ভালবাসা-৭৭ কক্সবাজারে

19

এইতো সেদিন কক্সবাজারে জানুয়ারি ৩ থেকে ৫ পর্যন্ত হোটেল সী-গালে হয়ে গেলো চট্টগ্রাম কলেজের এইচ.এস.সি-৭৭ সালের পরীক্ষার্থীদের এক মহামিলন মেলা।
সেই ৪৩ বছর আগে উচ্চ মাধ্যমিক বছর দুটোর নক্ষত্র সম স্মৃতি নিয়ে বন্ধুরা একে অপরের চেহারায় খুঁজতে লাগলো ফেলে আসা দিনের পুরানো মুখখানি। বয়সের ব্যবধানে একটু বদলেছে বটে তবে চেহারার মূল ছাপ তো রয়ে গেছে। তাই এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে নাম বলায় সাথে সাথে চিনতে মোটেও সময় লাগলো না। একেই তো বলে পুরানো বন্ধুত্বের নবায়ন আর হৃদয়ের মণিকোটায় স্মৃতির ক্যামেরায় নাটকীয় ফ্ল্যাশব্যাক।
বন্ধুরা প্রায় সকলেই এখন সমাজের নামী-দামী ব্যক্তিত্ব আর যারা চাকুরীতে ছিলো তারা অবসরপ্রাপ্ত। তাই এইতো সময় স্মৃতির রোমন্তনের আর সমাজের জন্য কিছু করার।
সেই মানসিকতা থেকে আমাদের বন্ধু সাদ মুসা গ্রæপের মোহসিন এবং এস.এ গ্রæপের শাহাবুদ্দিন আলম ভালবাসা-৭৭ এর মহাপুনর্মিলনীতে অনেক কিছু করেছেন যা বলে শেষ করা যাবে না। বন্ধু মোহসিন তো সাদ মুসা গ্রæপের জি.ই.সি এলাকায় নিজের বসার অফিসটি দিয়েছেন ভালবাসা-৭৭ এর নিয়মিত আড্ডার জন্য। তাছাড়া দেশের ও প্রবাসীর অনেক বন্ধুরাও বিভিন্ন আইটেম স্পন্সর করেছেন শতভাগ আন্তরিকতা দিয়ে।
এবারের মহামিলনে ৩ দিনের আড্ডায় যারপরনাই আনন্দ হয়েছে। মনের মাধুরী মিশিয়ে রেঁনেসা গ্রুপের আমাদের বন্ধু নকীব খান নিজের লেখা এবং আরেক বন্ধু ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুনের লেখা কালজয়ী গানগুলো করেছে। সাথে বাংলাদেশের মান্না দে খ্যাত আমাদের বন্ধু শাহারিয়ার খালেদও গান করেছেন।
অতিথি শিল্পী ছিলেন আকলিমা মুক্তা ও হৈমন্তী রক্ষিত মান।
তবে অনুষ্ঠানে যারা আসতে পারেনি তাদের জন্য অ-দেখা প্রতিটি কার্যক্রমকে দৃশ্যমান করার জন্য প্রতি মূহুর্তে লাইভ ভিডিও এর সু-ব্যবস্থা করে আমাদের আনন্দ কানায় কানায় পূর্ণ করেছে সদা হাস্যোজ্জল বন্ধু নাজমুল আলম চৌধুরী মিয়া।
উল্লেখ্য যে, আমাদের ভালবাসা-৭৭ এর উদ্দেশ্য শুধু আনন্দ ও পরস্পর দেখাদেখি নয়, সাথে থাকবে সমাজের জন্য একটি কল্যাণমুখী চিন্তা অর্থাৎ এই মহামিলনের মাধ্যমে আমরা গঠন করতে চাই একটি কল্যাণ তহবিল যা থেকে চট্টগ্রাম কলেজের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি থেকে শুরু করে প্রয়োজনে চিকিৎসা সহায়তাসহ অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রম চালানো যায়।
আমাদের আশা থাকবে নবগঠিত নির্বাহী কমিটির ইঞ্জিনিয়ার এস.এম.এ হান্নান, ক্যাপ্টেন মাহফুজুল ইসলাম, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হালিম, ডাঃ এস আলমগীর চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওয়াজিউল্লাহ লিটন সকলের সহযোগিতা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে আরোও পুনর্মিলনীর ব্যবস্থা করবে আর প্রস্তাবিত কল্যাণ তহবিলকে প্রসার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
পরিশেষে বলবো পুনর্মিলনীর সবকিছু সময়ের প্রবাহে হারিয়ে যাবে কিন্তু হারাবে না একটি আইটেম তা হলো চমৎকার স্মৃতিকথা ও ছবি নিয়ে স্বরণিকাটি।
কবি ওমর কায়সারের নেতৃত্বে স্বরণিকায় সম্পাদনা পরিষদের আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইয়াকুব সিরাজউদ্দৌল্লাহ ও সার্বিক সহযোগিতাকারী এস.এম. হান্নান, নাজমুল আলম চৌধুরী মিয়া ও ক্যাপ্টেন মাহাফুজুল ইসলাম সকলের জন্য থাকলো অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। জয় হোক ভালবাসা-৭৭ আর উজ্জ্বলতর হোক ভালবাসা-৭৭ এর সেই স্মৃতি নক্ষত্রটি।