ভারতে মাদার তেরেসা চ্যারিটি থেকে ‘শিশু বিক্রি’

24

ভারতের ঝাড়খন্ডে মাদার তেরেসার মিশনারিজ অব চ্যারিটি থেকে শিশু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ১৪ দিন বয়সী একটি শিশু বিক্রির অভিযোগে এক নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই চ্যারিটির আরো দুই নারী কর্মীকে আটক করা হয়েছে এবং শিশু বিক্রির সম্ভাব্য আরো অভিযোগ নিয়ে তাদেরকে জেরা করা হচ্ছে। ঝাড়খন্ড রাজ্যের শিশু কল্যাণ কমিটি (সি ডবলিউ সি) অভিযোগ জানানোর পরই পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। বিবিসি এ ব্যাপারে মিশনারিজ অব চ্যারিটির প্রতিক্রিয়া জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। ঝাড়খন্ডের এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বিবিসি হিন্দিকে বলেছেন, “ওই কেন্দ্র থেকে এর আগেও অনেক শিশুকে অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।” “বিক্রি হওয়া শিশুদের মায়েদের নামের তালিকা করে আমরা এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করেছি।”
ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচিতে ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’র ওই কেন্দ্র থেকে পুলিশ ১ লাখ ৪০ হাজার রুপিও (প্রায় ২১৫০ মার্কিন ডলার) উদ্ধার করেছে। ভারতে মিশনারিজ অব চ্যারিটির বহু কেন্দ্র আছে। তারা বিয়ে হয়নি অথচ গর্ভবতী হয়ে পড়া নারীদের জন্য অনেক হোম পরিচালনা করে। তবে ভারতে শিশু দত্তক নেওয়ার নতুন আইনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে কেন্দ্রটি তিনবছর আগে শিশু দত্তক দেওয়া বন্ধ করেছে। দত্তক নেওয়ার আইন জটিল হওয়ায় এবং দত্তক নিতে চাওয়া বাবা-মা’র ওয়েটিং লিস্টও লম্বা হওয়ায় ভারতে বহু নিঃসন্তান দম্পতি বেআইনিভাবে শিশু কেনেন। সরকারি এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভারতে ২০১৫-১৬ সালে মাত্র ৩ হাজার ১১ শিশুকে আইনসম্মতভাবে দত্তক নেওয়া হয়েছে। অথচ শিশু দত্তক নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন ১২ হাজার দম্পতি।
ঝাড়খন্ডে সরকারের শিশু কল্যাণ কমিটির চেয়ারপার্সন রূপা কুমারী বিবিসি’কে বলেন, ‘আমরা এখন মাদার তেরেসা কেন্দ্র থেকে উত্তরপ্রদেশের এক দম্পতির কাছে সদ্যোজাত একটি শিশুকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রি করার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।’ ‘তবে ওই দম্পতিকে বলা হয়েছিল, কেন্দ্রের হাসপাতালের খরচের জন্যই ওই অর্থ নেওয়া হয়েছে।’ রূপা কুমারী জানান, গত ১৯ মার্চ চ্যারিটি কেন্দ্রে আসা এক গর্ভবতী তরুণী একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন এবং সেই শিশুকেই ১৪ মে উত্তরপ্রদেশের ওই দম্পতির কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।
এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন শহরে ওই কেন্দ্র থেকে ৫০-৭০ হাজার রুপির বিনিময়ে শিশু বিক্রি করা হয়েছে। শিশু কল্যাণ কমিটি তা জানতে পেরেছে বলে জানান কুমারী। এ ঘটনার পর রাঁচির ওই কেন্দ্র থেকে ১৩ গর্ভবতী নারীকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয় কমিটি।