ব্রাজিলে এক বছরে ৪২ হাজার হেক্টর বন উজাড়

19

ব্রাজিলের অ্যামাজন বন বিগত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উজাড় হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে পাওয়া নতুন এক গবেষণায় দেখা যায় ২০০৮ সালের পর থেকে আর কোনও বছর এত বনাঞ্চল ধ্বংস হয়নি সেখানে। সম্প্রতি ব্রাজিলের মহাকাশ সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্স (আইএনপিই) জানিয়েছিল, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত উজাড় হয়েছে ১০ হাজার ১০০ বর্গ কিলোমিটার বনাঞ্চল। কিন্তু আদতে এই সংখ্যা আরও বেশি। এই সময়ে ৪২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল উজার হয়েছে।
চলতি বছর আগস্টে আইএনপিই জানায় প্রতিদিন রেকর্ড গতিতে পুড়ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ খ্যাত অ্যামাজন জঙ্গল। পরিবেশবাদীরা বলছেন,অ্যামাজনকে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি নীতির কারণেই আগুন লাগানোর মহোৎসব শুরু হয়। দেশটির বাণিজ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর আমলে এই বনাঞ্চল ধ্বংসের গতি বেড়েছে। তবে ওই সময়ে আইএনপিই’র পরিসংখ্যানের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রেসিডেন্ট বলসোনারো।
নতুন গবেষণা অনুযায়ী, ভূমিদস্যু ও অবৈধ কাঠুরেই এই বন উজারের প্রধান নিয়ামক। অথচ আদিবাসী অঞ্চলে এই বনাঞ্চল আইন করে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েচে। আইএসএ গবেষক অ্যান্থনিও ওভিদো বলেন, আদিবাসী ভূমিগুলো এই বন উজারেরবড় বাধা। কিন্তু সম্প্রতি সুরক্ষিত এই অঞ্চলেও বন উজারের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ১২ হাজার ২৮৭ বর্গ কিলোমিটার উজার হয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আর ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই উজারের পরিমাণ ছিলো ৭ হাজার ৩৩ বর্গ কিলোমিটার। এর আগের হিসেবে দেখা যায়, এ বছরের প্রথম আট মাসে আগের বছরের চেয়ে দ্বিগুণ হারে বন উজার হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট থেকে জ্বলছে ‘দুনিয়ার ফুসফুস’ খ্যাত ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে এবারের আগুন সবচেয়ে ভয়াবহ। আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী ও বাণিজ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর নীতিকে দায়ী করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বন পুড়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নীতির জন্য নিজ দেশের পরিবেশবাদীদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।