ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ক্লাসিকো কাল

পূর্বদেশ স্পোর্টস ডেস্ক

25

বেলো হরিজন্তের মিনেইরো স্টেডিয়ামে দুই রকম স্মৃতিই আছে ব্রাজিলের। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে উড়ে যাওয়ার সেই দুঃসহ স্মৃতি। ২০১৬ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পাওয়া ৩-০ গোলের জয়ের তৃপ্তি। এই মাঠে আবার চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার চিয়াগো সিলভা জানালেন, ভরাডুবি নয়, ইতিবাচক প্রাপ্তি নিয়ে ভাবছেন তারা। বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় কোপা আমেরিকার সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে লাতিন আমেরিকার ফুটবলের দুই পরাশক্তি।
১৯৫০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ম্যাচে রিও দে জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে প্রথম বিশ্বকাপ জিততে না পারাটা ব্রাজিলের ফুটবলে মারাকানাজো নামে পরিচিত। মিনেইরোতে জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হওয়াটা ছিল আরও বেদনাদায়ক।
পিএসজির ডিফেন্ডার সিলভা জানালেন তারা কোনো কিছু ভোলেননি। তবে পড়ে থাকতে চান না অতীত নিয়ে। “দলের কেউ স্মৃতি হারায়নি; কি ঘটেছিল সেটাও তারা ভুলবে না। কিন্তু এটাই জীবন। অতীতের বাজে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা পড়ে থাকতে পারি না। ভালো বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে আমাদের।”
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ব্রাজিলের পাওয়া জয়টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে। বড় কোনো টুর্নামেন্টের হিসেবে জার্মানির কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর প্রথম এ মাঠে খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দুঃসহ সেই স্মৃতি ফিরে আসার শঙ্কা তাই থাকবে। সিলভা অবশ্য ইতিবাচক থাকতে চান।
“এখানে আমরা শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভালো খেলেছিলাম এবং সেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামনের ম্যাচে দলের সবার মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।” আর্জেন্টিনার তারকা ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি কোপা আমেরিকায় এখনও নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। চার ম্যাচে করেছেন মাত্র ১ গোল। সেটিও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে। তবে মেসির সামর্থ্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই সিলভার। চার কোয়ার্টার-ফাইনালের তিনটিতে নির্ধারিত সময়ে গোল পায়নি কোনো দল। টাইব্রেকারে হয়েছে নিষ্পত্তি। একমাত্র দল হিসেবে নির্ধারিত সময়ে গোল করে সেমি-ফাইনালে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। মুখোমুখি লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার (৩৮টি জয়) চেয়ে এগিয়ে ব্রাজিল (৪১টি)। বাকি ২৬ ম্যাচ ড্র। দুই দলের ১০৬তম ক্লাসিকোতে নিজেদের এগিয়ে রেখে সিলভা দিলেন জমজমাট লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি।
“নিষ্ঠা, প্রবল ইচ্ছা, দায়িত্ববোধ এগুলোর প্রত্যাশা আপনি করতে পারেন। কিন্তু পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের আনন্দদায়ী ফুটবল একটা দারুণ ম্যাচ নিশ্চিত করে। সমর্থকরা দারুণ একটি ফুটবল প্রদর্শনী দেখবে।”