ভাবতে হবে প্রকৃতি ও পরিবেশের কথা

56

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি আমাদের যে কিছু দায়িত্ব রয়েছে, তা যেন এই করোনা কালে ভুলে না যাই। শহরে চলতে চলতে আমরা অনেক সময় হতাশ হয়ে যাই, কোথাও তেমন সবুজ নেই। চারপাশ কেমন হাহাকার। ঘরে ফিরেও একই অবস্থা।
আমরাও পৃথিবীর অংশ। আমরা সবুজে থাকতে চাই, কিন্তু গাছ লাগাই না। তাহলে তো হবে না। আমাদের বেঁচে থাকার অক্সিজেন দেয় গাছ। তাই আমাদেরও দায়বদ্ধতা আছে পরিবেশ ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে। এই বিশ্বকে সবুজায়নের মাধ্যমে বাসযোগ্য করে যাওয়া আমাদেরই দায়িত্ব।সবুজে থাকতে চাই
জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই।
প্রকৃতিপ্রেমী ব্যাংক কর্মকর্তা ও লেখক ফখরুল আবেদীন মিলন বলেন, ছোট বেলা আমার বাসায় পুরানো ভাঙা একটা টিনের সুটকেস ছিল। সেই সুটকেসের ডালাটা ফেলে দিয়ে তার ভেতর মাটি দিয়ে ছোট্ট একটা বাগান বানালাম। তিন ফুট বাই দুই ফুটের প্রথম বাগান আমার। সেই ছোট বাগানেই আমি একটা পুঁই গাছ লাগিয়েছিলাম সঙ্গে কসমস, কয়েকটা নাইনও ক্লক আর একটা মরিচ গাছ।
প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে আমি সেই সুটকেসের সামনে বসে থাকতাম আর গাছের যতœ নিতাম, তাদের বেড়ে ওঠা দেখতাম। সেই কয়েকটা গাছ আমার যত্নের প্রতিদান দিত আমাকে অক্সিজেন দিয়ে। আজ এত বছর পর আমার সেই তিন ফুট বাই দুই ফুট বাগান এখন প্রায় ৪০০০ স্কয়ার ফুটের ছাদ বাগান। প্রায় ৪০০ টব আর কেরেটে লাগানো হাজারখানেক গাছ। তারা এখন শুধু আমাকেই অক্সিজেন দেয় না।
আমার পুরো পরিবারকে দেয়, আমার পাড়া প্রতিবেশিদের দেয়, আমার শহরের মানুষদের দেয়।
আমরাও চাইলেই নিজের কর্মস্থল ও বাড়িতে গাছ লাগাতে পারি। বনজ, ফলজ, ভেষজ গাছ লাগাবেন। শিশুদেরও বৃক্ষরোপণ শেখাতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, পরিচর্যাও করতে হবে।
সামনে বর্ষাকাল আসছে, আসুন গাছ লাগাই। আমরা যারা শহরে থাকি তারা গাছ লাগানোর জন্য জায়গাই খুঁজে পাই না। বাসার ভেতরে, বারান্দায়, ছাদে, সিড়িতে বা যে কোনো জায়গায় টবে গাছ লাগান। জানালায়ও রাখতে পারেন ছোট সুন্দর গাছ। এই ছোট টবের গাছগুলো হয়তো আপনাকে বট গাছের মতো ছায়া দেবে না।
কিন্তু নিজের লাগানো গাছের সবুজ কচি দু’টি পাতার দিকে তাকিয়ে অপার ভালোলাগায় আপনার মন ভরে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।