেশের পরে অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে যে পানি সুপেয়, দুই দিন পরে কোনো রকম জটিলতার কারণে সে পানি সুপেয় নাও থাকতে পারে। সে কারণে এককালীন পরীক্ষা করে পানির বিষয়টি সমাধান করা যাবে না। পানি সুপেয় না হলে যেটা করণীর সেটার ওপর জোর দিতে হবে। পাইপ লাইনে সংস্কার, কিংবা পানির মান উন্নয়ন’।
বাংলাদেশের পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, স্বাস্থ্যবিধি ও দারিদ্র্য নিয়ে সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিবেদন ও প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশিত খবর যুক্ত করে গত বছর ১৪ অক্টোবর হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন হয়। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত পানি পরীক্ষার নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করে। ওয়াসার নিরাপদ পানি সরবরাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং নিরাপদ পানি সরবরাহে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। স্থানীয় সরকার প্রশাসন, স্বাস্থ্য সচিব, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।