ভারি বর্ষণে ঘরছাড়া হাজারো জাপানি, ১ জনের মৃত্যু

34

জাপানের প্রাচীন রাজধানী কিয়োটোর পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বর্ষণের পর কর্তৃপক্ষ এলাকাগুলোর হাজারো বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। তুমুল বৃষ্টিতে এরই মধ্যে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ওই এলাকাগুলোর প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। এবারের ভারি বর্ষণকে ‘ঐতিহাসিক’ অ্যাখ্যা দিয়ে আগামী রোববার পর্যন্ত ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা। “কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন,” জোরালো বাতাস ও সম্ভাব্য ভূমিধস সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন জাপানের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা জেএমএ-র এক কর্মকর্তা। তুমুল বর্ষণের মধ্যে হিয়োগোর পশ্চিমে নর্দমার নালায় আটকা পড়ে ৫৯ বছর বয়সী এক নির্মাণ শ্রমিক মারা গেছেন বলে জানিয়েছে এনএইচকে ন্যাশনাল টেলিভিশন। নিহত শ্রমিককে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুই ব্যক্তির আহত হওয়ারও খবর দিয়েছে তারা।
কিয়োটোর বাইরেও বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে এরই মধ্যে ১৬ হাজার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা কিয়োডো। টেলিভিশনের স¤প্রচারিত ফুটেজে শহরটির কেন্দ্রস্থল দিয়ে প্রবাহিত কেমো নদীর পানি কূল ছাপিয়ে উঠতে দেখা গেছে।
দক্ষিণ দিক থেকে ধেয়ে আসা আর্দ্র বাতাস ও চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের অবশিষ্টাংশের প্রভাবে ভারি এ বর্ষণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত দুইদিনে জাপানের অন্যতম ছোট দ্বীপ শিকোকুর একাংশে ১৮ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কিছু কিছু এলাকায় আরও ১৬ ইঞ্চি পরিমাণ বৃষ্টি হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।