ভারতকে হুঁশিয়ার করলেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ

18

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের একজন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। দেশটির রাজধানী দিল্লির রেললাইন সংলগ্ন বস্তি থেকে আড়াই লাখ মানুষ উচ্ছেদ করতে ওই আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে পর্যাপ্ত আবাসন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত বালাকৃষ্ণান রাজাগোপাল দিল্লিকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি অনুযায়ী ভারতের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘিত হতে পারে। সোমবার জেনেভার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
গত আগস্টের শেষ দিকে দিল্লির রেললাইন সংলগ্ন ৪৮ হাজার বসতি উচ্ছেদের নির্দেশ দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বসতি স্থাপনকারীদের সরে যেতে তিন মাসের সময়সীমা বেধে দেয় আদালত। পরে দ্বিতীয় আরেক আদেশে উচ্ছেদ আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনে চার সপ্তাহের সময় বেধে দেওয়া হয়। ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালতের দ্বিতীয় দফার ওই আদেশকে স্বাগত জানান জাতিসংঘের বিশেষ দূত বালাকৃষ্ণান রাজাগোপাল। তবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এই বিপুল সংখ্যক বস্তিবাসীর কোনও যৌক্তিক পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ণের জন্য মাত্র চার সপ্তাহ সময় যথেষ্ট হবে না।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, উচ্ছেদের প্রাথমিক আদেশ দেওয়ার আগে আদালত ক্ষতিগ্রস্থ বস্তিবাসীদের কারো সঙ্গে আলোচনা করেনি কিংবা তাদের বক্তব্যও শোনেনি। আর প্রাথমিক আদেশে বিচারকেরা জানান, কেউ উচ্ছেদ আদেশ পাল্টানোর আবেদন আনলে তা অনুমোদন করা উচিত হবে না। জাতিসংঘের বিশেষ দূত বালাকৃষ্ণান রাজাগোপাল বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি রেললাইনের ধারে বসবাসকারী নিম্ন আয়ের মানুষদের ন্যায়বিচার পাবার অধিকারের পুরাদস্তুর প্রত্যাখ্যান।’
তিনি বলেন, ‘এটি যদি বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে ভারত পরিষ্কারভাবে ইন্টারন্যাশনাল কনভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’র ২.৩ ধারা লঙ্ঘন করবে। ওই ধারায় যে মূল মানবাধিকার নীতির কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে কেউ যদি মনে করে তিনি খামখেয়ালি আচরণের শিকার হয়েছেন তাহলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচারিক পরিত্রাণ চাইতে পারবেন।’