মিরসরাই অর্থনৈতিক জোন সংযোগ সড়ক

ব্যয় বেড়েছে ১৮ কোটি সময় বাড়ছে এক বছর

ইকবাল হোসেন

17

প্রায় ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মিরসরাই অর্থনৈতিক জোন সংযোগ সড়কের কাজ এগিয়েছে চল্লিশ শতাংশের বেশি। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ১৮ কোটি টাকা, আর সময় বেড়েছে এক বছর। বর্ধিত সময় অনুযায়ী, আগামী ২০২০ সালের জুনের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশা করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
জানা গেছে, বাস্তবায়নাধীন মিরসরাই অর্থনৈতিক জোনের শিল্প-কারখানাগুলোতে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানী এবং কাঁচামাল আনতে সময় ও ব্যয়সংকোচন করার লক্ষ্যে নতুন চার লেইন সড়ক নির্মাণের পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বেজার পরামর্শে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বড়তাকিয়া থেকে মিরসরাই অর্থনৈতিক জোন পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্প ব্যয় ১২৩ কোটি টাকা ধরা হলেও অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে ১৪১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৬ সালে মে মাস থেকে ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানান জটিলতার কারণে আরো এক বছর সময় বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগ।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আবু তোরাব থেকে অর্থনৈতিক জোনে যাতায়াত নির্বিঘœ করতে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের পুরোনো ৭ কিলোমিটার সড়ক নতুন করে উন্নয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আবুতোরাব থেকে মিরসরাই অর্থনৈতিক জোন পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়ক নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্মিতব্য সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে
সড়ক ও জনপদ বিভাগ। প্রকল্পে চার লেইনের সড়ক করার কথা থাকলেও প্রাথমিক পর্যায়ে দুই লেইন রাস্তা নির্মাণ করা হবে। পুরো প্রকল্পে নতুন করে ১৮ কালভার্ট, এক কিলোমিটার ড্রেনও নির্মাণ করা হবে। সড়কটি নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে যাতায়াত সহজতর হবে।
সওজ চট্টগ্রাম ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমরা আবু তোরাব অর্থনৈতিক জোন পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছি। বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরোনো ৭ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন শেষ হয়েছে। নতুন করে ৩ কিলোমিটার সড়কের জন্য অধিগ্রহণ পরবর্তী জমির মালিকানা পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে ১২৩ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি টাকায়। পুরো কাজটি আগামী জুনের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও আরো একবছর সময় বাড়ানোর জন্য আমরা সুপারিশ করেছি। তবে ওই সময়ের আগেই আমরা কাজ শেষ করতে পারবো।’