ভাগ্যের জোরে বেঁচে ফিরলেন রাহুল গান্ধী

24

বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারণার কাজে দিল্লি থেকে কর্নাটকের হুবলি যাওয়ার পথে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছেন ভারতের অন্যতম রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী। এ ঘটনার পর ফোন করে রাহুলের খোঁজ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সকালে দিল্লি থেকে কর্নাটকের হুবলি বিমানবন্দের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় রাহুলকে বহনকারী ছোট ফ্যালকন জেট বিমান। হুবলি বিমানবন্দরে অবতরণের কিছুক্ষণ আগে বিমানে দেখা দেয় সমস্যা। হঠাৎ করে বাম দিকে ঝুকে গিয়ে চার-পাঁচশো ফুট নিচে নেমে আসে। এসময় অটো পাইলট সিস্টেমও অকেজো হয়ে যায়। এসময় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও তিন বারের চেষ্টায় অবশেষে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।
অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিমান বিভ্রাটের এ ঘটনায় ভারতজুড়ে আলোচনা চলছে। এই গোলযোগ পরিকল্পিত কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস জানিয়েছে, ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। আর রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেস সভাপতি ছাড়াও বিমানটিতে আরও চার ব্যক্তি ছিলেন। ডিজিসিএ জানিয়েছে, অটো-পাইলট ব্যবস্থায় সমস্যা হওয়ায় ম্যানুয়াল মোডে বিমানটি অবতরণ করিয়েছেন পাইলট।
এই ধরনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তবে ডিজিসিএ এর এই কথায় সন্তুষ্ট নয় কংগ্রেস। দলটির মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, এসপিজি-র নিরাপত্তা পাওয়া কোনও ব্যক্তির উড়ানের আগে পাইলট এবং বিমান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়া হয় ডিজিসিএ এবং এসপিজি-র কাছে। তারা ছাড়পত্র দিলেই উড়ান পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।
আমাদের আশা, কর্নাটক পুলিশ এবং ডিজিসিএ-র ডিজিরা তদন্ত করে জানাবেন, এই ঘটনায় কোনও ব্যক্তির হাত ছিল কি না। সুরজেওয়ালা জানিয়েছেন, জোরালো একটা শব্দের পরে অটো পাইলট বিকল হয়ে নীচে পড়তে থাকে রাহুলের বিমান। ২-৩ মিনিটের জন্য রাডার থেকেও মুছে গিয়েছিল সেটি।
কর্নাটকের ডিজি ও আইজির কাছে লিখিত অভিযোগে রাহুলের সহযোগী কৌশল বিদ্যার্থী বলেছেন, এমন কোনও প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, যার ব্যাখ্যা মেলেনি। কৌশল জানিয়েছেন, সকলের প্রাণ যেতে বসেছিল। কিন্তু রাহুল আগাগোড়া ধৈর্য রেখে পাইলটের পাশে ছিলেন, যাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। কংগ্রেসের এক নেতার জানিয়েছেন, এর আগে গাঁধী পরিবারে এ ভাবে প্রাণ গিয়েছে। রাহুলের প্রাণনাশের কোনও চেষ্টা হয়েছিল কি না, তার যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে স্পর্শকাতর বলে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।