বড় প্রকল্পে দুর্নীতি সরকারের ‘সাড়া পাচ্ছে না’ দুদক

পূর্বদেশ ডেস্ক

19

বড় প্রকল্পে দুর্নীতি ঠেকাতে দুর্নীতি দমন কমিশন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে চাইলেও সরকারের তরফ থেকে সাড়া মেলে না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকা এ সংস্থার চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, “আমরা সরকারকে বলেছিলাম, বড় বড় প্রোজেক্টে যদি উনারা মনে করেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের সাহায্য দরকারৃ কেবিনেট ডিভিশনেও আমরা বলেছি…. তো, আমরা আসলে এমন কোনো রেসপন্স পাইনি।”
গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান। খবর বিডিনিউজের।
তিনি বলেন, সরকারের সাড়া পাওয়া না গেলেও তিনি হতাশ নন। বড় প্রকল্পের দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক স্ব-প্রণোদিত হয়েই কাজ করছে।
“দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়টা চলমান। সরকার চেষ্টা করছে, কেবিনেট ডিভিশনে বলা হয়েছে মাত্র, যাতে দুর্নীতি হওয়ার আগেই দুর্নীতি বন্ধ ও প্রতিরোধ করা যায়। এটা বুঝতেও সময় লাগে।”
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ক্রয়-প্রক্রিয়া, জনবল নিয়োগ, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের যেসব ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে অনিয়মের পথ বন্ধের বিষয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে ২০১৬ সালের গত ৩১ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে একটি ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) পাঠায় দুদক।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণার বরাত দিয়ে ওই চিঠিতে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হলে প্রতিবছর দেশের জিডিপি প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সে সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, দুদকের অনুরোধ পাওয়ার পর সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠিয়ে ‘দুর্নীতির ধূসর এলাকা’ শনাক্ত করে সেগুলো দুর্নীতি দমন কর্মসূচির আওতায় আনতে সচিবদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তবে সেই কাজে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তার কোনো হালনাগাদ তথ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি। বেসরকারি খাতের ব্যাংকে দুর্নীতি বেড়েছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “না, এ কথাটা ঠিক না। কেলেঙ্কারি বাড়ছে না, বরং ব্যাংকিং খাতে কেলেঙ্কারি কমছে। আমার ধারণা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন শুরু হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে। ব্যাংকের বোর্ডগুলো ভালভাবে কাজ করছে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। কারণ এই খাতে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।”
দুর্নীতির সম্পদ স্ত্রীর নামে দেখানোর যে প্রবণতা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন ইকবাল মাহমুদ।
তিনি বলেন, “আমরা ইদানিং দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি, প্রায় ১০টি মামলায় মূলত যাদের আসামি হওয়ার কথা, সেখানে তাদের স্ত্রীরাও আসামি হয়ে যাচ্ছেন। এটি একটি সামাজিক সমস্যা বলে মনে হচ্ছে। স্ত্রীদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলছেন, তারা কিছুই জানেন না।”
এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে দুদক এ বছর কাজ করবে বলে জানিছেন ইকবাল মাহমুদ। পাশাপাশি প্রকৌশল খাতের দুর্নীতি প্রতিরোধেও জোর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
“সরকারি টেন্ডার ও ক্রয়-বিক্রিয়ে যাতে অনিয়ম না হয় সেজন্য প্রকৌশলীদের সাথে সভা করে বলা হবে, সরকারি অর্থ যাতে অপচয় না হয়, সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারের বাজেটের সিংহ ভাগই যায় প্রকৌশলীদের মাধ্যমে।”
আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের সঠিক হিসাব নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপন করার আহŸান জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তারা হলফনামায় সম্পদের হিসাব সঠিকভাবে দেবেন, সেটাই আমরা চাই। ইতোমধ্যে দু-একজন সংসদ সদস্যের ব্যাপারে আমরা ইলেকশন কমিশনে লিখেছি, তাদের সম্পদ বিবরণী সঠিক নয়। যারা জনগণের প্রতিনিধি হবেন, জনগণ জানুক- তারা সঠিকভাবে নির্বাচন কমিশনে সম্পদের সঠিক হিসাব দিয়েছেন।”