ব্রেক্সিট সফল হচ্ছে : নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

16

ব্রেক্সিট নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েই বরিস জনসন ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, আমরা দেশকে শক্তি দিতে যাচ্ছি। একইসঙ্গে ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া) চুক্তি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। ব্রেক্সিক; যে চুক্তির জঞ্জাল বা ব্যর্থতা নিয়ে কি-না টেরিজা মে’র পদত্যাগ করতে হয়েছিল, তীব্র সংকটে কাটাতে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রিত্ব, এবার সেই ‘গলার কাঁটা’ সরাতে সফল পদক্ষেপ আসছে বললেন নবাগত প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এই ‘নিউ ট্রয় লিডার’ বলেন, একটি নতুন কর্মশক্তিতে চলতে পারে এবার দেশ। মঙ্গলবার প্রায় দুইমাসের ভোট আনুষ্ঠানিতা শেষে বরিস জনসন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে টপকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও দপ্তর ‘১০ ডাউনিং স্ট্রিট’ নিজের দখলে নিয়ে নেন এই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।
গত ০৭ জুন ব্রেক্সিট চুক্তিতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে নিজেদের দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছিলেন প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করে আসা প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিট নিয়ে নিজের নতুন কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিসভা এবং পার্লামেন্টে পাস হবে না চূড়ান্তভাবে জেনেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। দেশটির মন্ত্রিসভা এবং পার্লামেন্টে অন্তত কয়েকবছর ধরে ব্রেক্সিট নিয়ে বিতর্ক চলছিল। টেরিজা মে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে চাইলেও তার মন্ত্রিসভা এবং পার্লামেন্ট সেটার অনুমোদন দেয়নি। তবে দলের আরেক নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বুধবার তিনি সে দায়িত্বও ছাড়বেন। এতো জঞ্জালের পরও বেক্সিট বাস্তবায়নে পুরো আত্মনির্ভরশীল জনসন। অবশ্য ‘যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে’ তিনি এই ‘গলার কাঁটা’ সরাতেও পারেন। কেননা ব্রিটেনের জনপ্রিয়, চমকপ্রদ এবং সুপরিচিত একজন ব্যক্তিত্ব বরিস জনসন। তিনি একসময় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। একইসঙ্গে লন্ডনের সফল মেয়রও ছিলেন। এদিকে, সোমবার বিকেল পর্যন্ত জেরেমি হান্ট ও বরিস জনসন- এ দুই প্রতিদ্ব›দ্বীর মধ্যে একজনকে জয়ী করতে ভোট দেন যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নিবন্ধিত সমর্থকরা। এর মধ্যে ৯২ হাজার ১৫৩ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বরিস জনসন।

আর ৪৫ হাজার ৫৯৭ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন ব্রিটেনের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৬টি। এ নির্বাচনে ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে কনজারভেটিভ পার্টির বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জনসন ব্রিটেন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। একইসঙ্গে এ দিন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র দেবেন টেরিজা মে। নতুন প্রধানমন্ত্রীও রানির সঙ্গে দেখা করবেন এবং এরপর তিনিও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রথম বক্তব্য দেবেন।