বয়ঃসন্ধিকালে বদ্ধ আবেগের ক্ষতিকর দিক

18

যারা নিজের আবেগ ও মানসিক চাপ মনে চেপে রাখেন তাদের স্বাস্থ্যের ভয়ানক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা থেকে পরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল করে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ পেনসালভানিয়ার করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে-মেয়েরা তাদের মানসিক চাপকে মোকাবেলা করে কয়েকভাবে। মানসিক চাপের কারণটাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা, মনের মধ্যে দাবিয়ে রাখা এবং ভাবলেশহীন থাকা-পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই পদ্ধতিগুলোর ব্যবহার শরীরের বিপাকপক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে কি না সেটাই পর্যবেক্ষণ করা হয়।
দেখা যায়, যারা আবেগকে দমিয়ে রাখে তাদের রোগ বেশি হয়। এমন অংশগ্রহণকারীদের রোগ প্রতিরোধকারী কোষ পরীক্ষাগারে নিয়ে সেগুলোকে ভাইরাসের সংস্পর্শে এনে এই সিদ্ধান্তে আসেন গবেষকরা। এমনকি এসময় প্রদাহরোধক সংকেতের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
অপরদিকে, যারা ‘কগনিটিভ রি-অ্যাপ্রেইজাল’ অর্থাৎ মানসিক চাপের কারণগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার চেষ্টা করে তাদের বিপাকক্রিয়া তুলনামূলক ভালো, যার মানদন্ড ছিল রক্তচাপ, কোমর এবং নিতম্বের অনুপাত।
পেন স্টেট’য়ের বায়োবিহেভেইরাল হেল্থ বিভাগের স্নাতকের শিক্ষার্থী এমিলি জোন্স বলেন, ‘মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা একজন ব্যক্তির জন্য উপকারী হতে পারে। এই ধারণাকেই সমর্থন জানায় আমাদের গবেষণার ফলাফল।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতির তীবৃতা মৃদু হলে সেই পরিস্থিতিকে একটি উন্নয়নের সুযোগ বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়াও কাজে আসতে পারে।’
‘সাইকোসোমেটিক মেডিসিন’ নামক জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। যেসব কিশোর-কিশোরী মানসিক চাপযুক্ত পরিবেশে বাস করে তাদের চিকিৎসায় থেরাপিস্ট কিংবা কাউন্সেলরদের সাহায্য করবে এই গবেষণা। গবেষণায় ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সি ২৬১ জনের একটি দল নিয়ে কাজ করেন গবেষকরা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হানাহ সিরেইয়ার বলেন, ‘এভাবে যদি কিশোর-কিশোরীরা তাদের বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পথ খুঁজে পায় তবে ভবিষ্যতে সেটা তাদের অনেক উপকারে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের সমস্যাগুলো মানুষকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত করে ঠিক। তবে কয়েক বছর ধরে সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকাটাই ক্ষতির কারণ। বিপাকক্রিয়া কিংবা প্রদাহরোধের ক্ষমতায় সামান্য পরিবর্তন হয়ত ভবিষ্যতে দুরারোগ্য ব্যধির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।’