ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন গ্রেপ্তার

পূর্বদেশ ডেস্ক

13

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তির এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। গতকাল সোমবার রাত ১০ টার দিকে ঢাকার উত্তরায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম রবের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম। তিনি বলেন, ‘রংপুরের একটি মানহানি মামলায় তার (মইনুল) বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট (গ্রেপ্তারি পরোয়ানা) ছিল। সেই ওয়ারেন্টেই উত্তরায় আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ডিবি অফিসে নেওয়া হয়’।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কামাল হোসেনের উদ্যোগে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সক্রিয় আছেন ব্যরিস্টার মইনুল। রবসহ ফ্রন্টের বিভিন্ন নেতার বাড়িতে বৈঠকে তার নিয়মিত যাতায়াত। সম্প্রতি এক টেলিভিশন আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলার পর থেকে সমালোচনার মুখে রয়েছেন মইনুল। এক পর্যায়ে তিনি টেলিফোন করে ক্ষমা চাইলেও মাসুদা ভাট্টি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান। তা না করায় মইনুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন মাসুদা ভাট্টি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানেও মানহানির অভিযোগে কয়েকটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। খবর বিডিনিউজের এসব মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর মইনুল কয়েকটি মামলায় হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন নিলেও রংপুরেরটিতে জামিন ছিল না বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান। রংপুরের মামলাটি হয় সোমবার বিকালে; মানহানির অভিযোগে মামলাটি করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেত্রী মিলি মায়া। অতিরিক্ত মূখ্য বিচারিক হাকিম আদালত মামলাটি গ্রহণ করে মইনুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনেও মইনুলের কটূক্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। তখন শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আপনারা প্রতিবাদ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করার করবে। আপনারা মামলা করেন, আমরা যা করার করব’। এরপর সন্ধ্যায় পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়। ওই সময়ই উত্তরায় রবের বাড়িতে গিয়েছিলেন মইনুল।
রাতে মইনুলের মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তা ধরেন তার ব্যক্তিগত সচিব রাজু আহমেদ। রাজু বলেন, ‘সন্ধ্যার পর আ স ম রব সাহেবের বাসায় স্যার দেখা করতে যান। তখন রব সাহেব ছিলেন না। ১৫ মিনিট পর রব সাহেব আসেন বাসায়। তার কিছুক্ষণ পরই পুলিশ পুরো বাসা ঘিরে ফেলে। তারা বলে, মইনুল স্যারের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। রব সাহেব পুলিশকে বলেন, ‘উনি বাসায় এসেছেন, একটু চা খেয়ে প্রয়োজনে আপনাদের সাথে চলে যাবেন’। কিন্তু পুলিশ প্রচন্ড খারাপ আচরণ করে তর্ক-বিতর্ক করে তাকে গাড়িতে করে ডিবি অফিস নিয়ে যায়’।
জরুরি অবস্থার সময় মইনুল যখন সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন, তখন দুই প্রধান নেত্রী শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়াসহ অনেক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে মইনুলের ভাই আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বর্তমান সরকারে পানিসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তবে তাদের দুই ভাইয়ের বৈরী সম্পর্কের বিষয়টি আলোচিত।
মইনুল ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ও প্রকাশক। একাত্তরে মইনুল পাকিস্তানি বাহিনীর ‘দালালি’ করেছেন বলে সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে জানান শেখ হাসিনা। একাত্তরে শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের হত্যাকান্ডের জন্যও মইনুলকে দায়ী করেন শেখ হাসিনা।