সিজেকেএস ইস্পাহানী প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ

ব্রাদার্সের তৃতীয় হার : শিরোপার পথেই এগুচ্ছে এফএমসি ও সিটি কর্পোরেশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

20

তিন ম্যাচে হেরে সিজেকেএস ইস্পাহানী প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের শিরোপা দৌড় থেকে আরো আরো দুরে সরে গেল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। অপরদিকে হাই ভোল্টেজ এক ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়ে নিজেদের শিরোপা দৌড়ে বেশ ভালভাবেই রাখল এফএমসি স্পোর্টস।
গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এফএমসি স্পোর্টস ৪৬ রানে হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে। দিনের আরেক ম্যাচে শিরোপাধারী আবাহনীকে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা দৌড়ে নিজেদেরকে ধরে রাখল সিটি কর্পোরেশন একাদশও। গতকাল জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সিটি কর্পোরেশন একাদশ ৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে। টানা দুই ম্যাচে জেতার পর আবার হারের মুখে পড়ল আবাহনী।
গতকতাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নামে এফএমসি। এফএমসি স্পোর্টস। দলের কাতায় মাত্র ৭ রান যোগ হতেই উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলে ফিরোজ মাহমুদ এবং মাহবুবুল করিম। ১২১ রান যোগ করেন এ দুজন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে। ফিরোজ ফিরেছেন ৮৬ বলে ৬১ রান করে আর মাহবুবুল ফিরেছেন ৯১ বলে ৫২ রান করে। চতুর্থ উইকেটে এবার ইমরুল করিম এবং মোহাইমিন মিলে যোগ করেন ৫৮ রান। তবে মাত্র এক রানের জণ্য হাফ সেঞ্চুরি মিস করে ফিরেন ইমরুল। শেষ পর্যন্ত এফএমসি সংগ্রহ করে ২৬১ রান। দলের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে মোহাইমিন ১৯, রায়হান ২৫ এবং রাকিবুল করেন ২৪ রান।
ব্রাদার্স ইউনিয়নের পক্ষে ৩টি উইকেট নিয়েছেন তন্ময় পাটোয়ারী দিপ্ত। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ওয়াহিদুল আলম এবং ওমর ফরহাদ।
২৬২ রানের বড় স্কোর তাড়া করতে নেমে শুরু তেকেই উইকট হারাতে থাকে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। দলের কোটার তিনজন ক্রিকেটার মিলে করেছেন ৩৪ রান। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা আবু নেওয়াজ লিখন এবং শেষ দিকে মামুন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ফলে ৪৫.১ ওভারে ২১৫ রান করে অল আউট হয় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন লিখন। অন্যান্যের মধ্যে সাদিকুর ২৮, তৌফিক ৩১, মামুন ৪৫ এবং ওবায়দুল্লাহ করেন ৩১ রান। এফএমসি স্পোর্টসের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন রতন দাশ এবং ইমরুল করিম। ২টি উইকেট নিয়েছেন সাইফুল।
এদিকে জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল করতে পারেনি সিটি কর্পোরেশন একাদশ। তবে দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন রবিউল ইসলাম। মুলত তারই সেঞ্চুরির উপর ভর করে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে সিটি কর্পোরেশন একাদশ। রবিউল ছাড়া বাকি কেউ তেমন উল্লেখ কতরার মত স্কোর গড়তে পারেনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান করেছেন নাজিম উদ্দিন। রবিউলের ১৩০ বলে করা ১০০ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৮টি চার এবং একটি ছক্কার সাহায্যে। এছাড়া আশরাফুল ১৪, কপিল ১৬, নাজিম ২৮, আশিকুল ২০ এবং ইনজামাম করেন ১৬ রান। আবাহনীর পক্ষে ৩টি উইকেট নিয়েছেন ইফাদ। ২টি উইকেট নিয়েছেন আবুল হোসেন। ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৪৯ রান তুলে নিয়েছিল মিরাজ এবং জুয়েল। এরপর মিরাজ একপ্রান্ত ধরে রেখে লড়াই করে গেলেও অপর প্রান্তে তাকে কেউ তেমন সঙ্গ দিতে পারেনি। ফলে ৪২.১ ওভারে ১৭৪ রান করে অল আউট হয় আবাহনী। দলের পক্ষে মিরাজ ৯১ বলে করেন ৭৩ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে আবিরের ব্যাট থেকে। এছাড়া জুয়েল ১৩ এবং মহিউদ্দিন ১৩ ছাড়া বাকি কেউ দুই অংকের কোটা স্পর্শ করতে পারেনি। সিটি কর্পোরেশন একাদশের পক্ষে মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে আবাহনীর পরাজয় তরান্বিত করেন আশিকুল আলম। এছাড়া ২টি উইকেট নিয়েছেন সাজ্জাদ।