ভারতে জনসংখ্যা তালিকা হালনাগাদ আট হাজার ৫০০ কোটি রুপি বরাদ্দ

27

জনসংখ্যা তালিকা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার এক বিশেষ বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধীকরণ (এনপিআর) সংক্রান্ত নানা বিষয়াদি পর্যালোচনার পর এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে এ তালিকা হালনাগাদের জন্য আট হাজার ৫০০ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ১১৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ টাকা। ২০২১ সালের আদমশুমারির পাশাপাশি ২০২০ সালের মধ্যে এই জনসংখ্যা তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। ভারতের জনগণনা সংক্রান্ত কমিশন জানিয়েছে, নতুন করে এ তালিকা প্রণয়নের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশের প্রতিটি ‘সাধারণ বাসিন্দার’ বিশদ পরিচয় তথা তথ্য বিবরণী তৈরি করা। ওই তথ্য সংকলনে জনসংখ্যার পাশাপাশি বায়োমেট্রিকের বিশদ বিবরণও থাকবে। আসাম ছাড়া সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ তালিকার খসড়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আসামে তালিকা হালনাগাদের প্রয়োজন নেই। কেননা ইতোমধ্যেই সেখানে ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ শনাক্ত করে খসড়া নাগরিকপঞ্জি তৈরি করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত ওই নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছেন আসামের ১৯ লাখ ৬ হাজার বাসিন্দা।
২০১০ সালে ইউপিএ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে এনপিআর-এর জন্য ডেটা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার মাধ্যমে তথ্য প্রথম আপডেট করা হয় ২০১৫ সালে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপডেট হওয়া তথ্যের ডিজিটালাইজেশনও ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এনপিআর-এ একজন ‘সাধারণ বাসিন্দা’ হিসাবে সেই ব্যক্তিকেই বিবেচনা করা হয় যিনি কমপক্ষে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে কোনও একটি অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বাস করেছেন বা এমন কোনও ব্যক্তি যিনি পরের ছয় মাস বা তারও বেশি সময় কোনও অঞ্চলে বাস করতে চান। ভারতের প্রতিটি ‘সাধারণ বাসিন্দার’ জন্য এনপিআর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তবে স¤প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইন পাসের পর এ নিয়ে বিতর্কের জেরে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধীকরণ (এনপিআর)-এর কাজ করা স্থগিতের ঘোষণা দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।